বাংলা ফন্ট

'এখন আর বংশালের লোকজন অদ্ভুত চোখে তাকায় না'

28-09-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

   'এখন আর বংশালের লোকজন অদ্ভুত চোখে তাকায় না'
ঢাকা: তানিয়া ওয়াহাব, মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তখন তাঁর সম্বল ছিল একটি মেশিন আর একজন শ্রমিক।

আর ছোটবেলা থেকে তাঁর স্বপ্ন ছিল ভিন্ন কিছু করার। লেদার টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি।

আস্তে আস্তে করে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন তিনি। আজ তার সেই ব্যবসায়ের বার্ষিক লেনদেন এক কোটি টাকার ওপরে।

কিন্তু ব্যবসার শুরুতে বেশ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে মিস ওয়াহাবকে। কারণ এক নারী চামড়ার পণ্য নিয়ে ব্যবসা করবে তা তখন লোকে সহজভাবে নিতো না।

"ফার্স্ট জেনারেশন লেদার প্রোজাক্টের বিজনেসের উদাহরণ নাই। এটা তিন-চার পুরুষের ব্যবসা। আমি যখন ব্যবসা শুরু করেছি বিশেষ করে হাজারীবাগে জায়গা খুঁজতে গেছি যখন বেশিরভাগ লোকজন আমাকে ভাড়া দিতে চাচ্ছিল না। কারণ এই এলাকায় কোনো মেয়েতো ব্যবসা করতে আসে না। আর আমিতো ওই এলাকার মেয়েও না। পড়ালেখা করতে গেছি সেখানে"।

এরপর বংশালে যখন কিছু কিনতে যেতাম অদ্ভুত কথা বার্তা শুনতে হতো। ওরা কখনো কোনো মেয়েকেই ওখানে দেখে নাই, উল্টাপাল্টা কথাও বলতো। তখন মনে হতো, আমি কি ভুল কাজ করছি নাকি ঠিক পথে এগুচ্ছি"।

প্রথমে পরিবার থেকেও সমর্থন তেমন ছিল না বলে জানান তানিয়া ওয়াহাব।

"আমার মনে হয়েছে যে আমি কাজ দিয়ে আমাকে প্রমাণ করবো। এটাতো আমার স্বপ্ন, আমার স্বপ্ন অন্য কেউ পূরণ করবে না। আমার স্বপ্ন আমাকেই পূরণ করতে হবে"।

তানিয়া ওয়াহাব মনে করেন এখন পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনেক বেশি পাল্টেছে।

"এখন অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এই সেক্টরে আসছে। অনেক মেয়েরা আসছে। আমাকে দেখেও অনেকে উৎসাহিত হয়ে এই সেক্টরে আসছে। এখন বেসরকারি পর্যায়ে অনেক মেয়েকে আলাদা সুবিধা দেয়া হয়, ব্যাংকের সুবিধাও আছে। মেয়ে বলে আমিও কিন্তু আলাদা সুবিধা পেয়েছি"।

তানিয়া ওয়াহাবের প্রতিষ্ঠানে চামড়ার তৈরি মেয়েদের ব্যাগ, জুতা, চামড়ার ফাইল, চাবির রিং ইত্যাদি তৈরি হয়। এসব অনেকগুলো দেশেও পণ্য রপ্তানি হচ্ছে ।

তিনি বলছিলেন "এখন আর বংশালের লোকজন অদ্ভুত চোখে তাকায় না, এখন তারা জানে যে অনেক মেয়ে এই সেক্টরে কাজ করছে"।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল





সর্বশেষ সংবাদ