বাংলা ফন্ট

পদ্মাবতের পথেই কি এগোচ্ছে লক্ষ্মীবাঈ?

07-02-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 পদ্মাবতের পথেই কি এগোচ্ছে লক্ষ্মীবাঈ?
ঢাকা: এ যেন অজুহাতের ঝাঁপি! আর দেশের একটা বিস্তীর্ণ অংশে সেই ঝাঁপিই যেন খুলে গিয়েছে। দেখা তো দূরঅস্ত্‌, কোনও ছবি মুক্তি পাওয়ার আগেই তা নিয়ে শুরু হয়ে যাচ্ছে বিক্ষোভ।

ঠিক যেমন ‘পদ্মাবত’ বিতর্ক থিতু হতে না হতেই তোপের মুখে পড়ে গেল কঙ্গনা রানাউত অভিনীত নতুন ফিল্ম ‘মণিকর্ণিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি’!

ঝাঁসির রানির জীবনী-নির্ভর এই ছবি নিয়ে আপত্তি তুলল রাজস্থানের এক কট্টরপন্থী সংগঠন। সর্ব ব্রাহ্মণ মহাসভা (এসবিএম) নামে ওই সংগঠনের দাবি, এই ফিল্মে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। যদিও তা অস্বীকার করেছেন ফিল্মের প্রযোজকেরা।

আপত্তিটা ঠিক কোথায়?

এসবিএম-এর সভাপতি সুরেশ মিশ্রের দাবি, ফিল্মে রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক অফিসার রবার্ট এলিসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। আর তাতেই মানহানি হয়েছে লক্ষ্মীবাঈয়ের।

সোমবার জয়পুরে এই ছবিটির বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানাতে সাংবাদিক বৈঠকও করে ওই সংগঠন। সুরেশের কথায়, “এক বিদেশি লেখকের কাহিনির উপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে ছবিটি। রাজস্থানের কয়েক জন বন্ধুবান্ধব-পরিচিতের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, এই ফিল্মে রানি লক্ষ্মীবাঈকে যে ভাবে দেখানো হয়েছে তাতে তাঁর সম্মানহানি হয়েছে।” সুরেশ জানিয়েছেন, প্রযোজকদের কাছে চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, কোন কোন ইতিহাসবিদের পরামর্শ মেনে এই ফিল্ম তৈরি করা হচ্ছে? তবে ওই চিঠির কোনও জবাব পাননি বলে দাবি সুরেশের। এমনকী, এ নিয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য রাজস্থান সরকারের কাছেও দরবার করেছেন তাঁরা।

যদিও ফিল্মে এমন কোনও ঘটনার উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছেন প্রযোজকেরা। ছবির অন্যতম প্রযোজক কমল জৈনের দাবি, “এই ফিল্মে ব্রিটিশ অফিসারের সঙ্গে রানির প্রেম সম্পর্কিত কোনও দৃশ্য নেই। এমনকী, ইতিহাসকেও বিকৃত করা হয়নি।” রানি লক্ষ্মীবাঈ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র এবং বীরত্বের প্রতীক। এ কথা উল্লেখ করে কমলের আরও দাবি, “এই ফিল্মে লক্ষ্মীবাঈয়ের চরিত্রায়ণে রানির সম্মানহানির কোনও প্রশ্নই ওঠে না। বরং বিভিন্ন গবেষক এবং ইতিহাসবিদের পরামর্শ মেনেই এ বিষয়ে এগিয়েছি আমরা।”

জয়শ্রী মিশ্রর লেখা ‘রানি’ উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে ‘মণিকর্ণিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি’। ফিল্ম তৈরির আগে এই বইটি নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি! ২০০৮-এ উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী এই বইটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এ বার তা নিয়ে ফিল্ম তৈরি হতেও ফের বিতর্কের মুখে ‘মণিকর্ণিকা...’।

গত কয়েক মাস ধরেই সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ‘পদ্মাবত’ নিয়ে উত্তাল দেশ। পরিচালককে থাপ্পড় মারা, সেটে আগুন লাগিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে ফিল্মের নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোনের নাক কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিল রাজস্থানেরই আর এক কট্টরপন্থী সংগঠন ‘শ্রী রাজপুত করণী সেনা’। পরে ছবি মুক্তির পর ‘পদ্মাবত’ নিয়ে নিজেদের অবস্থাম বদল করে করণী সেনার একটা অংশ। মূলত দু’টি অংশে ভাগ হয়ে যায় সেনা। ‘মণিকর্ণিকা...’ নিয়ে বিতর্কে এসবিএম-কে সমর্থন জানিয়েছে করণী সেনার একটা অংশ।

তবে, এই ফিল্মটি নিয়ে কমল যাই বলুন না কেন, তাতে চিঁড়ে ভেজেনি। উল্টে হুমকির মাত্রা বাড়িয়েছে এসবিএম। সুরেশের দাবি, ফিল্মটি নিয়ে প্রযোজকদের কাছে জবাবদিবি তলব করুক রাজস্থান সরকার। হলফনামা দিয়ে জানতে চাওয়া হোক, এতে কোনও আপত্তিকর দৃশ্য নেই! সুরেশের কথায়, “কেউ কল্পনাও করতে পারেন না, রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের প্রেমের সম্পর্ক থাকতে পারে! ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে অল্প বয়সেই মারা যান তিনি। এটি লক্ষ্মীবাঈয়ের জীবনীভিত্তিক হলে ফিল্মটিকে বায়োপিক বলা উচিত!”

তিন দিনের মধ্যে রাজস্থান সরকার এ নিয়ে উদ্যোগী না হলে ‘মণিকর্ণিকা’ নিয়ে বিক্ষোভের রাস্তাই নেবে বলে জানিয়েছেন সুরেশ। সুরেশের ওই মন্তব্যকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে কমলের প্রশ্ন, “একেই কি বলে স্বাধীনতা?”

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ