গ্রামীণফোন মেধাবী মানবসম্পদকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে PDF Print E-mail

ঢাকা রিপোর্ট ২৪ ডট কম, ঢাকা (১১ জুলাই): শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইসরাফিল আলম এমপি বলেছেন, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দেশের অন্যতম মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রামীণফোনের কর্মী ছাঁটাই করে বাংলাদেশের দক্ষ ও মেধাবী মানবসম্পদকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে।

ইসরাফিল আলম বলেন, “দেশের মেধাবী ছেলেমেয়েরা সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করে সরকারি চাকরির দিকে না ঝুঁকে গ্রামীণফোনের মতো বহুজাতিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। তাদের মেধা, দক্ষতা আর পরিশ্রমের ফলে গ্রামীণফোন আজ দেশের অন্যতম একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করছে। যখনই প্রতিষ্ঠানটির ভিত শক্ত হয়েছে তখনই তারা এসব মেধাবী ছেলেমেয়েদেরকে ছাঁটাই করছে কোন ধরনের নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে।”

যেসব কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন তাদের বেশীর ভাগেরই সরকারি চাকরির বয়স নেই উল্লেখ করে ইসরাফিল আলম বলেন, “একটি কর্মস্থল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার অপবাদে অন্যত্র চাকরির পাওয়াও তাদের জন্য কষ্টকর হবে।”

তিনি বলেন, “এমন অবস্থায় যে সব মেধাবী কর্মীর পরিশ্রমে গ্রামীণফোন হাজার কোটি টাকার মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে সেই কর্মীদেরই পচে মরতে হবে।”

দীর্ঘসময় শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, “আমি জানি চাকরিচ্যুত একজন কর্মীর অবস্থা কতটা শোচনীয় হয়। সংসার, পরিবার  সমাজের চোখে খাট হয়ে থাকতে হয়। এতে করে অনেকের জীবন নষ্ট হতে পারে।”

তিন বলেন, “দেশের এই মেধাগুলোকে নষ্ট করার জন্যই কর্মী ছাঁটায়ের ষড়যন্ত্র। হঠাৎ করেই যোগ্য তরুণ সমাজের একটি অংশকে বেকারত্বের দিকে ঠেলে দিয়ে দেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে দূর্বল করারও অপচেষ্টা এটি।”

ক্ষুব্ধ ইসরাফিল আলম বলেন, “যাদেরকে দিয়ে গ্রামীণফোনের সিস্টেম ডেভেলপ হয়েছে, শক্ত কাঠামোতে দাঁড়িয়েছে, সেসব কর্মী এখন সিনিয়র পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। তাদেরকে ছাঁটাই করার পেছনে গ্রামীণফোণের মুনাফাখোর মনোভাবই দায়ী।”

তিনি বলেন, “যেহেতু তাদের কাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে সেহেতু সিস্টেম চালু রেখে মুনাফা লুটতে এ ধরনের কোম্পানি একজন সিনিয়রের বেতনে তিনজন জুনিয়রকে রাখার প্রতি আগ্রহ দেখায়। এটি একটি নোংরা সংস্কৃতি।”

গ্রামীণফোনসহ অন্যান্য কর্পোরেট হাউজগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে এই সংসদ সদস্য  বলেন, “দেশের দক্ষ মানবসম্পদের সঙ্গে এমন প্রতারণা মেনে নেবে না সরকার।”

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ডাকা বৈঠকে আমন্ত্রণ করা সত্ত্বেও সেখানে গ্রামীণফোনের অংশ না নেওয়ার সমালোচনা করে ইসরাফিল আলম বলেন, “তাদের সেখানে যাওয়া উচিত ছিল। তবে সেখানে না গেলেও খুব শীগগিরই সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তাদেরকে ডাকবে। তাদের জবাব দিতে হবে কেন একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া স্বত্ত্বেও কেন সেখানে গণছাঁটাইয়ের উৎসব চলছে।”

আর একটি কর্মী ছাঁটাই করা হলে গ্রামীণ ফোনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুসিয়ারি উচ্চারণ করেন ইসরাফিল আলম।

গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে বিনিয়োগের প্রতি আস্থা হারাবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিদেশি যে বিনিয়োগকারিই আসুক না কেন আমরা স্বাগত জানাই। তবে তাদেরকে অবশ্যই এফডিআই’র বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।”

অন্তঃসত্ত্বা কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়েছে এমন প্রসঙ্গে ইসরাফিল আলম বলেন, “এমন আচরণ নিতান্তই অমানবিক। গার্মেন্ট শিল্পে আগে এমন একটি অবস্থা ছিলো যা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠানের এমন আচরণ নিতান্তই কাণ্ডজ্ঞানহীন। শিশুর জন্মদান, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো থেকে শুরু করে প্রাথমিক সময়ে তার পরিচর্যার জন্য এ ছুটি অত্যন্ত জরুরি।”

ঢাকা রিপোর্ট ২৪ ডট কম/এইচএমএল/আরএএম.

Share this post

 

সর্বশেষ ২৪ সংবাদ

ক্রীড়া হাইলাইটস

স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত আম্পায়ারও
ক্রীড়া ডেস্ক : স্পট ফিক্সিং বিতর্কে আরও কেউ বাদ রইলেন না। বুকিরা তো আছেনই সঙ্গে ক্রিকেটার, কর্মকর্তা,
স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে জড়ালো কোহলি ও হরভজনের নাম
ক্রীড়া ডেস্ক : স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে এবার জড়াল হরভজন সিং ও বিরাট কোহলির নাম। এই কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া বলিউড