বাংলা ফন্ট

হরতালে নির্যাতনের শিকার দুই সাংবাদিক

26-01-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

হরতালে নির্যাতনের শিকার দুই সাংবাদিক ঢাকা: রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির হরতালে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। এদের ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক।

বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানার সামনে কয়েকজন পুলিশ মিলে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের ক্যামেরা পারসন আবদুল আলিমকে ফেলে বেধড়ক পেটান। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে রিপোর্টার কাজী ইশান বিন দিদারও হামলার শিকার হন।

এই ঘটনায় সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে শাহবাগ থানায় অবস্থান নিলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। বলেন, থানার ভেতর সিসি ক্যামেরার রেকর্ডিং আছে। ভিডিও দেখে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সুন্দরবন বাঁচানোর হরতালে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গরম পানি ছুড়ে মারে। এরপর দফায় দফায় তাদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এটিএন নিউজের অ্যসোসিয়েট হেড অব নিউজ প্রভাষ আমিন তার ফেসবুক টাইমলাইনে জানান, পুলিশ হরতাল সমর্থকদের পেটাচ্ছিল। তার ছবি তুলছিলেন এটিএন নিউজের ক্যামেরাপারসন আব্দুল আলিম। 'এ অপরাধে' পুলিশ শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে তাকে পেটাতে থাকে। বাধা দিতে গেলে রিপোর্টার ইশান দিদারকেও পিটিয়েছে পুলিশ।

তিনি আরো জানান, ২০/৩০ জন পুলিশ মিলে এই দুই সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়েছে। এখন তাদের ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়েছে। আলিমের আঘাত গুরুতর, ইশানের আঘাতও কম নয়।

এদিকে শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি রাস্তার উল্টোদিকে ছিলেন। ঘটনাস্থল সিসি ক্যামেরায় আওতাধীন, যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের বের করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কিন্তু ব্যবস্থা না নেয়ার আগে থানা না ছাড়তে অনঢ় ছিলেন সাংবাদিকরা। এর মধ্যে পুলিশের পিটুনিতে আহত দুই সাংবাদিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে শাহবাগ থানায় আনা হয়। পরে কারা হামলা করেছে তাদের চিহ্নিত করার জন্য এই দুই সাংবাদিকদের সামনেই পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আসা হয়। জানতে চাওয়া হয় এদের মধ্যে কেউ দোষী কি না।

পাঁচবারে ৫০ জন পুলিশ সদস্যকে হাজির করিয়ে জানতে চাওয়া হয়, এদের কেউ হামলাকারী কি না। আর সাংবাদিকরা প্রধান সন্দেহভাজন সহকারী উপপরিদর্শক এরশাদ মণ্ডলসহ সাত জনকে চিহ্নিত করেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত দুই জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলেন,কনস্টেবল মোখলেছুর রহমান ও কনস্টেবল সাগর।

এরই মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন এরশাদ মণ্ডলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা অঞ্চলের উপকমিশনার খন্দকার মারুফ হোসেন সরদার। তিনি জানান, তদন্ত শেষে অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সকালে জাতীয় কমিটির হরতালকে সমর্থনকারী বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হটাতে পুলিশের আচরণও ছিল আক্রমণাত্মক। তারা দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস ও গরম পানি ছুড়ে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ