বাংলা ফন্ট

ক্রিকেটারদের 'বিপ টেস্ট' মূলত কী?

28-12-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ক্রিকেটারদের 'বিপ টেস্ট' মূলত কী?
ঢাকা: কোনো ক্রিকেট সিরিজ বা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রতিবারই দেখা যায় ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষার জন্য ক্যাম্প হয়, যেখানে ক্রিকেটাররা জিমনেসিয়াম বা মাঠে নিজেদের ফিটনেসের পরীক্ষা দেন।

মূলত প্রধান স্কোয়াড নির্বাচেনের আগে প্রাথমিক স্কোয়াড নিয়ে এই ফিটনেস পরীক্ষা হয়, যেখানে নিজেদের ফিটনেস প্রমাণ করতে পারলে ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত স্কোয়াড সাজানো সহজ হয়। বোঝা যায় খেলার জন্য কে কতটা ফিট।

শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবোয়ে-বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে জানুয়ারির মাঝামাঝি। এরপর জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে আছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

আজ বুধবার এই সিরিজকে সামনে রেখে বিপ টেস্ট নেয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্থানীয় ট্রেনার ইফতেখারুল ইসলাম বিবিসি বাংলার রায়হান মাসুদকে বলেন খেলোয়াড়দের ফিটনেস বা শারীরিক যোগ্যতা সাধারণ মানুষের ফিটনেস থেকে কিছুটা আলাদা।

''ফিটনেস মূলত দু ধরণের- একটা সাধারণ মানুষের এবং অন্যটা খেলাধুলা বিষয়ক ফিটনেস। খেলাধুলায় থাকতে হলে প্রাসঙ্গিক ফিটনেস প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে,'' বলেন তিনি।

''মূলত ব্যাট, বল বা প্যাড নিয়ে ক্রিকেটারদের দম বিচার করাই বিপ টেস্টের কাজ।''

তিনি বলেন এই বিপ টেস্ট বা ফিটনেস পরীক্ষা বলে দেয় কোন্ ক্রিকেটার খেলার মাঠের জন্য কতটা উপযুক্ত।

এই পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয় ভিওটুম্যাক্স নামে একটি পদ্ধতি। ''এই প্রক্রিয়ায় জানা যায় কি পরিমাণ অক্সিজেন একজন ক্রিকেটার নিতে পারে, যা ক্রিকেটারদের প্রাণশক্তির নির্ণায়ক হতে পারে,'' বলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের স্থানীয় ট্রেনার।

জাতীয় দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ''এই পরীক্ষা করলে আমরা নিজেরাই ভাল ফিল করি, এতে আমরা নিজেদের সম্পর্কে জানতে পারি কে কতটুকু ফিট আছি।''

বিপ টেস্টে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দমের রিডিং ছিল ১৩.৬, যেটা তুলেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

ইফতেখারুল ইসলাম জানান, ''ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা বিপ টেস্টের ফল ছিল সবচেয়ে ভালো। এরপর থেকে তাদের গড় রিডিং ১১.৫ এই থাকছে, যেটা দমের জন্য ভাল রিডিং বলেই ধরা হয়।''

তিনি বলছেন মূলত ক্যাম্পের প্রথম দিন বিপ টেস্টের মান কমই থাকে, কারণ খেলোয়াড়রা ছুটি কাটিয়ে এসে প্র্যাকটিস সেশনে যোগ দেন, কাজেই গোড়ার দিকে তাদের ফিটনেসের মান কিছুটা কমই থাকে। "তবে যত দিন গড়ায় ততই ফিটনেসের মান বাড়ে ক্রিকেটারদের।''

ইসলাম বলছেন যাদের ফিটনেস কম থাকে, তাদের অনুশীলনের মাধ্যমে ফিটনেস বাড়ানো হয়। আর সে কারণেই এই বিপ টেস্ট খুবই জরুরি।

বুধবার বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ২৭জন ক্রিকেটার বিপ টেস্ট দিয়েছেন। মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস অনুপস্থিত ছিলেন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ