বাংলা ফন্ট

পুষ্পকলি স্কুলে ‍এক অন্যরকম বৈশাখ ‍উদযাপন

15-04-2017
সুদেব চক্রবর্তী

 পুষ্পকলি স্কুলে ‍এক অন্যরকম বৈশাখ ‍উদযাপন
ঢাকা: পুষ্পকলি স্কুল। ‍এটি সাধারণ কোনো স্কুল নয়। ‍তবে ‍এখানকার কার্যাবলী অসাধারণ। সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের ‍এখানে পড়ানো হয়। কয়েকজন তরুণ যারা নিজ ‍উদ্যোগে এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ‍আর তাদের সংগঠনটির নাম-সম্ভাবনা। ঢাকা শহরর অলি-গলিতে ঘুরে বেড়ানো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সংগ্রহ করে তাদেরকে অক্ষর চেনানো হয়, পড়ানো হয়, মেধাবী ও যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়। রাজধানীর মিরপুর শেরে বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ৪ নং গেটে কিংবা ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে বসে এইসব শিশুদের পড়ানো হয়।

বছর ঘুরে ‍এবারও ‍এল পহেলা বৈশাখ। বাঙালির প্রাণের ‍উৎসব নববর্ষ। কিন্তু ‍এইসব সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা কি পারে নববর্ষের সবটুকু রং মেখে নিতে? সেই সাধ্য কই! ‍আর তাই পহেলা বৈশাখে ‍এই শিশুদের নিয়ে নববর্ষ ‍উদযাপন করলো পুষ্পকলি স্কুল। ছোট্ট পরিসরে ‍এ ‍এক অন্যরকম ‍আয়োজন, বিনোদনে ভরপুর, সবাই পারফরমার, যে যা পারে। সংগঠনটির কর্মিরা বিশেষকরে অন্যতম ‍এক্টিভিস্ট মুশফিকা নিশাত ‍এর ‍আহবানে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বেরিয়ে পড়ি দুপুরের পর পরই। মিরপুর শেরে বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ৪ নং গেটের পূর্ব পাশের বাউন্ডারির ভেতর বিকাল থেকে শুরু হয় ‍এই ‍আয়োজন। সম্ভাবনা -এর কর্মিদের পাশাপাশি ‍এই ছোট্ট শিশুরাও অংশ নেয় ‍আবৃত্তি, গান ও নৃত্যে।

আমরা সেখানে পৌঁছাই চারটারও পরে। ততক্ষণে সেখানে ‍এসে গেছে তরুন ব্যান্ড দল ‘তৃষ্ণার্ত’। ওরা সব ধরনের গান গাইছিল। ‍আর শিশুরা সুরের তালে তালে হাত তালি দিচ্ছিল ‍এবং কেউ কেউ নাচও করছিল। ‍এদিকে বাউন্ডারির ত্রিপাশে লোক জড়ো হয়ে গেছে। তারাও ‍উপভোগ করছে এই ‍আয়োজন। কিন্তু ভেতরে ঢোকার ‍সুযোগ ছিল না। কারণ নিরাপত্তার স্বার্থে সংগঠনটির নিমন্ত্রন প্রাপ্ত লোক ছাড়া সাধারণ মানুষকে প্রশাসন ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। তারপরও কিছু লোক ভেতরে ঢুকতে পেরেছিল।
নিশাতের কথা ‍আগেই বলেছি। ‍এখানকার শিশুরা ওকে খুব ‍আপন করে নিয়েছে। ‍এছাড়া রাহাত, রবিন, সাদী ‍এরকম ‍আরো বেশ কিছু তরুন যারা শিশুদের সম্ভবনার পথ তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে। তো, নিশাতের ‍আহবানে যারা ‍এসেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম শুক্লা। ও নৃত্যে সবাইকে মাতিয়ে দিল। ‍আরো ‍একজন ‍আছে। ‍আমার সঙ্গে থাকা বন্ধুটি। কৃষ্ণকলি, অর্থাৎ কৃষ্ণকলি সিফাত। কৃষ্ণকলি কবিতা আবৃত্তি করলো। শিশুরা তো বটেই, ‍উপস্থিত সবাই খুব মজা পেয়েছিল। ‍এরপর ‍আমি গোপন কথাটি ফাঁস করলাম। ‍বলে দিলাম- কৃষ্ণকলি গানও গাইতে পারে। ব্যস, অমনি সবাই হইচই শুরু করে দিল। কৃষ্ণকলি গানও গাইলো।

 ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সম্ভাবনা’। ’বঞ্চিত শিশুও আগামীর সম্ভাবনা’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে পথশিশুদের নিয়ে গড়ে তুলতে চায় সম্ভাবনার এক বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সংগঠনটি পথশিশুদের জন্য রাজধানীর মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে পুস্পকলি স্কুল এর মাধ্যমে চালাচ্ছে তাদের অন- আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম। যেখানে শিশুদের সাধারন শিক্ষা কর্যক্রমের পাশাপাশি নৈতিক ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদান করা হয়। এছাড়া এবছর কালসি’র গুদারঘাট বস্তিতে ৩০ জন সুবিধা বঞ্চিত শিশু দিয়ে শুরু করছে পুস্পকলি স্কুলের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম। সংগঠনটির সভাপতি রবিউল ইসলাম রবিন আলাপচারিতার ফাঁকে জানালেন, পুষ্পকলি স্কুলের তিনটি শাখায় প্রায় ১৫০জন পথশিশুর পাঠদান করা হয়। এছাড়া সম্পুরক শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১০ জন শিক্ষার্থীর লেখাপড়া খরচ, শিক্ষা উপকরন এবং টিউশন প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষ হয় ‘তীর হারা ‍এই ঢেউয়ের সাগর’ গানের মধ্য দিয়ে। সবাই ‍একসাথে গাইলো ‘তৃষ্ণার্ত’ দলের সাথে। তবে ‍আয়োজন কিন্তু শেষ নয়, ‍এরপর বাচ্চাদেরকে খাবার দেয়া হল। মুড়ি, মিষ্টি, বাতসা। তারপর সবাই ‍একসাথে ছবি তোলা, সেলফি তোলা।

ছবিতে সবার যে খুশির চেহারা ফুটে ‍উঠলো, বাস্তবে সবাই তার চেয়ে বেশি খুশি ছিল তা তো ‍আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই খুশিতে সারা বছর ভরে থাকুক পৃথিবীর সকল শিশুর জীবন। 'সম্ভাবনা' তাদের পুষ্পকলি স্কুলের মাধ্যমে অন্তত ঢাকা শহরের শিশুদের ‍একটা অংশকে তো ‍আলোর পথ দেখাতে পারছে, ‍এটাই অন্যদেরকে প্রেরণা জোগাবে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ