বাংলা ফন্ট

ভবিষ্যতে যা করতে চান জেসিয়া

07-11-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  ভবিষ্যতে যা করতে চান জেসিয়া
ঢাকা: বাংলাদেশি ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগী জেসিয়া ইসলাম নতুন করে জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। এই নতুন স্বপ্নে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী-পুরুষের সম-অধিকার নিয়ে কাজ করতে চান।

‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার নতুন বিভাগ ‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’-এ অংশ নিয়ে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জেসিয়া ইসলাম এমন কথাই জানালেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জেসিয়া ইসলাম রবিবার ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এর অফিসিয়াল ইউটিউব ও ফেসবুক পেজে এ পর্বের ভিডিওটি আপলোড করা হয়। এ বিভাগের জন্য প্রতিযোগীদের কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়। জেসিয়া ছিলেন ‘গ্রুপ সিক্স’-এ। এ দলে জেসিয়ার সঙ্গে আরও ছিলেন কানাডা, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও বতসোয়ানার সুন্দরীরা। চীনের শিমেলং ওশান কিংডমের পানির নিচের অ্যাকুরিয়ামে ‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’ পর্বের শুটিং হয়।

‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় যাওয়ার আগে প্রত্যেক প্রতিযোগীর একটি তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়। ভিডিওতে তারা নিজেদের ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ হওয়ার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের কথা জানান। সেখান থেকেই একটি উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিযোগীদের প্রশ্ন করা হয় ‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’ পর্বে। জেসিয়া তার তথ্যচিত্রে বলেন, তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী-পুরুষের সম-অধিকার নিয়ে কাজ করতে চান। উপস্থাপক তাঁর কাছে জানতে চান, তিনি কীভাবে নারীদের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখবেন? জেসিয়া বলেন, নারীদের জন্য তিনি একটি সংগঠন তৈরি করতে চান। সেই সংগঠনের মাধ্যমে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নারীদের শিক্ষিত, স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতেও কাজ করার পরিকল্পনা আছে বলে জানান জেসিয়া।

এরপর প্রতিযোগীদের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক দিক নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। জেসিয়া বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভালো ও খারাপ দুই দিক আছে। চাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দারুণভাবে ব্যবহার করা যায়। এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের অনেকে এর অপব্যবহার করে। আমার কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক তথ্যের উৎস আর মানুষকে এক করার প্ল্যাটফর্ম।’

এ বছর ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় ‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’ বিভাগটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিভাগের ফলাফলের ভিত্তিতেই শীর্ষ ৪০ জন সুন্দরীকে বাছাই করা হবে, যারা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবেন। প্রতিযোগীদের অনলাইনে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চালু আছে। চীনের সানাইয়া সিটিতে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ১৮ নভেম্বর।

কে এই জেসিয়া ইসলাম?   

এই সুন্দরীর পারিবারিক নাম জেসিয়া ইসলাম। তিনি পুরান ঢাকার মেয়ে। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেখানেই। জেসিয়ার বাবার নাম মনিরুল ইসলাম, যিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। জেসিয়ার মা গৃহিণী, নাম রাজিয়া সুলতানা। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ৫ ফুট ৮ ইঞ্চির এই সুন্দরী।

জেসিয়ার বাবা-মায়ের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের কারণে তিনি রাজধানীর মহাখালীতে একাই থাকেন। মাঝেমধ্যে বাবা-মার সঙ্গে দেখা করেন। জেসিয়া লেখাপড়া করেছেন ইংরেজি মাধ্যম সাউথপয়েন্ট একাডেমিতে। সেখান থেকে ও-লেভেল সম্পন্ন করে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ছেন। তার বয়স ১৮ বছর।

জেসিয়া আরো জানান, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার পূর্বে ফ্যাশন হাউজ এক্সটেসির মডেল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তবে নাচ, গান, অভিনয়ের ওপর তার কোনো হাতেকলমে শিক্ষা নেই। যা কিছু শিখেছেন এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার প্লাটফর্মেই, বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রুমিংয়ের মাধ্যমে।

জেসিয়া বলেন, আমি নিজেকে আইকন বা জনপ্রিয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেছিলাম ছোটবেলা থেকে। সেই প্ল্যাটফর্ম পেয়েছি মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-এর মঞ্চ থেকে। এবার শুধু সামনে এগুতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া রাখবেন, আমি যেন বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনতে পারি।’

জেসিয়া এও বলেন, ‘এটাই প্রথম আমার জীবনে অংশ নেয়া কোনো প্রতিযোগিতা। প্রথমেই অনেক বাঁধা পেরিয়ে সফল হয়েছি। আল্লাহর কাছে আমার লাখো শুকরিয়া। এতদূর আসতে যারা আমাকে সাহায্য করেছেন সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ