সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : রাজনীতি

জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদককে ‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ: নেপথ্যে বেসিস নির্বাচন?

বিতর্কিত ছবি ফরেনসিক পরীক্ষায় মিলেছে পরবর্তীতে গ্রাফিক যুক্ত করার প্রমাণ; দুই দফা নির্বাচনী তফসিল বাতিলের পর সহায়ক কমিটি গঠন, ছয় দিনের মাথায় সেটির কার্যক্রমও স্থগিত

DhakaReport24.com || 2026-10-04
জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদককে ‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ: নেপথ্যে বেসিস নির্বাচন?

দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস—বেসিসের নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্থিরতা এবার গড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিচয়কেন্দ্রিক বিতর্কে।

জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের (NICTF) সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বেসিসের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জি. মোহাম্মদ জুয়েলকে ‘আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট’ হিসেবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক ইলিয়াস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী রূপম রাজ্জাকসহ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে জুয়েলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে বিতর্কটি শুধু কয়েকটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে নয়। ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর পেছনে রয়েছে বেসিসের নির্বাচন, ভোটার তালিকা, সহায়ক কমিটি গঠন এবং কে বা কারা নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখবেন—তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ।

সবশেষে সেই বিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ২২ সেপ্টেম্বর গঠিত বেসিসের নতুন সহায়ক কমিটির কার্যক্রম মাত্র ছয় দিনের মাথায় ২৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্থগিত করে দেয়। সরকারি আদেশে বলা হয়, ২২ সেপ্টেম্বরের বেসিস স্মারকের মাধ্যমে গঠিত সহায়ক কমিটির কার্যক্রম নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো।  

প্রকাশিত সংবাদেও দেখা যায়, কমিটি গঠনের পরপরই এর সদস্য নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছিল এবং জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম কমিটি বাতিলের আবেদন করেছিল।  

বিতর্কের সূত্রপাত সহায়ক কমিটি ঘিরে

বেসিসের ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন প্রথমে ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় ১১টি পরিচালক পদের বিপরীতে মোট ২৬ জন প্রার্থীর নাম আসে।  

২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন বোর্ড বৈধ ও অবৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় সভাপতি পদপ্রার্থী রাফেল কবির ও মোস্তফা রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজনের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়।  

কিন্তু চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরদিনই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেসিসের ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল বাতিল করে। একই সঙ্গে বৈধ সদস্যদের যাচাই, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং বাদ পড়া যোগ্য সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে সাত সদস্যের একটি সহায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।  

পরবর্তীতে ২২ সেপ্টেম্বর প্রশাসককে সহযোগিতার জন্য সাত সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়। প্রকাশিত তালিকায় ছিলেন ইঞ্জি. মোহাম্মদ জুয়েল, আব্দুল্লাহ ইবনে নূরুল ইসলাম, মো. আহসান হাবিব, ফেরদৌস আলম, মো. ফুয়াদ হাসান, মো. রাশেদ উল হক সরকার এবং মোহাম্মদ তাফিদ হাসান চৌধুরী। কমিটির দায়িত্ব ছিল নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং বিদ্যমান সদস্যদের তথ্য যাচাই ও হালনাগাদে প্রশাসককে সহযোগিতা করা।  

এর পরপরই কমিটির গঠন নিয়ে পাল্টাপাল্টি আলোচনা শুরু হয়।

জুয়েলকে ঘিরে ছড়ায় পুরোনো ছবির নতুন সংস্করণ

এই বিরোধের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঞ্জি. মোহাম্মদ জুয়েলের একটি পুরোনো ছবির সঙ্গে রাজনৈতিক গ্রাফিক যুক্ত একটি সংস্করণ ছড়িয়ে পড়ে।

ছবিটিতে জুয়েলের portrait-এর নিচে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার cut-out ছবি এবং “WE ALL ARE SHEIKH HASINA’S MEN” লেখা একটি সবুজ-লাল গ্রাফিক দেখা যায়। এটিকে ব্যবহার করে জুয়েলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় বলে তাঁর অভিযোগ।

কিন্তু ছবিটির দুটি সংস্করণ নিয়ে করা Digital Image Forensic Comparison Report-এ গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

২৭ সেপ্টেম্বর করা ওই পরীক্ষায় reference/clean image এবং questioned image তুলনা করা হয়। রিপোর্টের নির্বাহী সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, দুই ছবির মূল selfie/portrait একই source photograph-এর সঙ্গে উচ্চমাত্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু questioned image-এ রাজনৈতিক গ্রাফিক, একজন নারীর cut-out portrait, সবুজ-লাল background এবং ওই রাজনৈতিক বক্তব্যটি অতিরিক্তভাবে উপস্থিত; reference image-এ এগুলো নেই।  

ফরেনসিকে কী পাওয়া গেছে

Forensic report-এর feature-matching পরীক্ষায় reference image-এ ৪,৭৯৫ এবং questioned image-এ ৫,০০০টি ORB feature শনাক্ত হয়। ৬৩৮টি ratio-test match-এর মধ্যে ৫৬৮টি RANSAC inlier পাওয়া যায়; inlier ratio প্রায় ৮৯ শতাংশ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ফলাফল দুই ছবির portrait ও background-এর বড় অংশ একই underlying source image থেকে আসার বিষয়টিকে শক্তিশালীভাবে সমর্থন করে। 

আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, questioned image-এ রাজনৈতিক graphic block-টি মূল portrait-এর ওপর superimpose করা হয়েছে বলে forensic assessment-এ উল্লেখ রয়েছে। 

রিপোর্টে questioned JPEG-এর metadata-তে “Canva (Renderer)” শনাক্ত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পরীক্ষিত ফাইলটিকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালের untouched/original Facebook image হিসেবে প্রযুক্তিগতভাবে সমর্থন করা যায় না বলেও forensic conclusion-এ উল্লেখ করা হয়েছে। 

অতএব, ছবিটি পরিবর্তিত হওয়ার প্রযুক্তিগত প্রমাণ এবং কে সেটি পরিবর্তন করেছেন—এ দুটি আলাদা বিষয়।

আগেই থানায় জিডি করেছিলেন জুয়েল

জুয়েলের সরবরাহ করা নথিতে দেখা যায়, বিতর্কিত ছবি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে প্রচারণার বিষয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও অভিযোগ করেছিলেন।

উত্তরা পশ্চিম থানায় করা সাধারণ ডায়েরির কপিতে তিনি তাঁর ছবি পরিবর্তন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। অর্থাৎ সাম্প্রতিক বেসিস নির্বাচনকেন্দ্রিক বিতর্কের আগেও পরিবর্তিত ছবি নিয়ে তাঁর আপত্তি ও আইনি প্রতিকারের চেষ্টা থাকার একটি নথি রয়েছে।

জুয়েলের রাজনৈতিক পরিচয় কী বলছে?

‘আওয়ামী লীগ’ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিপরীতে মোহাম্মদ জুয়েলের সরবরাহ করা রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে দীর্ঘদিনের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, তিনি ২০০৩ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের কামাল–দীপক কমিটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে জিয়া ব্রিগেড এবং জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে ওই নথিতে উল্লেখ রয়েছে। 

জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের ২০২৬ সালের কমিটির নথিতেও ইঞ্জি. মো. জুয়েলকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একই কমিটিতে অধ্যাপক ড. শাহ জে মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং মো. রওশান কামাল জেমসকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখানো হয়েছে। 

বেসিসের সঙ্গে জুয়েলের সম্পর্কও নতুন নয়

জুয়েলকে বেসিসের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কহীন হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগও নথিতে খুব একটা নেই।

BASIS-এর previous associate committee-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর ২০২৫ গঠিত ১০ সদস্যের Associate Committee-তে Md Jewel সদস্য ছিলেন। একই কমিটিতে Rowshan Kamal James, A H M Rokmunur Zaman Rony, Ferdosh Alam-সহ অন্যরা ছিলেন। 

জুয়েলের CV-তেও তাঁকে ২০২৪–২০২৫ সময়ে BASIS Local Market Standing Committee-এর চেয়ারম্যান এবং ২০২৫–২০২৬ সময়ে সহায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এ ছাড়া ২৬ সেপ্টেম্বর বেসিস কার্যালয়ে Bitopia Group নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে Support Committee Member এবং Trust-IT (BD) Ltd.-এর চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ জুয়েলের বক্তব্য দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।  

রাফেল কবিরও আগে সহায়ক কাঠামোর নেতৃত্বে ছিলেন

বর্তমান বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বেসিসের আগের Associate Committee।

BASIS-এর previous committee-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৪-এর Associate Committee-এর Chairman ছিলেন Rafel Kabir। ওই কমিটিতে আরও ছিলেন Syed Mamnun Quader, Md. Mijanur Rahman, Raisul Kabir, Abdullah Ibn Nurul Islam, Rowshan Kamal James এবং A H M Rokmunur Zaman Rony-সহ অন্যরা। 

পরবর্তীতে ওই সময়কার সহায়ক কাঠামোও টেকেনি। সাম্প্রতিক সংবাদে বেসিসের বর্তমান সংকটের ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দুই দফা নির্বাচনী তফসিল বাতিল, আগের support committee-এর পদত্যাগ এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অচলাবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  

এই ইতিহাসই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—বারবার কমিটি গঠন, কমিটি ভেঙে যাওয়া বা স্থগিত হওয়া এবং নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার মূল কারণ কোথায়?

ছয় দিনের মাথায় নতুন সহায়ক কমিটিও স্থগিত

২২ সেপ্টেম্বর গঠিত সর্বশেষ সাত সদস্যের কমিটিও বেশিদিন টেকেনি।

২৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখার উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত আদেশে কমিটির সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। 

অর্থাৎ কমিটি কার্যত মাত্র ছয় দিন কাজ করার সুযোগ পেয়েছে।

The Financial Express-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিটির composition নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল এবং জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামও কমিটি বাতিলের আবেদন করেছিল। তবে মন্ত্রণালয়ের মূল স্থগিতাদেশে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগকে স্থগিতের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।  

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপের ঘটনা সংবাদসূত্রে এসেছে; কিন্তু সরকারি নথি শুধু কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে।

তাহলে বারবার কেন পিছিয়ে যাচ্ছে বেসিস নির্বাচন?

গত কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ পাশাপাশি রাখলে অন্তত চারটি নথিভুক্ত সমস্যা সামনে আসে—ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ, বৈধ সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন, প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং সহায়ক কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিরোধ।

প্রথম নির্বাচনী উদ্যোগ সফল হয়নি। পরে ২৬ সেপ্টেম্বরকে সামনে রেখে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়, যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীও নির্ধারণ করা হয়।  

কিন্তু ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আবার তফসিল বাতিল করে এবং ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়।  

এরপর ভোটার তালিকা ঠিক করার জন্য যে সহায়ক কমিটি করা হলো, সেটিও ২৮ সেপ্টেম্বর স্থগিত হলো।

ফলে একটি চক্র তৈরি হয়েছে—

নির্বাচনের প্রস্তুতি → ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি → তফসিল বাতিল → সহায়ক কাঠামো → কমিটি নিয়ে বিরোধ → কমিটির কার্যক্রম স্থগিত → আবার নির্বাচনের অনিশ্চয়তা।

এই চক্র ভাঙতে না পারলে নতুন তফসিল ঘোষণা করলেও একই ধরনের প্রশ্ন আবার সামনে আসার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

‘আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ কি নির্বাচনী লড়াইয়ের অংশ?

সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রশ্নটি এখানেই।

সহায়ক কমিটি এবং নির্বাচন নিয়ে তীব্র বিরোধের সময়ই জুয়েলকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিচয়কেন্দ্রিক পোস্ট ছড়িয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত একটি ছবির questioned version-এ রাজনৈতিক graphic পরবর্তীতে যুক্ত হওয়ার প্রযুক্তিগত প্রমাণও forensic report-এ পাওয়া গেছে।

কিন্তু এই দুটি তথ্য থেকে সরাসরি বলা যায় না যে বেসিস নির্বাচনে কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে বা জুয়েলকে নির্বাচনীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই ছবিটি সম্পাদনা বা প্রচার করা হয়েছিল।

সেটি প্রমাণের জন্য প্রয়োজন মূল Facebook post, publication history, সংশ্লিষ্ট পোস্টদাতাদের বক্তব্য, ছবির উৎস এবং প্রয়োজনে platform-side তথ্য।

সাংবাদিক ইলিয়াস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী রূপম রাজ্জাক ও অন্য যেসব অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে জুয়েলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্যও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের পোস্টের উদ্দেশ্য কী ছিল, ছবির উৎস কোথায় এবং ছবিটি পরিবর্তিত বলে forensic analysis-এ যে তথ্য এসেছে সে বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পুরো চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

তাই এখন পর্যন্ত প্রমাণিত ঘটনাপ্রবাহ থেকে বলা যায়—বেসিস নির্বাচন ও সহায়ক কমিটি নিয়ে বিরোধ চলাকালে জুয়েলকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিচয়ের বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং সেই বিতর্কে ব্যবহৃত অন্তত একটি ছবির questioned version-এ পরবর্তীতে রাজনৈতিক graphic যুক্ত করার প্রযুক্তিগত প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু কে সেটি তৈরি করেছে এবং এর সঙ্গে বেসিস নির্বাচনের সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না—সেটি এখনো প্রমাণিত নয়।

ব্যক্তি নয়, সামনে এখন বেসিসের নির্বাচন

বিতর্ক যতই ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের দিকে যাক, বেসিসের সাধারণ সদস্যদের সামনে মূল প্রশ্ন এখনো একই—নির্বাচন কবে হবে?

দুই দফায় নির্বাচন না হওয়া, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরও তফসিল বাতিল, ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ এবং সর্বশেষ সহায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি বাণিজ্য সংগঠনটির নির্বাচনী ভবিষ্যৎ আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।  

এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ, রাজনৈতিক ট্যাগিং বা অযাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার পরিবর্তে বেসিসের সামনে তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সদস্য/ভোটার তালিকা, সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ এবং দ্রুত একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর।

কারণ বেসিসের নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কোনো সহায়ক কমিটি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে নয়—সংগঠনের বৈধ সদস্যদের ভোটেই নির্ধারিত হওয়ার কথা।