বাংলা ফন্ট

‘টসে জেতাটাই ভুল হয়ে গেছে!’

07-10-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

‘টসে জেতাটাই ভুল হয়ে গেছে!’


ঢাকা: চাপ নেওয়ারও তো একটা সীমা থাকে। মুশফিকুর রহিমের সেই সীমা সম্ভবত ইতোমধ্যে অতিক্রম করে ফেলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে একের পর এক বিতর্কে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতার দায়ভার গিয়ে চাপছে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের অধিনায়কের কাঁধেই।

আর এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন মুশফিক, যার স্পষ্ট ছাপ রয়ে গেলো ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষের সংবাদ সম্মেলনে।

পচেফস্ট্রুমে সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে বোলিং নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে রানের পাহাড় গড়ে তুলেছিল প্রোটিয়ারা, যার প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশের ম্যাচ হারা পর্যন্ত। দ্বিতীয় টেস্টেও মুশফিক নিলেন সেই একই সিদ্ধান্ত। যদিও আগের টেস্টের মতো এই টেস্টে আগে বল করার সিদ্ধান্তকে শতভাগ ‘ভুল’ আখ্যা দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু প্রথম দিন শেষে ৪২৮ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা যে ইতোমধ্যে নিয়ে নিয়েছে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ!

মুশফিকের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা তাই চলছেই। আর তাই সংবাদ সম্মেলনে ২৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার হতাশা প্রকাশ করলেন এভাবে- ‘আমার তো মনে হচ্ছে, টসে জেতাটাই ভুল হয়ে গেছে ভাই! শেষ দুইটা ম্যাচে যা হচ্ছে, জীবনে কখনও এমন হয়নি- মনে হচ্ছে টস হারলেই ভালো হয়।’

পচেফস্ট্রুম টেস্টের মতো এই ম্যাচেও গ্লাভসজোড়া তুলে রেখেছেন মুশফিক। ম্যাচে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন লিটন কুমার দাস, মুশফিক আছেন সাধারণ ফিল্ডার হিসেবে। তবে প্রথম দিনের প্রায় পুরো ভাগেই মুশফিক ছিলেন বাইরের ফিল্ডার হিসেবে। বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই ব্যাপারটিও। মুশফিক জানালেন, কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের নির্দেশেই অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও তিনি ছিলেন মাঠের বাইরের দিকে!

মুশফিক বলেন, ‘আমি একটা ব্যাপার পরিষ্কার করি, আমি ফিল্ডার হিসেবে খুব একটা ভালো না। আমার কোচরা চেয়েছে আমি যেন বাইরে বাইরে ফিল্ডিং করি। কারণ, আমি সামনে থাকলে আমার কাছ থেকে নাকি রান হয়ে যায়। বা আমার হাতে ক্যাচ-ট্যাচ আসলে নাকি (ধরার) চান্স থাকে না। টিম ম্যানেজমেন্ট যেটা বলবে, সেটা তো আপনার করতে হবে। আমি চেষ্টা করেছি, বেশিরভাগ সময় বাইরে বাইরে থাকার। যখন ভেতরে ছিলাম তখন চেষ্টা করেছি, বোলারদের সঙ্গে কথা বলার।’

ম্যাচ শুরুর আগে ক্রিকেট বিজ্ঞদের অনেকেই বলছিলেন টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার কথা। মুশফিক টস-ভাগ্যে জয়লাভ করে সেটি করেছিলেনও। তবুও সফল হতে পারেনি দল। আয্র সেই ব্যর্থতা তিনি নিচ্ছেন নিজ কাঁধেই, ‘অবশ্যই এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা। আমি হয়তো দলকে সেভাবে উৎসাহ দিতে পারছি না। বা বোলারদের সেভাবে গাইড করতে পারছি না। বোলাররা চেষ্টা করছে হয়তোবা, হয়নি। এটা আমার ব্যর্থতা।’

বোলারদের মলিন পারফরমেন্স প্রসঙ্গে মুশফিক বলেন, ‘এটা আমারও ব্যর্থতা হতে পারে। আমি হয়তো ঠিক মতো বার্তাটা দিতে পারিনি। মাঠে আমি হয়তো বোলিং করে জায়গায় ফেলতে পারিনি! এছাড়া তো আমার আর কিছু বলার নেই।’

বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ তার খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার। কথিত আছে, নেটে বল হাতে এখনও নাকি টাইগার ব্যাটসম্যানদের নাস্তানাবুদ করে থাকেন তিনি। তবে এমন কোচের অধীনেও বোলারদের উন্নতি করতে না পারা মুশফিকের চোখে ব্যর্থতাই, ‘আমাদের এতো ভালো ভালো কোচ আছে। এখন আমাদের বোলিং কোচ নিজে গিয়ে তো আর মাঠে বোলিং করবেন না।… কেউ যদি শিখতে না পারে, বাস্তবায়ন না করতে পারে, সেটাকে আমি আমাদের ব্যর্থতা বলব।’

মুশফিকের মতে, টস জিতে বল হাতে নেমে ভালো করার সুবর্ণ সুযোগ ছিল বাংলাদেশের, ‘অনেক বড় একটা সুযোগ ছিল। ওরা যদি নতুন বলটা ব্যবহার করতে পারত, তাহলে শুরুতে দুই-তিনটা উইকেট পড়তে পারতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা হয়নি, এর বেশি আর কিছু বলার নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বোলিংয়ের জন্য শুরুতে এটা খুব ভালো উইকেট ছিল। কিন্তু আমাদের বোলাররা সেই সুবিধাটা নিতে পারেনি। প্রথম সেশনে আমরা অনেক রান দিয়েছি। হয় ওরা খুব ফুল লেংথে বল করেছে নয়তো অনেক বেশি টেনে করেছে। ওরা সঠিক-লাইন লেংথ খুঁজে পায়নি প্রথম সেশনে।’

ম্যাচে ব্যাকফুটে থাকা বাংলাদেশের লক্ষ্য আপাতত দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস বড় করতে না দেওয়া বলে জানান মুশফিক, ‘যে দুই জন ব্যাটসম্যান এখন খেলছে, তাদের যদি কাল দ্রুত ফেরাতে পারি তাহলে চেষ্টা থাকবে ওদের একশ-দেড়শ রানের মধ্যে অলআউট করার।‘

বল হাতে ব্যর্থতার কারণে হতাশা প্রকাশ করে মুশফিক বলেন, ‘দিনটি তো অবশ্যই ভালো কাটেনি না। যে কারণে আমরা টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছি, প্রথম দুই ঘণ্টায় উইকেটে যে সহায়তা ছিল সেটা নেওয়ার মতো মানসম্পন্ন বোলিং আমরা করতে পারিনি। সে দিক থেকে হতাশ। এই উইকেটে ওরা বোলিং করলে কেমন করতো সেটা দেখাই যেত।‘

বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রথম সেশনটা যে কোনো ব্যাটসম্যানের জন্য কঠিন। সেই সময়ে যদি অনেক রান হয়ে যায় তাহলে তাদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়। প্রথম সেশনটা আমাদের অনেক ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে।‘

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল



সর্বশেষ সংবাদ