|
ঢাকা রিপোর্ট ২৪ ডট কম, ঝালকাঠি (১১ জুলাই): সরকারী নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ঝালকাঠিতে কোচিং বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে অসাধূ সরকারী শিক্ষকরা। বিশেষ করে ঝালকাঠি সরকারি বালক, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং দু’টি সরকারি কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকাগন এ ক্ষেত্রে অভিনব কৌশল অবলম্বন শুরু করছে।
কেউ কোচিং ভবনের সামনে তালা ঝুলিয়ে ভিতরে, আবার কেউ স্ত্রীর ছাত্র-ছাত্রী বলে এ বানিজ্য করে যাচ্ছে। অনেকে নীচতলা থেকে সরিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দোতলায় কোচিং করাচ্ছেন।
গত ২০ জুন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের শিম/শা:১১/৩-৯/২০১১/৪০১ নং স্মারকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্য বন্ধে নীতিমালা জারি করে সরকার। কিন্তু ঝালকাঠির সরকারী বেসরকারি স্কুল ও কলেজের একটি শিক্ষক সিন্ডিকেট এই নীতিমালা আদৌ মানছেনা।
এদিকে কোচিং বানিজ্য বন্ধে প্রতি জেলায় একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নীতিমালা ঘোষনার ২০ দিন পরেও তা করা হয়নি।
ঝালকাঠি সরকারী কলেজের একাধিক ছাত্র জানায়, এই নীতিমালা জারির পরেও কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মিজানুর রহমান সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কলেজের মধ্যেই কোচিং করাচ্ছেন। মাসে ১২ দিন পড়িয়ে তিনি প্রতি ছাত্রের কাছ থেকে ৫শ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন।
একই কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মোস্তফা কামালও সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পযর্ন্ত কলেজের ক্লাশ রুম ব্যবহার করে ছাত্রদের কোচিং করাচ্ছেন।
সরকারী মহিলা কলেজের হিসাব বিজ্ঞানের শিক্ষক ফিরোজ আলম, ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক সুপ্রভাত এবং সাচিবিক বিদ্যার শিক্ষক জামাল হোসেন সরকারী নীতিমালা ঘোষনা হওয়ার পরেও তাদের কোচিং বানিজ্য অব্যাহত রেখেছে।
এছাড়া সরকারী হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিনচন্দ্র, বিজ্ঞানের শিক্ষক মিজানুর রহমান, প্রভাতী শাখার ইংরেজী শিক্ষক শামসুল আলম, গনিতের শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন, বাংলা শিক্ষক মিজানুর রহমান তাদের কোচিং বানিজ্য নিজ নিজ বাসায় অব্যাহত রেখেছে।
সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের গনিতের শিক্ষক নান্টু রঞ্জন বিশ্বাস, শ্যামল চন্দ্র দে, শিশির কুমার, নিয়াজ মোর্শেদ, ইংরেজী শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন ও সেলিমেরও কোচিং বানিজ্য থেমে নেই। ইংরেজী শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেনের কোচিংয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।
নীতিমালা ঘোষনার পরে অনেক শিক্ষক কৌশল বদলে ফেলেছেন। তারা এখন বাসায় যেসব ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসে তাদের স্ত্রীর কোচিংয়ের ছাত্রছাত্রী বলে প্রচার শুরু করছে। আবার সরকারী বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বাসভবনে কোচিং বানিজ্য চালানো হচ্ছে সামনে তালা ঝুলিয়ে। ওখানে পিছনের দরজা খোলা রেখে ভিতরে বসে পাঠদান করা হচ্ছে প্রকাশ্যে।
এছাড়াও ঝালকাঠি থেকে বদলী হয়ে যাওয়া সরকারী বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক তাদের কোচিং বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব শিক্ষকদের ক’মাস আগে ঝালকাঠি থেকে বদলী করা হয়।
কিন্তু তারা বদলী হলেও কর্মস্থলে না গিয়ে কোচিং বানিজ্য টিকিয়ে রাখতে ঝালকাঠিতেই স্ব-পরিবারে থাকছেন। তাদের কাছে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সরকারী নীতিমালা ঘোষনার পর ব্যাচে ১০ জন করে প্রতি ছাত্রের কাছ থেকে শিক্ষকরা ১ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে।
জানাগেছে, সরকারী হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমুল হক, বিপ্লব কুমার দাসসহ ৩ জনকে কিছুদিন আগে কাউখালীতে এবং সরকারী বালক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউসুফ আলী খানকে ভান্ডারিয়া, তপন কুমার ও চঞ্চল কুমার মিস্ত্রীকে কাউখালীতে বদলী করা হয়। কিন্তু তারা সকলেই কোচিং বানিজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য ঝালকাঠিতেই রয়ে গেছেন।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক অশোক কুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, জেলা মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ কমিটি গঠন করার কথাও তিনি জানান। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবা হোসেন বলেন, অফিসিয়ালি এখনও আমরা কোচিং বন্ধের নীতিমালা সংক্রান্ত চিঠি পাইনি, ইন্টারনেটে দেখেছি। চিঠি পাবার পরে এ বিষয়টি নিয়ে বসবো।
ঢাকা রিপোর্ট ২৪ ডট কম/প্রতিনিধি/এইচএমএল/আরএএম.
|