বাংলা ফন্ট

রফতানিকৃত গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হয়ে উঠছে অন্তর্বাস

15-09-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 রফতানিকৃত গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হয়ে উঠছে অন্তর্বাস

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের রফতানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক থেকে। আর তৈরি পোশাক খাতে মোট ৩ হাজার কোটি ডলার রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে মাত্র পাঁচটি পণ্য থেকে। এগুলো হলো- টি-শার্ট, ট্রাউজার, শার্ট, জ্যাকেট ও সোয়েটার। তবে আশার কথা হলো, রফতানি আয়ে পণ্যগুলোর ওপর এ নির্ভরতা কাটতে শুরু করেছে। বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রফতানিকৃত গুরুত্বপূর্ণ পোশাক পণ্য হয়ে উঠছে ল্যানজারি বা নারীদের অন্তর্বাস।

রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে ল্যানজারি রফতানি বাবদ বাংলাদেশের আয় ১০০ কোটি ডলার ছাড়ায়। গত অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত তিন অর্থবছরে এ খাতে রফতানি আয় বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ল্যানজারি রফতানি হয়েছিল ৯২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলারের। ২০১৬-১৭ অর্থবছর রফতানি আয় শতকোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। ওই অর্থবছরে আয় হয়েছিল ১০৭ কোটি ৩২ লাখ ১০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) পণ্যটি রফতানি বাবদ আয় হয়েছে ১১৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এ হিসেবে তিন বছরে আয় বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

ইপিবির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৫ ধরনের ল্যানজারি বাংলাদেশে তৈরি ও রফতানি হয়। এর মধ্যে রয়েছেÑ ব্রেসিয়ার্স, ওভেন প্যান্টিজ, নিট পায়জামা, নিট ম্যান-মেড প্যান্টিজ, নিট ম্যান-মেড পায়জামা, ম্যান-মেড ফাইবার পেটিকোটস, নিট নেগলিজি, ম্যান-মেড ফাইবার নেগলিজি, করস্টেস। তবে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় ব্রেসিয়ার্স। ল্যানজারি রফতানি বাবদ মোট আয়ের ৩৫ শতাংশই আসে পণ্যটি থেকে।

দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে তৈরি ব্রেসিয়ার্সের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাজ্য। দেশটি থেকে গত অর্থবছর আয় হয় ৭ কোটি ২৯ লাখ ৩১ হাজার ডলার। এরপরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত অর্থবছর দেশটি থেকে আয় হয় ৬ কোটি ৯৫ লাখ ৪৮ হাজার ১৮৬ ডলার। ব্রেসিয়ার্সের তৃতীয় বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য জার্মানি। পণ্যটির বড় বাজারের মধ্যে আরো রয়েছে নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, সুইডেন ও বেলজিয়াম।

বাংলাদেশ থেকে ল্যানজারি রফতানি করেÑ এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হপলুন, অ্যাপেক্স, ডিবিএল, ম-ল, চরকা, ইউনুসকোর নাম উল্লেখযোগ্য। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছেÑ এইচঅ্যান্ডএম, কেমার্ট, ডেবেনহ্যামস, অ’স্টিন, সেলিও, অশান, নেক্সট, প্রাইমার্ক, জুলস ও ওয়ালমার্ট।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিয়ন মার্কেট রিসার্চের গ্লোবাল ল্যানজারি মার্কেট শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পণ্যটির বৈশ্বিক বাজারের আকার দাঁড়াবে ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। গত বছর তা ছিল ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। এ হিসেবে ল্যানজারির বৈশ্বিক বাজারের আড়াই শতাংশের বেশি হিস্যা বাংলাদেশের, যা ক্রমেই বাড়ছে।

পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের রফতানি খাতের ভবিষ্যৎ আরো টেকসই করার জন্য এ খাতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। আর এর একটি উপায় হচ্ছে, বর্তমানে যে পণ্যটির সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি, তার মাধ্যমেই বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা। এ বাস্তবতা থেকেই ল্যানজারির মতো পণ্য তৈরিতে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকরা এখন আগের চেয়ে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর এ পণ্যের মূল্য সংযোজন মাত্রা বাড়ানোও বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য তুলনামূলক সহজ।

বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সমিতি বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের বর্তমান সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ল্যানজারির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। অনেক কারখানাই এখন অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি ল্যানজারির জন্য পৃথক লাইন রাখতে শুরু করেছে। হাই ভ্যালু পণ্য তৈরি ও রফতানি খাতকে বৈচিত্র্যময় করার ক্ষেত্রে পণ্যটির অবদান রাখার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল

সর্বশেষ সংবাদ