বাংলা ফন্ট

যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ফ্লোরেন্স, নিহত ৫

15-09-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ফ্লোরেন্স, নিহত ৫
ঢাকা: আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট হারিকেন ফ্লোরেন্স যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগ স্পর্শ করে।  এখন পর্যন্ত ঝড়ের কারণে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
 
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, ফ্লোরেন্সের কারণে নর্থ ও সাউথ ক্যারোলিনা এবং ভার্জিনিয়ায় প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় থেকে ফ্লোরেন্স একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের পর্যায়ে নেমে এসেছে। কিন্তু তবুও এর আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঝড়টি। বর্তমানে এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১০৫ কিলোমিটার। এদিকে, উপকূলীয় উত্তর এবং দক্ষিণ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্য দুটির ১৭ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হলেও বন্দীরা কারাগারেই রয়েছে।
 
স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সকাল সোয়া ৭ টায় উইলমিংটনের পূর্বের রাইটসভিল সৈকতে আঘাত হানে। সারাদিনই ফ্লোরেন্সের ভয়াবহতা থাকবে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামো খাত ধ্বংস হয়ে যাবে। ঘর-বাড়ি ও হোটেলসহ বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানও ভেঙে পড়েছে ঝড়ের আঘাতে। সকালেই নর্থ ক্যারোলিনার নিউ বার্ন থেকে দুই শতাধিক লোককে উদ্ধার করা হয়েছে।
 
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই এলাকায়ই দেড়শ’র বেশি মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ফ্লোরেন্সের ফলে ঘণ্টায় ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে কোথাও কোথাও ৪০ ইঞ্চি পর্যন্ত পানি জমে যেতে পারে। বাতাসের গতিবেগ এত বেশি যে উদ্ধারকাজ চালাতেও সমস্যা হচ্ছে।
 
জলোচ্ছ্বাস আর বৃষ্টির ফলে নিউ বার্ন নামে একটি উপকূলীয় শহরের কিছু অংশ এর মধ্যেই ৯ ফুট পানির নিচে চলে গেছে। প্রায় ৫ লাখ ঘর-বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগের এই ঝড়ে অনেক মানুষের মৃত্যুর আশংকা করা হচ্ছে।
 
আবহাওয়াবিদদের মতে, যে কোনো ঘূর্ণিঝড়ের শক্তিবৃদ্ধিতে সাহায্য করে উষ্ণতা। তাপমাত্রা বাড়লে শক্তিবৃদ্ধি পায় ঝড়ের। এক্ষেত্রে হারিকেন ফ্লোরেন্সের যাত্রা পথের একটা বড় এলাকার উষ্ণতা ছিল ৩০ ডিগ্রি থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই হারিকেনের গতিপথে ছয়টি পারমাণবিক চুল্লি পড়তে চলেছে। সেগুলোকে রক্ষা করা প্রশাসনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
 
উল্লেখ্য, বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়া বাধ্যতামূলক করা হলেও দক্ষিণ ক্যারোলিনার কমপক্ষে দু’টি কারাগারের বন্দীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়নি। সেখানকার কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, কারাবন্দীদের অন্য কোনো জায়গায় নেয়া হবে না। -বিবিসি/ সিএনএন

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ