ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে নিজের নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়ার পর ‘শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে বুধবার জেরুজালেমে নিজ দল লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, ‘লিকুদ দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। আমরা একটি শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার গড়ব।’
নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাবে আসনসংখ্যায় কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। চ্যানেল ১২-এর হালনাগাদ জরিপে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসন ৪৯টি। আরব দলগুলোর আসন হতে পারে ১৯টি। অন্য জরিপগুলোতে দুই প্রধান জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, কোনো জোটই নিশ্চিতভাবে এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির কার্যালয়ে সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু বলেন, সরকার গঠনের বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা আগাম হয়ে যাবে। প্রকৃত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনা না করার অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিরোধী জোটের নেতা ও ইয়াশার দলের প্রধান গাদি আইজেনকট দাবি করেছেন, ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে এবং নেতানিয়াহুর শাসনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। তিনি চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আবার নির্বাচন আয়োজন করা বড় ভুল হবে। দায়িত্বশীল জায়োনিস্ট সরকার গঠনে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথাও জানান তিনি।
ভোট গণনা ও চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষার মধ্যেই এখন ইসরায়েলে পরবর্তী সরকার গঠনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম