বাংলা ফন্ট

১৩টি মিসাইল ভূপাতিত করার দাবি আসাদের

14-04-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ১৩টি মিসাইল ভূপাতিত করার দাবি আসাদের
দামেস্ক: সিরিয়ার দুমা শহরে রাসায়নিক অস্ত্র নিক্ষেপের প্রতিবাদে দেশটির রাসায়নিক অস্ত্রের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। শনিবার ভোরের দিকে এ হামলা চালানো হয়।

এর কিছুক্ষণ আগেই হামলার নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করা হয়েছে, তারাও হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে। তিন দেশের ছোড়া অন্তত ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) ভূপাতিত করা হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট কতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে তার তথ্য নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। সিরিয়ার আসাদ সরকার বলছে, ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। আর মার্কিন প্রশাসন বলছে, ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন দ্য সিরিয়ান অবজার্ভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, রাজধানী দামেস্কের পার্শ্ববর্তী এবং হোমসের তিনটি রাসায়নিক গবেষণা কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে।

সিরিয়া সরকারের বরাত দিয়ে সংগঠনটি বলেছে, দামেস্ক সরকার আগেই ইঙ্গিত পেয়ে ওইসব স্থাপনা খালি করেছে।

সিরিয়ান কর্মককর্তারা বলছেন, হামলার ব্যাপারে রাশিয়া আগেই ইঙ্গিত দেওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো আগেই খালি করেছেন। ফলে স্থাপনার অবকাঠামো ধ্বংস হলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

এর আগে শনিবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বাহিনী সিরিয়ায় বিমান হামলা করে। দেশটির রাজধানী দামেস্ক, হোমস ও হামা শহরে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।

শুক্রবার দিনের শেষ ভাগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে বলেন, সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের যেসব রাসায়নিক অস্ত্রের স্থাপনা রয়েছে সেসবের ওপর হামলা চালাতে আমি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি।

তবে তিনি যখন এ ঘোষণা দেন ততক্ষণে দামেস্ক, হোমস ও হামা শহরে হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে সিরিয়ার দুমা শহরে রাসায়নিক অস্ত্র নিক্ষেপের ব্যাপারে যে খবর বেরিয়েছে তার জবাবে এ বিমান হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প ও অন্য মিত্ররা।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে হামলায় তার দেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, আমাদের বিকল্প চিন্তা করা উচিত ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে সেটা করার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ক্ষমতা পরিবর্তন কিংবা গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে এই হামলা নয়, বরং রাসায়নিক হামলা থেকে সিরিয়া সরকারকে বিরত রাখতেই এই হামলা।

ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন, বিস্তার ও ব্যবহার বন্ধের উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এ হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু মিসাইল (ক্ষেপণাস্ত্র) ভূপাতিত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই সামরিক অভিযানের পরিণাম ভাল হবে না। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা সহ্য করা হবে না।

আনাতোলি অ্যান্তোনভ নামের ওই দূত টুইটারে বলেছেন, এটি পূর্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা সতর্ক করতে চাই, এই ধরনের হামলা করুন পরিণতি ছাড়া শেষ হবে না।

তিনি আরো বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে নিয়ে ঠাট্টা করা অগ্রহণযোগ্য ও অসহ্যনীয়। যার সবচেয়ে বেশি রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে সেই আমেরিকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই অন্যান্য দেশকে দোষারোপ করার।

ইরান সতর্ক করে বলেছে, এ হামলার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। আর তা হলে তার দায়-দায়িত্ব ওয়াশিংটনের ওপ বর্তাবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সকল পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, সিরিয়ায় এমন কোনো কাজ করা থেকে সকলের বিরত থাকা উচিত, যাতে সেখানকার পরিস্থিতির আরো অবনতি না হয়।

এদিকে, আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের এই হামলার প্রতিবাদে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার হামলার পর দেশটির সেনা সদস্যসহ অন্যরা রাস্তায় বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাদের ছিল সিরিয়ার পতাকা।

রাশিয়া বলছে, সিরিয়ায় তিন দেশের এই হামলার বিষয়টি তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করবে।

সিরিয়ার সরকার এ হামলাকে বর্বর ও আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল




সর্বশেষ সংবাদ