বাংলা ফন্ট

আমেরিকানদের মতো বিলাসি হলে পাঁচটি পৃথিবী লাগবে!

05-08-2017
নিজস্ব প্রতিবেদন ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  আমেরিকানদের মতো বিলাসি হলে পাঁচটি পৃথিবী লাগবে!
নিউজ ডেস্ক: গত ২ আগস্ট ছিল 'আর্থ ওভারশুট ডে'। এই দিনের মধ্যেই মানুষরা চলতি এক বছরে পৃথিবী যতটা সম্পদ টেকসইভাবে পুনরুৎপাদনে সক্ষম ছিল সেই পরিমাণ সম্পদ ভোগ-ব্যবহার করে ফেলেছে। অর্থাৎ এই পুরো এক বছরে পৃথিবী যা কিছু উৎপাদনে সক্ষম ছিল তা মানুষেরা ভোগ-ব্যবহার করে ফেলেছে গত সাত মাসেই। আর ২০১৭ সালের শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষেরা আরো যা কিছু ভোগ-ব্যবহার করবে তার সবটাই এই গ্রহের ওপর অতিরিক্ত বোঝা হিসেবে গণ্য হবে।

'আর্থ ওভারশুট ডে' এর ধারণাটি তৈরি হয়েছে কোনো বছরে কোনদিন থেকে আমরা সে বছরে পৃথিবীর উৎপাদন সক্ষমতার চেয়েও বেশি পরিমাণ সম্পদ ভোগ-ব্যবহার করছি তার একটি সীমা টানার জন্য।

১৯৯৭ সালে আর্থ ওভারশুট ডে ছিল সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। কিন্তু দিনকে দিন আমাদের ভোগের পরিমাণ পৃথিবীর উৎপাদন সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যেতে থাকায় দিনটি ক্রমাগত এগিয়ে আসতে থাকে। আর এবছর তা ২ আগস্টে এসে দাঁড়িয়েছে।

এখন পৃথিবীর মানুষদের নিজেদের ভোগের চাহিদা এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণে ১.৭টি পৃথিবী দরকার হয়। আর ভোগের বর্তমান হার বজায় থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ আমাদের দুটো পৃথিবী লাগবে।

তবে পুরো পৃথিবীর মানুষ যদি ভারতের মানুষদের গড়পড়তা জীবনযাপন যেমন তেমনভাবে জীবনযাপন করে তাহলে মাত্র ০.৬টি পৃথিবী লাগবে।

তার মানে পৃথিবী আমাদেরকে যে পরিমাণ সম্পদ দিতে সক্ষম তার চেয়ে আরো অনেক কম, প্রায় অর্ধেক কম, সম্পদ ভোগ-ব্যবহার করা।

অন্যদিকে, পৃথিবীর সব মানুষ যদি আমেরিকানদের মতো বিলাসবহুল জীবনযাপন করে তাহলে আরো প্রায় ৫টি (৪.১টি) পৃথিবীর দরকার পড়বে। আর আরব আমিরাতের মানুষদের মতো বিলাসবহুল জীবনযাপন করলে লাগবে প্রায় ছয়টি (৫.৪টি) পৃথিবী। এমনটাই দেখা গেছে, গ্লোবাল ফুটপ্রিন্টের এক গবেষণায়।

সম্পদের অতিবেশি ভোগ-ব্যবহারের ফলে প্রকৃতির ওপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। ওয়াল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর ন্যাচার (WWF) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী মাছ, পাখি, স্তন্যপায়ী পশু, উভচর জীব এবং সরিসৃপ প্রাণীর সংখ্যা ৫৮% কমে গেছে। এ থেকেই প্রমাণিত হয় সম্পদের প্রাকৃতিক উৎসগুলোর ওপর মানুষের চাট টেকসই নয়। মানুষেরা অন্যান্য প্রজাতির জন্য প্রাকৃতিকভাবে বরাদ্দকৃত বেঁচে থাকার উৎসগুলোও নিঃশেষ করে ফেলছে। ফলে মানুষের চাহিদা মেটানোর চাপে অন্য প্রাণীরা টিকে থাকতে পারছে না।

উদাহরণত, ভারতে এই সংকটের প্রকাশ দেখা যাচ্ছে পানি সংকটের মধ্যে। দেশটির প্রধান ২০টি নদীর অববাহিকার মধ্যে ১৪টিই পানি সংকটে ভুগছে। আর ২০৫০ সালের মধ্যেই দেশটিতে তীব্র পানির সংকট দেখা দিবে। দেশটির ভূপৃষ্ঠের উপরিতলে থাকা পানির ৭০%-ই দূষিত হয়ে পড়েছে। আর আগামী ১০ বছরের মধ্যে পাতালের পানিরও ৭০% নাই হয়ে যাবে। (বাংলাদেশের সঠিক হিসেব এখনো অজানা। তবে আমরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের নদীর পানি দূষিত হতে দেখছি। কৃষি কাজের জন্য পাতালের পানি অতিরিক্ত হারে ব্যবহার করার ফলে তাতেও আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়েছে)।

ওয়াল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর ন্যাচার (WWF)  এর ভারত শাখার প্রোগ্রাম পরিচালক সেজাল উরাহ বলেন, ‘ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়নের জন্য গৃহীত প্রকল্পগুলো যদি যথাযথভাবে পূর্বপরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত না করা হয় তাহলে এই উন্নয়ন দেশটির প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য হমকি হয়ে উঠতে পারে এবং বিপর্যয়ও ডেকে আনতে পারে। পৃথিবীর বর্তমান দুর্দশাগ্রস্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাদেরকে যে বিপদ সঙ্কেত দিচ্ছে তা স্পষ্ট, যা আমরা কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করতে পারি না। ’

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষেরা চাইলে এখনো পৃথিবীকে নিঃশেষ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। এজন্য এখনই সম্পদের ভোগ-ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে এবং অতিভোগী ও বিলাসী জীবনযাপন ত্যাগ করতে হবে। আর প্রতি বছর 'আর্থ ওভারশুট ডে'কে অন্তত ৪.৫ দিন করে পিছিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আজ থেকেই যদি মানুষেরা তাদের অতিভোগী ও বিলাসী জীবনযাপন ত্যাগ করতে পারে তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যেই আমরা পৃথিবীর সম্পদ পূনরায় টেকসইভাবে ভোগ-ব্যবহার করতে পারব এবং পৃথিবীকে ফুরিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারব।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ