বাংলা ফন্ট

যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ন্যাটোকে অনুরোধ ইউক্রেনের

29-11-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ন্যাটোকে অনুরোধ ইউক্রেনের

ঢাকা: রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা  সামরিক জোট ন্যাটোকে আজোভ সাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অনুরোধ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কো।

রবিবার রুশ নৌবাহিনীর সদস্যরা কৃষ্ণ ও আজোভ সাগরের মাঝে অবস্থিত কের্চ প্রণালিতে ইউক্রেনের তিনটি জাহাজ জব্দ ও ২৪ নাবিককে আটক করেন। ইউক্রেন ন্যাটো সদস্য না হলেও এ অবস্থায় দেশটিকে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেয় এ সামরিক জোট।

দুই দেশের মধ্যে চলা উত্তেজনার মধ্যেই ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ন্যাটোকে এমন অনুরোধ জানালেন।

ক্রিমিয়া অধিগ্রহণের পর আজোভ সাগর ঘিরে পশ্চিমাদের সঙ্গেও মস্কোর বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি চলছে।

বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তিনি আগামী বছরের নির্বাচনে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে নৌ উসকানি দিচ্ছেন।

এই সংকট শুরু হওয়ার পর ইউক্রেনের সীমান্ত বরাবর ৩০ দিনের জন্য সামরিক আইন জারি করেছেন পেট্রো। এর পাল্টায় রাশিয়াও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ক্রিমিয়ায় এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা বসানোর কথা জানিয়েছে।

বিল্ডকে তিনি বলেন, ভ্লাদিমির পুতিন আজোভ সাগরের দখল ছাড়া আর কিছুই চাচ্ছেন না। জার্মানি আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র। আমাদের আশা, ন্যাটো দেশগুলো আজোভ সাগরে আমাদের জাহাজ পূর্ণস্থাপনে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, আমরা রাশিয়ার এই আগ্রাসী নীতি মানতে পারছি না। প্রথমে তারা ক্রিমিয়ায় হাত দেয়। পরে পূর্ব ইউক্রেন। এখন তারা আজোভ সাগর চাচ্ছে। যদি তাদের এখন থামাতে না পারি, তবে পরবর্তী সময় তাদের চাওয়া কী?

সোমবার ন্যাটোপ্রধান জেনস স্টোলটেনবার্গ রাশিকে ইউক্রেনের দুই জাহাজ ও ক্রুদের ছেড়ে দিতে বলেছে। তিনি বলেন, এর পরিণতি কী হবে, তা মস্কোকে উপলব্ধি করতে হবে।

পূর্বাঞ্চলীয় ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ক্রেমলিন সাহায্য করছে বলেও অভিযোগ আছে কিয়েভের। রুশপন্থী ওই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইউক্রেন ভূখণ্ডের একটি বড় অংশকে কিয়েভের শাসন থেকে মুক্ত করতে চায়।

কিয়েভ পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমা বিশ্বের সরকারগুলো পোরোশেঙ্কোকে পছন্দ করলেও ইউক্রেনে এ ডানপন্থী রাজনীতিকের গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে পৌঁছেছে।

সাম্প্রতিক জরিপগুলোতেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পোরোশেঙ্কো সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ভোট পেতে পারেন বলে দেখা যাচ্ছে। বাকি ভোটারদের ৫০ শতাংশ বলছেন, যাই ঘটুক না কেন, পোরোশেঙ্কোকে তারা আর সমর্থন করছেন না।

নিজের অবস্থান শক্ত করতেই ক্রিমিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উত্তেজনা বৃদ্ধির চেষ্টা, বলছেন পুতিন।

২০১৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে চরম উত্তেজনার মুহূর্তেও সীমান্ত এলাকাগুলোতে সামরিক আইন জারি হয়নি, আর এবার সামান্য ঘটনাতেই পোরোশেঙ্কোর ওই আইন জারি অন্য কিছুরই ইঙ্গিত দেয়, ভাষ্য রুশ প্রেসিডেন্টের।

ইউক্রেনীয় জাহাজগুলো রাশিয়ার জলসীমায় অবৈধ অনু্প্রবেশ করেছিল জানিয়ে কের্চ প্রণালির ঘটনায় সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়াকে যথাযথ হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি।


ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল





সর্বশেষ সংবাদ