বাংলা ফন্ট

সিউলে কিম জং-উনের প্রভাবশালী বোন

07-02-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 সিউলে কিম জং-উনের প্রভাবশালী বোন
সিউল: আসন্ন শীতকালীন অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের প্রভাবশালী বোন।

কিম জো-জং বুধবার সিউল এসে পৌঁছান বলে দেশটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার এই গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

কিম জো-জং উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত কিম জং-ইলের কনিষ্ঠতম কন্যা নেতা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট কিম জং-উনের ছোট বোন। কিম জো-জং’র ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গত বছর তাকে দলের পলিটব্যুরোর দায়িত্ব দেয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উভয় কোরিয়াই একই পতাকাতলে মার্চে অংশে নেবে। উত্তর অংশ অংশগ্রহণকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জোরদারের একটি অংশ হিসাবে দেখা হচ্ছে।

তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে এই সফর উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উচ্চাভিলাষে ওপর কোনো প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে যে অপ্রচারের উদ্দেশ্যেই উত্তর কোরিয়া অলিম্পিককে ব্যবহার করছে এবং পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেশটি তার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য পাঠাচ্ছে।

চিয়ার লিডারদের একটি দল সহ উত্তর কোরিয়ার ২৮০ সদস্যের অধিকাংশ প্রতিনিধিই বুধবার দক্ষিণ কোরিয়া এসে পৌঁছেছেন।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন উত্তর কোরিয়ার ক্রীড়া মন্ত্রী কিম ইল-গুক। প্রতিনিধিদলে ২২৯ জন চিয়ারলিডার, জাতীয় অলিম্পিক কমিটির চারজন কর্মকর্তা, ২৬ জন তায়কান্দো খেলোয়াড় এবং ২১ জন সাংবাদিক রয়েছেন।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পিয়ংইয়ংয়ের ছোড়া রকেট ও পারমাণবিক পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় সিউল কেয়াসং শিল্প এলাকার একটি যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্প বাতিল করার পর দুই কোরিয়ার সম্পর্কে অবনতি ঘটে। এর পরপরই উত্তর কোরিয়া দক্ষিণের সঙ্গে টেলিফোনসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ উপেক্ষা করে পিয়ংইয়ংয়ের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল।

তবে সম্প্রতি শীতকালীন অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণে দেশটির শীর্ষনেতা কিম জং উনের আগ্রহের পর উত্তেজনা খানিকটা কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

কিমের ভাষণের পর দুই কোরিয়ার মধ্যে টেলিফোন হটলাইন ফের চালু হয়; এরপর দক্ষিণের আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দেয় পিয়ংইয়ং। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে দুই কোরিয়ার সীমান্ত এলাকার ‘যুদ্ধবিরতি গ্রাম’ পানমুনজমে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়। আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে হতে যাওয়া শীতকালীন অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণের প্রশ্নেই মূলত এবারকার আলোচনার আয়োজন করা হয়।

দুই বছর পর অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠক শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার পুনরেত্রীকরণবিষয়ক সহকারি মন্ত্রী চুন হায়ে সাং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ‘উত্তর কোরিয়া ওই ক্রীড়া আসরে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল, জাতীয় অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধি দল, দৌড়বিদ, সমর্থক, শিল্পী, পর্যবেক্ষক, একটি টেইকুন্ডো দল ও সাংবাদিকদেরকে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।’

বিবিসি জানায়, দক্ষিণ কোরিয়াও শীতকালীন অলিম্পিকের সময় কোরীয় যুদ্ধে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর পুনর্মিলনের প্রস্তাব দিয়েছে। লুনার নববর্ষের ছুটিতে এ পুনর্মিলনী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শীতকালীন অলিম্পিকের মাঝামাঝি সময়ে লুনার নববর্ষ উদযাপিত হবে।

সর্বশেষ ১০ বছর আগে ২০০৬ সালে শীতকালীন অলিম্পিকে কোরীয় উপদ্বীপের পতাকা নিয়ে একসঙ্গে মার্চ করেছিল দুই কোরিয়ার প্রতিনিধিরা।

সূত্র: বিবিসি

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ