বাংলা ফন্ট

ক্রীড়া ক্যাম্পগুলোতে নারী খেলোয়াড়রা কতটা নিরাপদ?

27-11-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ক্রীড়া ক্যাম্পগুলোতে নারী খেলোয়াড়রা কতটা নিরাপদ?

ঢাকা: সম্প্রতি বাংলাদেশের এক নারী ভারোত্তোলককে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

যার ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন বলে পরিবার থেকে জানা যায়।

অভিযোগের তীর ভারোত্তোলন ফেডারেশনেরই একজনের দিকে।
মহিলা হ্যান্ডবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সানজিদা আক্তার উর্মি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে ভারোত্তোলন ফেডারেশন।

আক্রান্ত নারীকে আর্থিক ও আইনী সহায়তার আশ্বাসও দেয়া হয়েছে।

ভারোত্তোলন ফেডারেশনের কর্তারা হাসপাতালে গিয়ে সেই খেলোয়াড়কে চিকিৎসার খরচ প্রদান এবং অভিযুক্তকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নজরুল ইসলাম।

সংস্থাটির সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে জানান, এই ঘটনায় মামলা করার দায়িত্ব অভিযোগকারীর। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নিয়েছি।

এই ঘটনার পর বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মাহফুজা শিলা বাংলাদেশের অন্যতম সফল একজন সাঁতারু, যিনি দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী।

সুইমিং ফেডারেশনেও এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছে আখ্যা দিয়ে এই সাঁতারু বলেন, এসব ঘটনার বিচার তেমনভাবে হয় না। ঘটনা যখন আলোচনা হয় তখন বেশ কিছু শাস্তির কথা বলা হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ঘটনা কেউ মনে রাখে না।

মিজ শিলা বলেন, "সুইমিং ফেডারেশনেও এমন ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু বিচার হয়নি কখনোই। কোন না কোন ভাবে সেসব ঘটনা ঢেকে গেছে, এমন কিছু করতে হবে যেসব পুরুষ এমন মানসিকতা রাখে যাতে তারা ভয় পায়।"

ভারোত্তোলন ফেডারেশনের ঘটনাটিকে বিশ্রী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াকে অনুৎসাহিত করবে। অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে মেয়েদের খেলতে পাঠাতে পারবে না।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মেয়েদের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন প্রশাসন চেষ্টা করে কিন্তু শাস্তি দেয়া হয় না। শাস্তি কিছুই হয়নি। সময়ের প্রেক্ষাপটে ঘটনা যখন ঘটে যায় পরবর্তীতে এসব করতে সাহস পায়

"একটা ভয় কাজ করে, মেয়েদের মধ্যে যে অভিভাবকরা উৎসাহ পাচ্ছে না, কোনো মেয়েই নিরাপদ নয় এমন একটা অনুভূতি কাজ করে," বলছিলেন ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে দুটো স্বর্ণজয়ী মাহফুজা শিলা।

আরো একটি ব্যাপার শিলার সাক্ষাৎকারে উঠে আসে, যখন কোনো প্রতিনিধি দল বিদেশে কোনো গেমসে কাজ করে তখন কোনো মেয়েকে যাতে একা পাঠানো না হয়। এটা যতটা না নিরাপত্তার জন্য তার চেয়ে বেশি অস্বস্তির।

রোকেয়া সুলতানা সাথী, একজন নারী ভারোত্তোলক তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, "যেহেতু বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে সেক্ষেত্রে যদি ঘটনাটি সত্য হয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।"

তিনিও শাস্তির কঠোর বিধানের কথা বারবার বলেছেন। মেয়েদের যে নিরাপত্তার একটা ব্যাপার থাকে সেটা অনুভব করতে হবে ফেডারেশনের ভেতর থেকে।

পারভিন নাছিমা নাহার পুতুল বাংলাদেশের একজন প্রবীণ নারী ক্রীড়াবিদ ও নারী সংগঠক।

তিনি বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ফেডারেশনের নারীদের ক্রীড়ার সাংগঠনিক কাজে জড়িত।

"বাংলাদেশের মেয়েরা অনেক বাঁধা অতিক্রম করে এখানে আসে। এখানে এ ধরণের ঘটনা ঘটলে মেয়েরা আসবে না। এমনি ফেডারেশনগুলো নিয়মিত এনিয়ে কাজ করে থাকে," বলছিলেন মিজ পুতুল।

এর আগেও বাংলাদেশের নারী ক্রীড়া কমপ্লেক্সের গোসলখানার ছাদে ছিদ্র পাওয়া যাওয়ায় বেশ আলোচনা হয়।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ