চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ক্লিনিক পরিচালনা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিজারিয়ান অপারেশন করার অপরাধে লোকমান হোসেন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক লুৎফর হোসেনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার আলমডাঙ্গা পৌর শহরে অবস্থিত ওই ক্লিনিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এই দণ্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মন্ডল এই রায় ঘোষণা করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, লোকমান হোসেন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সরকারি বিধি মোতাবেক ক্লিনিক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও নার্স ছিল না। পাশাপাশি ক্লিনিকের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং ক্লিনিক পরিচালনার জন্য কোনো বৈধ সরকারি লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্রও ছিল না।
এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে ক্লিনিক মালিক লুৎফর হোসেন অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে ক্লিনিকের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা অমান্য করে শনিবার কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার সারদার চর গ্রামের রবি হোসেনের স্ত্রী সনিয়া খাতুনের (২৮) সিজারিয়ান অপারেশন করান ক্লিনিক মালিক লুৎফর হোসেন নিজেই।
অপারেশনের পর প্রসূতি সনিয়ার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তবে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও চিকিৎসার ত্রুটিতে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মন্ডল পূর্বের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে বলেন, যতক্ষণ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বৈধ লাইসেন্স এবং পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততক্ষণ এই ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা কোনো অবৈধ ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম