বাংলা ফন্ট

ভবন নির্মাণে ‘কপি-পেস্ট’ প্রযুক্তি বানিয়েছে চীন!

02-10-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ভবন নির্মাণে ‘কপি-পেস্ট’ প্রযুক্তি বানিয়েছে চীন!

ঢাকা: চীনে জনসংখ্যা যেমন দ্রুত বাড়ছে তেমন নগরায়ণও দ্রুত হচ্ছে। দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া জনসংখ্যার জন্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে দেশটি জিনিসপত্র দ্রুত এবং সস্তায় তৈরির নানা কলাকৌশল রপ্ত করছে। তবে সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয় হয়েছে ভবন নির্মাণে চীনের ব্যবহূত একটি ‘হাইব্রিড’ প্রযুক্তি। দেশটিতে এটি ‘কপি-পেস্ট’ স্থাপত্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এমন নামকরণ হওয়ার কারণ হলো— এটা অনেকটা কম্পিউটারে কপি-পেস্টের মতো।
 
কম্পিউটারে ডিজাইন করার পর এটি কপি করে সফটওয়্যারের নির্দিষ্ট ফোল্ডারে পেস্ট করে দিলেই বিশাল বিশাল দুটি রোবটিক হাত ভবনটি নির্মাণের কাজ শুরু করে দেয়। বিষয়টি থ্রিডি প্রিন্টারে বাড়ি বানানোর মতো শোনালেও  এটি আসলে থ্রিডি প্রযুক্তি নয় বরং হাইব্রিড প্রযুক্তি। কারণ থ্রিডি প্রযুক্তিতে বাড়ির পুরো অংশই তৈরি করে যন্ত্র। কিন্তু চীনের এই প্রযুক্তিতে কিছু অংশ হাতে করা হয় আবার কিছু অংশ বিশাল আকারের রোবটিক হাত দিয়ে করা হয়।
 
তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে কিছুটা সমালোচনা হচ্ছে। কারণ চীনের যে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলী বিশ্বজুড়ে সমাদৃত তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চীনা শিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা রকম ডিজাইনের ভবন নির্মাণ করতেন। কিন্তু এই প্রযুক্তিতে ভবনগুলো বেশ সাদামাটা হয়ে যাচ্ছে। এগুলোতে ‘ঐতিহ্যবাহী চীনা চেহারা’ কিছুটা মার খাচ্ছে। কারণ কম সময়ের মধ্যে এসব ভবন নির্মাণ করতে হচ্ছে।
 
ছবিতে ইংরেজি ৮ আদলের যে বিশাল ভবনটি দেখা যাচ্ছে সেটি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ৫২ দিনে নির্মাণ করা হয়েছে। এর ভেতরের কারুকার্যও দেখার মতো। ইউনান প্রদেশে নির্মিত এই ভবনটি বর্তমানে শিল্পকলা প্রদর্শনী ভবন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ এখানকার প্রদর্শনীতে আসে। প্রচলিত পদ্ধতিতে ভবনটি তৈরি করতে গেলে অন্তত দুই বছর লেগে যেত বলে জানিয়েছে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
 
থ্রিডি প্রিন্টারে কাঠ ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। কিন্তু চীনের এই প্রযুক্তিতে ভবনের কোথাও কাঠ কিংবা অন্য পণ্য ব্যবহার করতে চাইলে সেটাও সম্ভব। অর্থাত্ প্রযুক্তি ও মানব হাতের মিশেলে কাজ করে এই কৌশল।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ