বাংলা ফন্ট

উত্তর সিটির উপনির্বাচনে স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ইসির আপিল

01-02-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 উত্তর সিটির উপনির্বাচনে স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ইসির আপিল
ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন ও দুই সিটির ওয়ার্ড নির্বাচনে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার দুপুরের নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আপিল করা হয় বলে জানা গেছে।

এর আগে রবিবার রাতে কমিশনের এক সভায় আপিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এর আগে ১৭ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপ নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্ট। একটি রিটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ উপনির্বাচনের তফসিল কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুলও জারি করা হয়েছে।

ওইদিন সকালে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের নিষ্পত্তি করে রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান।

গত ৯ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচনসহ সিটি কর্পোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া এলাকায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

ওই তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট করেন রাজধানীর সদ্যবিলুপ্ত ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম এই রিট করেছিলেন। রিটে নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রিটটি করেছিলেন তারা।

রিটে উল্লেখ করা হয়, সিটি করপোরেশন আইন অনুসারে ৭৫ শতাংশ কাউন্সিলর নির্বাচনের মাধ্যমে ফল সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হবে। এর ভিত্তিতে মেয়র পদ গঠিত হবে। অথচ গত বছরের জুলাইতে উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮টি ওয়ার্ড সম্প্রসারিত করা হয়। এ অবস্থায় ৭৫ শতাংশ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচন হচ্ছে না। নতুন পুনর্গঠিত ওয়ার্ডের ভোটার তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিটটি করা হয়।

তাছাড়া মনোনয়ন দাখিল করতে হলে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষরসহ তা জমা দিতে হবে। কিন্তু, রিটকারীর এলাকার ভোটার এখনো তালিকাভুক্তই হননি, যার ফলে তিনি স্বাক্ষর নিতে পারছেন না।

পরে রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আহসান হাবীব ভূঁইয়া জানান, তারা রিট আবেদনটি করেছিলেন।

তিনি আরো জানান, একই আদালতে আরো একটি রিট আবেদন করা হয়। দুটি আবেদনেই নির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়। পরে দুটি আবেদনের বিষয়েই আদেশ দেওয়া হয়।

তফসিল অনুযায়ী, এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র কেনা ও জমা দেওয়া যাবে আগামীকাল ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। আবেদনকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২১ ও ২২ জানুয়ারি। তা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ জানুয়ারি।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রচার চালানো যায় না। সে অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। অবশেষে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত করে ১৭ জানুয়ারি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভোট হয়। আওয়ামী লীগের সমর্থনে ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন সদ্য প্রয়াত আনিসুল হক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতবছরের ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ১ ডিসেম্বর থেকে ওই পদটি শূন্য ঘোষণা করে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ