মাতৃত্বের পর নতুন করে কাজে ফেরার আনন্দের পাশাপাশি কঠিন এক মানসিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়াকে।
সন্তানকে বাড়িতে রেখে প্রথমবার শুটিংয়ের কাজে মুম্বাই যাওয়ার সময় নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। পুরো বিমানযাত্রা কেটেছে কান্নায়।
সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এর প্রচার-ঝলক প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান পরিণীতি।
পরিণীতি বলেন, সন্তান জন্মের পর কয়েক মাস তিনি প্রায় সারাক্ষণ ছেলের সঙ্গেই ছিলেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সন্তানের সঙ্গে থাকার পর হঠাৎ তাকে বাড়িতে রেখে কাজে যাওয়ার বিষয়টি তার জন্য খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
পরিণীতির ভাষায়, মুম্বাই যাওয়ার সেই যাত্রার বেশির ভাগ ঘটনাই তার মনে নেই। বিমানবন্দরে কীভাবে পৌঁছেছেন, কখন বিমানে উঠেছেন কিংবা কখন মুম্বাইয়ে নেমেছেন- কিছুই মনে করতে পারেন না। শুধু মনে আছে, প্রায় তিন ঘণ্টার পুরো বিমানযাত্রায় তিনি কেঁদেছেন।
এই অনুভূতিকে শুধু ‘মম গিল্ট’ হিসেবে দেখতেও রাজি নন পরিণীতি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল, আমি আর কোনো দিন কাজ করতে পারব না। আর কোনো কিছুই করতে পারব না। এটা অপরাধবোধ নয়। সন্তানকে ছেড়ে যাওয়ার সময় যে যন্ত্রণা হয়, সেটা শারীরিক যন্ত্রণার মতো।’
তবে ছেলেকে নিয়ে বাস্তব কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না বলেও স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী। সন্তান পরিবারের কাছেই ছিল এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘিরে ছিলেন। নিরাপত্তা নিয়েও কোনো সমস্যা ছিল না। বরং কাজে ফেরার বিষয়ে পরিবার থেকেই সমর্থন পেয়েছেন তিনি।
তারপরও সন্তানকে ছেড়ে যাওয়ার মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়নি পরিণীতির জন্য। তিনি জানান, সন্তান ভালো আছে, পরিবারও স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু সামলাচ্ছে- এসব জানার পরও মায়ের ভেতরের অপরাধবোধ ও বিচ্ছেদের কষ্ট থেকে নিজেকে দূরে রাখা কঠিন।
রাজনীতিবিদ রাঘব চাড্ডার সঙ্গে বিয়ের পর অভিনয়ের ব্যস্ততা কমিয়ে দিয়েছিলেন পরিণীতি। এরপর মাতৃত্বের কারণে আরও দীর্ঘ বিরতি নেন। এবার ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’ দিয়ে প্রায় চার বছর পর অভিনয়ে ফিরছেন তিনি।
কাজে ফেরার এই অধ্যায় তাই শুধু ক্যারিয়ারে প্রত্যাবর্তনের গল্প নয়, বরং সন্তান ও পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির ব্যক্তিগত লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাও হয়ে উঠেছে পরিণীতির জন্য।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম