বাংলা ফন্ট

নগদ টাকার সঙ্কটেও চাপ নেই কলমানি মার্কেটে

13-08-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 নগদ টাকার সঙ্কটেও চাপ নেই কলমানি মার্কেটে

ঢাকা: দেশের ব্যাংকগুলোতে ভয়াবহ তারল্য (নগদ টাকা) সঙ্কট চলছে। আর এ সঙ্কট কাটাতে সরকারি বেসরকারি নানান উদ্যোগও বেশ চোখে পড়ার মত। কিন্তু অর্থনীতির নিয়মানুযায়ী নগদ টাকার সঙ্কটের সময় কলমানি মার্কেটের উপর চাপ পড়ে। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে তলানীতের রয়েছে কলমানি মার্কেটের লেনদেন। আবার সুদ হারও গড়ে দুই শতাংশের নিচে রয়েছে। আর ঈদ উপলক্ষে ব্যাংকগুলোতে টাকার ব্যাপক লেনদেন হলেও কলমানিতে চাহিদা বাড়ছে না।
 
সাধারণত, সঙ্কটের সময় এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে সাময়িকভাবে টাকা ধার নেয়। এক রাতের (ওভার নাইট) জন্য এই ধার দেওয়া হয়। এই ধার দেওয়া-নেওয়া কার্যক্রম সম্পন্ন হয় আন্তঃব্যাংক কলমানি মার্কেট। নগদ টাকা ধারের চাহিদার ওপর এ মার্কেটের সুদহার ওঠানামা করে।
 
প্রতি বছরই ঈদের আগে গ্রাহকদের নগদ টাকার চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ। ফলে এ সময় অনেক ব্যাংকে নগদ টাকা সঙ্কট দেখা দেয়। এই সংকট মোকাবিলায় আন্তঃব্যাংক কলমানি বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে ব্যাংকগুলো। নগদ টাকার সঙ্কট বেশি হলে আন্তঃব্যাংক কলমানিতে বেশি সুদে অর্থ ধার করতে হয়। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরেই এ চিত্র আর দেখা যাচ্ছে না। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এর আগে ব্যাংকগুলোর হাতে প্রচুর নগদ টাকা থাকায় কলমানি মার্কেটে টান পড়েনি। তবে গত বছরের শেষ দিক থেকে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সঙ্কট শুরু হয়।
 
বেসরকারি খাতের ফারমার্স ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের কারণে আস্থার সঙ্কটে ব্যাংকটি থেকে টাকা তুলতে শুরু করেন আমানতকারীরা। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও বেসরকারি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করেন। আবার আমদানি চাপ মেটাতে ব্যাংকগুলো নগদ টাকা দিয়ে প্রতিদিন কেন্দ্রীয়  ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে হয়েছে।
 
এমন পরিস্থিতির কারণে অলস টাকার পাহাড় থেকে হঠাত্ অর্থসঙ্কটে পড়তে শুরু করে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। ফলে টাকা সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় আমানতের সুদহারের পাশাপাশি ঋণের সুদ হারও বেড়ে যায়। ওই সময় আন্তব্যাংক কলমানি রেটও কিছুটা বেড়েছিল। পরে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর উদ্যোগে ব্যাংক ঋণের সুদ ও আমানতের সুদহার নির্ধারিত করে দেওয়া হয়। জুলাই মাসের প্রথম থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ এবং ৬ শতাংশ সুদে আমানত রাখার কথা বলা হয়। সব ব্যাংক তা মানেনি। পরে যেসব ব্যাংক এ  নির্দেশনা মানেনি তারা গত ৯ আগস্ট থেকে মানবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
 
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি মাসের ৮ তারিখে আন্তঃব্যাংক কলমানি মার্কেটে গড় সুদের হার ছিল এক দশমিক ৭৬ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল তিন দশমিক ৬২ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরেই আন্তঃব্যাংক কলমানি সুদের হার ৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। কলমানি মার্কেটে সুদের হার সবচেয়ে বেশি হয়েছিল ২০১১ সালে। ওই বছরে সুদের হার ১০০ শতাংশের উপরে উঠে যায়।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ