বাংলা ফন্ট

যেভাবে ঘুরে দাড়ালো ব্রাজিলের শাপেকোয়েঞ্জা ক্লাব

29-11-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  যেভাবে ঘুরে দাড়ালো ব্রাজিলের শাপেকোয়েঞ্জা ক্লাব
ঢাকা: পুরো ক্লাবের কোচিং স্টাফ এবং পরিচালকরা বিমান দুর্ঘটনার পর মারা গেছেন, সাথে মারা গেছেন ২০ জন সাংবাদিক। বেঁচে ছিলেন শুধু একজন ফুটবলার, রাফায়েল হেনজেল।

৭৭ জনের মধ্যে ৭১ জনই মারা যান এই দুর্ঘটনায়।

লাশবাহী কফিন এলো, তখন বৃষ্টি পড়ছিলো শ্যাপেকোতে।

যাদের বিপক্ষে দলটি খেলতে যাচ্ছিলো কলম্বিয়ার ক্লাব অ্যাটলেটিকো ন্যাসিওনাল, তারা গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

যে ম্যাচ খেলতে বিমানে চেপেছিলো শাপেকোয়েঞ্জা ক্লাব, সেই ম্যাচ যখন হবার কথা তখন পুরো স্টেডিয়াম খুলে দেয় নাসিওনাল ক্লাবের কর্তৃপক্ষ। ভগ্নহৃদয়ে সেখানে জড়ো হন দর্শকরা, বাহিরেও অপেক্ষমান ছিলেন হাজারো দর্শক।

নাসিওনালের সুপারিশে কোপা সুদামেরিকানার শিরোপা ঘোষণা করা হয় শাপেকোয়েঞ্জার নামে।

এটা যে কোনো প্রতীকী সৌজন্যের চেয়েও বড় কিছু ছিলো।

এতে শাপেকোয়েঞ্জার কোপা লিবারটাদোরেসে খেলা নিশ্চিত হয়, যা কিনা দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ফলে ক্লাবটি প্রয়োজনীয় রাজস্ব পেলো, যা কিনা তাদের ঘুরে দাড়াতে সাহায্য করে।

বিপর্যয়ের পর ২-৩ বছর শ্যাপেকোয়েন্সকে অবনমন থেকে ছাড় দেয়া হয়, যাতে করে ক্লাবটি পুনগর্ঠনের সময় পায়।

তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই সুবিধা নিতে চায়নি। তারা নিজ যোগ্যতায় ঘুরে দাড়াতে চেয়েছে।

কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলটি। শুরুতে কোচিং স্টাফ খেলোয়াড়দের তালিকা দেয় সেই তালিকা অনুযায়ি ফুটবলার কেনে তারা।

সম্মানিত কোচ ভ্যাগনার মানচিনি ক্লাবের দায়িত্ব নেন। অন্য ক্লাবগেুলো খেলোয়াড় ধার দিয়ে সাহায্য করে।

প্রথম বিভাগ ফুটবল শুরু হয় মে মাসে। এতে ক্লাবটি পুনগর্ঠনের কিছুটা সময় পেয়েছে।

ব্রাজিলে বছরের শুরুর মাসগুলোতে রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা হয়। যেখানে শ্যাপেকোয়েন্স সান্টা ক্যাটারিনা রাজ্যের হয়ে খেলে।

এই চ্যালেঞ্জে সফল হয় ক্লাবটি। বিমান দুর্ঘটনার ঠিক ছয় মাস পরে পয়েন্ট তালিকার সবার ওপরে ছিলো শ্যাপেকোয়েন্সের নাম।

এটা ধরে রাখা খুব কঠিন ছিলো, শুরুর দিককার পয়েন্ট বেশ সাহায্য করে শাপেকোয়েঞ্জাকে।

লিবারতাদোরেসেও বেশ ভালো শুরু করে দলটি, যদিও সেটা আরো ভালো হতে পারতো।

সেন্টার ব্যাক লুইজ ওটাভিওকে সাসপেন্ড করা হয় কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ সে ইমেইলটি খেয়াল করেনি। তার গোলেই আর্জেন্টাইন ক্লাব লানুসের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতে শাপেকোয়েঞ্জা।

পরবর্তীতে সে ম্যাচে লানুসকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। যার ফলে নকআউট পর্বে খেলতে পারেনি শাপেকোয়েঞ্জা।

শাপেকোয়েঞ্জা ফিরে আসে কোপা সুদামেরিকানায়।

কিন্তু সেখানে ব্রাজিলের দল ফ্ল্যামেঙ্গোর কাছে ৪-০ গোলের অগ্রগামীতায় হেরে যায় ক্লাবটি।

প্রথম বিভাগে টিকে থাকাই শাপেকোয়েঞ্জার মূল লক্ষ্য ছিলো। তবে যত দিন গড়িয়েছে ততই কঠিন হয়েছে।

ভ্যাগনার মানচিনির আক্রমণাত্মক ফুটবলের পরিকল্পনা সাজান।

ফলে চার রাউন্ড বাকি থাকতেই পরের বছর প্রথম বিভাগ ফুটবল খেলা নিশ্চিত করে ক্লাব শাপেকোয়েঞ্জা।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল

সর্বশেষ সংবাদ