শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকার অনুমোদিত অনলাইন গণমাধ্যম
BD.GOV.REG.NO-88

আপনি পড়ছেন : ফরিদপুর

সালথায় ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ


‎সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
DhakaReport24.com || 2026-08-22
সালথায় ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

ঘরের কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই অভিযোগ করছিলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা দলেনা বেগম। তাঁর অভিযোগ, উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে তাঁর বাড়িসহ গ্রামের ১০ থেকে ১১টি ঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

‎শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

‎তিনি বলেন, আমার ঘরের ভেতরে যা কিছু ছিল, সব ভাঙচুর করে চুরমার করে দিয়েছে। আমার একটা মেয়েকে খাটের নিচ থেকে টেনে বের করে নিয়ে আসে। আমার স্বামী অনেক দিন ধরে গ্রামছাড়া। আমি একা থাকি। রাতে থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই।

‎দলেনা বেগম আরও অভিযোগ করেন, তাঁদের মুদি দোকান থেকেও টাকা-পয়সা ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

‎অন্য ভুক্তভোগী রওসান মাতুব্বরের স্ত্রী সোখিনা বলেন আগের একটি ঝামেলার পর তাঁর স্বামী বাড়িতে থাকেন না। জাহিদ তাঁর স্বামীকে গালিগালাজ করেন এবং বাজারে গেলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। স্বামীকে মেরে ফেলার আশঙ্কায় তাঁকে বাড়ি থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

‎সোখিনা বলেন, মুরাটিয়া, সজনকান্দা ও জুগিকান্দা এই তিন গ্রামের লোকজন নিয়ে এসে ভাঙচুর করেছে। আমার স্বামীকে মারধর করা হয়েছে। ঘরে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুর করা হয়েছে। আমার ছোট ছেলেকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাজিব হোসেনের সঙ্গে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইউনিয়ন সভাপতি হিমায়েত হোসেন, জাহিদ, রফিক ও ইবাদতসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন।

‎ভুক্তভোগীদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, বশির মাতুব্বরের দুটি, বাবলু মাতুব্বরের একটি, আবুল খায়েরের একটি, ইদ্রিস মাতুব্বরের একটি, মিজান মাতুব্বরের একটি, আজিজুল মাতুব্বরের একটি, রসন মাতুব্বরের একটি এবং তুরাপ মাতুব্বরের একটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া মামুন মাতুব্বরের একটি ঘর ও খড়ের গাদা ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে।

‎তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাজিব হোসেন বলেন, ওরা কালকে জামিন পেয়ে আমার একজন লোক খেলা দেখতে য়াওয়ার পথে রওসান বাড়ির সামনে জাহিদ মারছে, জাহিদ খবর দেওয়ার পরে গ্রামের কিছু লোক এসে এই কাজ করেছে। ওই দলের নেতৃত্বে  হিসেবে আমি আছি, এটা ঠিক। আমার নামটাই উঠবে, এটাই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে ‎সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান বলেন, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম