জামালপুরের বকশীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন মাস্টারের মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান। পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধার সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন এবং আদালত ও মন্ত্রণালয় তাকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের দাবি, তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। এ বিরোধের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত গার্ড অব অনার ছাড়াই তার দাফন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আসরের নামাজের পর উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে দেলোয়ার হোসেন মাস্টারের দাফন সম্পন্ন হয়। তবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ঢাকার অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দেলোয়ার হোসেন মাস্টার।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। পথে স্থানীয় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের নেতারা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে আপত্তি জানান। এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মরহুমের ছেলে শামীম মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা ২০১৫ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধার সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন। একটি মহল বাবার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করলে হাইকোর্ট ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বাবাকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাবার মৃত্যুর পর তারা কেন বাধা দিলেন, তা বুঝতে পারছি না।’
তবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার নওশেদ আলী দাবি করেন, দেলোয়ার হোসেন মাস্টার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। নিয়মবহির্ভূতভাবে তার নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নওশেদ আলী বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার্থেই তারা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের সব প্রস্তুতি নিয়ে তারা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
কিন্তু পথে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও বাধা আসায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম