বাংলা ফন্ট

মায়ের কোলে হাসিখুশি তোফা-তহুরা

27-08-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  মায়ের কোলে হাসিখুশি তোফা-তহুরা
ঢাকা: বিছানার উপর উপুড় হয়ে শুয়ে হাসি-খুশি তহুরা, লাফালাফি করছে। আর মায়ের কোলে শুয়েই মুখে খুশির ঝিলিক তোফার। অথচ দেখে বোঝার উপায় নেই, এই শিশু দুটি ক’দিন আগে ছিল জোড়া লাগানো। মৃত্যু ঝুঁকি উঁকি দিচ্ছিল শিশু দু’টির দিকে। অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার আগে চিকিত্সকরা বারবার মায়ের কাছে জিজ্ঞেস করেছেন তারা অপারেশন করবেন কি-না? মনকে কঠোর করে অনুমতি দিয়েছেন মা সাহিদা বেগম। চিকিত্সকদের সর্বাত্মক চেষ্টা আর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আজ নতুন করে বাঁচতে শিখছে তোফা আর তহুরা। তাই আজ চিকিত্সক আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই সাহিদার। মুখে কিছুই বলতে পারেন না, শুধুই কাঁদেন। তোফা-তহুরাকে পৃথক করা চিকিত্সক দলের প্রধান পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের  অধ্যাপক ডা. শাহানুর ইসলামের সঙ্গে গতকাল শনিবার দুপুরে ৬৮ নম্বর কেবিনে গেলে এমন দৃশ্যই চোখে এলো। এ প্রতিবেদকসহ কয়েকজন সাংবাদিক গতকাল ওই কেবিনে গেলে সাহিদা বেগম শুধুই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিছানায় শুয়ে থাকা তহুরার দিকে তাকিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে প্রতিবেদকের হাত থেকে কলমটি নিয়ে নেয় সে। কোনোভাবেই সেটি ছাড়তে চায়নি। তবে চিকিত্সকদের প্রতি তোফা-তহুরার বিরক্তি আছে। কারণ ড্রেসিং করার সময় চিকিত্সকরা তাদের ‘কষ্ট’ দেয়- এ কারণেই হয়তো এই বিরক্তি। সুস্থ তোফা-তহুরার এবার ঈদ গাইবান্ধার বাড়িতেই করার কথা ছিল। কিন্তু বন্যার কারণে সেখানকার পরিবেশ তোফা-তহুরার উপযুক্ত না হওয়ায় চিকিত্সকরা ছাড়েননি।

অধ্যাপক ডা. শাহানুর ইসলাম এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘ওদের পৃথক করার অপারেশনটি ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের সঙ্গে তাদের মা সাহিদাও বেশ সাহস দেখিয়েছেন। এ কারণে আমাদের মনোবল বেড়েছে। পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে দু’টি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সেখানে সিআম, আল্টাসাউন্ডসহ অনেক কিছুই নেই। ফলে এই অপারেশনটি করতে হয়েছে নিউরো সার্জারি বিভাগের ওটিতে।’ তিনি বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞ নিউরো সার্জারি, প্লাস্টিক সার্জারি, অর্থপেডিক, এনেসথেশিয়াসহ অন্যান্য সকল বিভাগের প্রতি। সর্বপরি পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের প্রধানসহ সকল সহকর্মীর প্রতি। তারা সহযোগিতা না করলে হয় এই কঠিন অপারেশনটি সম্ভব হতো না। তোফা-তহুরার জন্য যত ওষুধ লাগছে তার সবই দিচ্ছেন তিনি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর আমি নিজেও কিছু টাকা দিয়ে তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছি। শিশু দুটিকে দেখলে মন ভরে যায়। অন্য শিশুদের চেয়ে ওরা একটু আলাদা, কারণ ওরা অনেক বেশি মেধাবী।’ তিনি কৃতজ্ঞতা জানান হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমানের প্রতিও।

গত ১৬ জুলাই হাসপাতালে শিশু দু’টি ভর্তির পর অপারেশন হয় ১ আগষ্ট। জন্মের পর থেকে ১০ মাস তোফা ও তহুরা একসঙ্গে বড় হয়েছে। পিঠের কাছ থেকে কোমরের নিচ পর্যন্ত তারা পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। জন্মেও পর দুজনের পায়খানার রাস্তা ছিল না। জন্মেও ৮ দিনের মাথায় এই হাসপাতালের একই বিভাগে অপারেশনের মাধ্যমে তাদের পায়খানার রাস্তা তৈরি করা হয়। তবে মাথা-হাত-পা ছিল আলাদা।

শিশু সার্জারি বিভাগের চিকিত্সকেরা জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘পাইগোপেগাস’ শিশু আলাদা করার ঘটনা এটি প্রথম। এর আগে অন্যান্য হাসপাতালে তিন জোড়া শিশুকে অস্ত্রোপচার করে আলাদা করা হয়েছে, তাদের ধরন ছিল আলাদা। তোফা-তহুরার মায়ের নাম শাহিদা ও বাবার নাম রাজু মিয়া। তাদের বাড়ি গাইবান্ধায়। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর শাহিদা তোফা-তহুরার জন্ম দেন। তারা বাবা দিনমজুর।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল


সর্বশেষ সংবাদ