বাংলা ফন্ট

আইএস পরবর্তী মসুলের চিত্র

14-01-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  আইএস পরবর্তী মসুলের চিত্র
বিশ্ব ডেস্ক: ইরাকের মসুল শহরের প্রধান সড়কটি ধরে সামনে গেলে দুধারে চোখে পরে শুধুই ধ্বংসস্তুপ।

একসময় প্রাণবন্ত এই শহরটি এখন একেবারে ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে।

ইরাকে ইসলামিক স্টেটের সবচাইতে শক্ত ঘাটি ছিল মসুল। সেখান থেকে তাদের হঠাৎ মাসের পর মাস ধরে যুদ্ধ চলেছে।

আর তার ফল হলো শহরটির বেশিরভাগ অংশই এমন ধ্বংসস্তুপ পরিণত হয়েছে।

যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়া অধিবাসীদের মধ্যে মাত্র কয়েকটি পরিবার ফিরেছে এই ধ্বংসস্তুপের মাঝে।

আহমেদ হাসান তাদের একজন। পাঁচ বছর পর নিজের শহরে ফিরলেন তিনি।

তার জন্য নতুন করে যেনো শুরু হলো আরো এক সংগ্রাম।

তিনি বলছিলেন "আমি এই শহরে বড় হয়েছি। আমাদের জন্য এই শহরটি ছিলো গর্বের বিষয়। কিন্তু কি ভয়াবহ ব্যাপার দেখুন। শহরটির কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। বিশেষ করে শহরটির পশ্চিম অংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। কোনো ধরনের নাগরিক সুবিধাও আর নেই"।

শহরটির পুরোনো অংশে বছর পাঁচেক আগে একটা বাড়ি কিনেছিলেন আহমেদ হাসান।

এতদিন পর সেটার ধ্বংসস্তুপের ওপরে দাড়িয়ে কিছুতেই নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি।

বারবার নিজের মাথা দোলাচ্ছিলেন। পরিবারের আট সদস্য এখানে তাদের প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মরদেহও খুঁজে পাননি আহমেদ।

আহমেদ বলছিলেন "একদম শুরুতে মারা গিয়েছিলো আমার স্ত্রীর ভাই। সে নদীতে পানি আনতে গিয়েছিলো। ফেরার সময় মর্টারের আঘাতে মারা যায় সে। তারপর মারা গেলো আমার ভাইয়ের স্ত্রী। সে একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো। সেসময় আইএসের যোদ্ধারা স্থানীয়দের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিলো এবং সবসময় জায়গা পরিবর্তন করছিলো। তারা অসুস্থ কাউকে সাথে রাখতে চায়নি। তাই ওকে মেরে নদীর পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছিলো"

ইরাকি সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী তিন বছর পর এখন আবার মসুল শহরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আস্থা পাওয়াই এখন তাদের জন্য সবচাইতে বড় সমস্যা।

শহরের পুলিশের কার্যালয়ের সামনে স্থানীয়দের অনেকেই জড়ো হয়েছেন। তারা পশ্চিম মসুলে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে চায়।

কিন্তু যারা বিমান হামলায় বেঁচে গেছেন তাদের অনেককেই ইসলামিক স্টেটের অনুগত বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন শাসক বাহিনীর লিখিত চিঠি ছাড়া তাদের পক্ষে বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব নয় বলছিলেন নিরাপত্তাবাহিনীর এক কর্মকর্তা।

তিনি বলছিলেন "এটা এখন একটা সমস্যা। এই লোকগুলো আই এসের সাথে ছিলো কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদের ব্যাপারে একটা অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন। আইএসের কত যোদ্ধারাইতো কোনো পরিচিতি নেই। শুধু স্থানীয়রাই তাদের চিনতে পারবে। লোকজনকে তাদের বাড়িতে যেতে দেয়ার আগে শুরুতে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া আমাদের জন্য জরুরী"।

মসুলের অলিগলিতে অবশ্য সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তুপ সরাতে শুরু করেছে।

বেশিরভাগে আধুনিক যন্ত্রপাতিও যেহেতু বোমা-হামলা থেকে রক্ষা পায়নি তাই অনেকে খালি হাতেই ইটশুড়কি সরাচ্ছিলেন।

তার নিচে থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছিলো নিখোঁজ বাসিন্দাদের মরদেহ।

কিন্তু তার মাঝেই শুরু হয়ে গেছে নতুন করে জীবন তৈরির চেষ্টা।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ