ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ক্ষেপণাস্ত্রটি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে জোট।
এ ঘটনার আগে দেশটির চারটি শহরে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছিল বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। পরে অবশ্য তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে যাওয়ার কথা জানানো হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, তাইফ ও নাজরান শহরে সতর্কবার্তা প্রচার করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ জানায়, আপাতত কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।
এরপর ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর জানান। তার দাবি, দক্ষিণ সৌদি আরবের দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল কিংবা এর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামোও রয়েছে।
বিশেষ করে লোহিত সাগরের উপকূলীয় জাজান অঞ্চল সৌদি আরবের জ্বালানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে দৈনিক চার লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি শোধনাগার রয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে হামলার আশঙ্কা দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতের অংশ হিসেবে সৌদি আরবও ইয়েমেনে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঢাকারিপোর্ট২৪.কম/জাক/আরএএম