বাংলা ফন্ট

প্রত্যাশার চাপে ডুবলো আর্জেন্টিনা

23-06-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 প্রত্যাশার চাপে ডুবলো আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক: লিওনেল মেসিকে চার বার স্পেন থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল সেই দেশের হয়ে খেলার জন্য। ছোটবেলা থেকে স্পেনে বড় হয়ে ওঠায় এই সুযোগও ছিল তার সামনে। কিন্তু মেসি বারবারই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন আর্জেন্টিনার জন্য। তার স্বপ্ন ছিল, আর্জেন্টিনার হয়ে একটা ট্রফি জিতবেন, একটা বিশ্বকাপ জিতবেন। সেই স্বপ্ন সত্যি হওয়া এখন অসম্ভবের পথে চলে গেছে।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত, কিন্তু বাস্তবসম্মত এক বড় পরাজয়ে আর্জেন্টিনার এবার দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলাটাই অনিশ্চিত হয়ে গেছে। অথচ এই ম্যাচের আগে পর্যন্তও এই আর্জেন্টিনাকে নিয়ে, বিশেষ করে মেসিকে নিয়ে কতো বড় বড় স্বপ্ন ছিল দেশটির সমর্থকদের। এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই স্বপ্ন আর অতি প্রত্যাশাই স্থবির করে দিয়েছে আর্জেন্টিনা দলকে। এই প্রত্যাশার চাপ নিতে না পারাতেই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নিষ্প্রভ হয়ে রইলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি।

কারণ যাই হোক, আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়ার সাথে হেরেছে। এই পরাজয় তাদের খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া আর্জেন্টিনা শিবির থেকে এখন ভেসে আসছে নানা ধরনের গুঞ্জন। আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, দলের মধ্যে এখন চরম দলাদলি ও কোন্দল চলছে। এই দলাদলিটা নাকি কোচ হোর্হে সাম্পাওলির সাথে খেলোয়াড়দের; বিশেষ করে মেসি ও তার অনুগত খেলোয়াড়দের। এমনও বলা হচ্ছে, এই কোন্দলের জের ধরে বিশ্বকাপ চলা অবস্থায়ই বরখাস্ত হতে পারেন কোচ সাম্পাওলি। অন্য দিকে আরেক গুঞ্জন বলছে, বিশ্বকাপ শেষ হওয়া মাত্রই চূড়ান্তভাবে অবসরে চলে যাবেন লিওনেল মেসি ও তার অন্তরঙ্গ বন্ধু সার্জিও আগুয়েরো।

বলা হচ্ছে, এই সবকিছুর শুরু হয়েছে মেসির ওপর প্রবল প্রত্যাশা থেকে। আর্জেন্টিনা দলে মেসি কখনোই ক্লাবের মতো সমর্থন পাননি। বার্সেলোনায় মেসিকে বল জোগান দেওয়ার জন্য আগে ছিলেন জাভি-ইনিয়েস্তা, এখন আছেন রাকিটিচ-বুস্কেটস-কোটিনহোরা। এখানে যে সমর্থন তিনি সতীর্থদের কাছ থেকে পান, তা কখনোই জাতীয় দলে পাননি। তারপরও গত আসরে, ২০১৪ বিশ্বকাপে দলকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে। কারণ, কিছুটা হলেও হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানো, ডি মারিয়াদের সমর্থন পেয়েছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে দলটায় সে সমর্থনও পাচ্ছেন না।

আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক অসি আর্দিলেজ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পরই বলেছেন, এটা আর্জেন্টিনার ইতিহাসের জঘন্যতম দল। তার দাবি, মেসিকে সামান্যতম সহায়তা করার মতো কোনো খেলোয়াড় এই দলে নেই। অথচ মেসির ওপর বিশ্বকাপ জেতানোর চাপ ছিল যে কোনো ফেবারিট দলের মতোই। এই দলটা বাছাইপর্বেই বাদ পড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু মেসি হ্যাটট্রিক করে বের করে এনেছেন সেখান থেকে দলকে। তার ফলে প্রতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রত্যাশা থাকে, মেসি অমন কোনো জাদু করে বের করে আনবেন আর্জেন্টিনাকে। সেই প্রত্যাশাই সম্ভবত লিওনেল মেসিকে স্থবির করে দিয়েছিল এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।

এদিকে আর্জেন্টিনার পত্রিকা মুন্ডো আলবিসিলেস্তে লিখেছে, এই অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর দলে এক ধরনের বিদ্রোহ হয়েছে। খেলোয়াড়রা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা বর্তমান কোচ সাম্পাওলির অধীনে আর খেলবেন না। তেমনটা হলে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেই কোচ হিসেবে দেখা যেতে পারে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ও এখন আর্জেন্টিনা দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হোর্হে বুরুচাগাকে।

আবার অন্য কোনো কোনো আর্জেন্টাইন পত্রিকা দাবি করছে, এমনকি কিছু ইংলিশ সংবাদ মাধ্যমও দাবি করছে, এই পরাজয়ের ফলে মেসি আরেকবার অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। এর আগে ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর নেন। কিছুদিনের মধ্যেই অবশ্য অবসর ভেঙে ফিরে আসেন। এবার বলা হচ্ছে, অন্তত মেসি ও আগুয়েরো স্থায়ীভাবেই অবসর নিতে যাচ্ছেন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ