বাংলা ফন্ট

পর্দা উঠল ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার

01-01-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 পর্দা উঠল ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার

ঢাকা: ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার পর্দা উঠল। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবারের মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মেলার মাঠে স্টল সহজে খুঁজে বের করতে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে মোবাইল অ্যাপস ও ডিজিটাল স্ক্রিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাণিজ্যমেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৫৮৯ স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে। মেলায় ১৭ দেশের ৪৩ প্রতিষ্ঠানের স্টল বা প্যাভিলিয়ন থাকছে। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য থাকছে দুটি শিশুপার্ক, সুন্দরবনের আদলে একটি ইকোপার্ক।

নিরাপত্তায় মেলায় পুলিশ ও র‌্যাবের ওয়াচ টাওয়ারসহ আনসার ও ভিডিপি, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, বিজিবি এবং র‌্যাব সদস্যরা মোতায়েন থাকছে। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেলায় কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। প্রবেশ ফি প্রতিজন ৩০ টাকা। ছোটদের জন্য ২০ টাকা।

এবারের মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, নেপাল, হংকং, জাপান, আরব আমিরাত, মরিশাস, ঘানা, মরক্কো ও ভুটান। অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করছে।

মেলাকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে মেলায় ফিশ ও বার্ড অ্যাকুরিয়াম প্রদর্শন করা হয়েছে, শিশুদের জন্য থাকছে পার্ক, গেমিং জোন ও খেলার উপকরণ।

এবারের মেলার মূল ফটকে তুলে ধরা হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

উদ্যোক্তরা জানান, ‘আমরাও পারি’ থিম নিয়ে আয়োজিত ২৩তম বাণিজ্যমেলার মূল ফটকটি পদ্মা সেতুতে স্থাপিত প্রথম স্প্যানটির আদলে নির্মাণ করা হয়েছে।

মেলার ভেতরটায় বেশ ফাঁকা জায়গা রেখে এর দুই প্রান্ত সুন্দরবন ইকোপার্কের আদলে তৈরি করা হয়েছে। চলার পথগুলো অতীতের চেয়ে আরও প্রশস্থ করা হয়েছে। মেলায় দুটি শিশুপার্ক, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মা ও শিশু কেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে। আরও রয়েছে অর্কিড বাগান।

গত বছরের তুলনায় এ বছর বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের আকার দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় এ প্যাভিলিয়নটি নান্দনিক করে সাজানো হয়েছে। যাতে নতুন প্রজন্ম এবং দেশি-বিদেশি সবাই বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে।

এ ছাড়া বাণিজ্যমেলাকে পর্যায়ক্রমে ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চুয়াল ট্যুরের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গুগল স্ট্রিট ভিউ, ওয়েবসাইট, ফেসবুক, গুগলে দেশ-বিদেশ থেকে যে কেউ, যে কোনো সময়ে অনলাইনে VR Goggles এর সাহায্যে অনলাইনে বসে বাণিজ্যমেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন। ই-শপের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতারাও পণ্য পরিসেবার আওতায় আসবেন। ডিআইটিএফ ২০১৮-এর লে-আউট প্ল্যান এবার ডিজিটাল ব্লো-আপ বোর্ডের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ