রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘নিজের নির্বাচনী এলাকায় না জানিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানোয় বিস্মিত জামায়াত আমির’ শিরোনামের একটি গণমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করে তিনি এ পোস্ট দেন।
পোস্টের ক্যাপশনে জামায়াত আমিরকে কটাক্ষ করে রাশেদ খান সরকারের উচ্ছেদ কার্যক্রমে জামায়াত আমির ও তার দলের বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন।
পোস্টের ক্যাপশনে রাশেদ খান লেখেন, ‘আমাদের জান্নাতি দাদু কখনোই ঢাকা শহরকে পরিকল্পিত নগরী হতে দিবে না।’ এরপর তিনি অভিযোগ করেন, মূল সড়ক থেকে অটোরিকশা উচ্ছেদ, বস্তিবাসীদের স্থানান্তরে বাধা এবং ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রমে জামায়াত আমির ও তার দল বাধা দিয়েছে।
রাশেদ খান আরও লেখেন, ‘সরকারের প্রতিটা জনবান্ধব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এভাবেই পদে পদে বাধার শিকার হতে হচ্ছে।’
এর আগে বুধবার মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, উচ্ছেদের আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানকালে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফুটপাতে বসা ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ হয়েছে।
তিনি বলেন, মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেট এলাকায় বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সিটি করপোরেশনের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন। পুলিশের সদস্যদের সঙ্গেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদেরও বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এই আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন, যেখানে জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং জনগণের সুবিধা-অসুবিধা-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি হয়তো আরও সমন্বিত ও ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।’
তিনি বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে বাস্তবতা উপলব্ধি করে এমন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের চলাচলের পথও নির্বিঘ্ন ও ব্যবহারোপযোগী থাকে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম