বাংলা ফন্ট

চৈত্রসংক্রান্তি

13-04-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

চৈত্রসংক্রান্তি

ঢাকা: সংক্রান্তি শব্দের আভিধানিক অর্থ : সূর্য ও গ্রহাদির এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে গমন, সঞ্চার; ব্যাপ্তি। মাসের শেষ দিন, যেমন চৈত্রসংক্রান্তি।            

এই চৈত্রসংক্রান্তি হলো বাঙালির লোকউত্সব বিশেষ। এটি মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের উত্সব। বাংলা বর্ষের শেষতম মাস চৈত্রের এই শেষ দিনটিতে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্ম পুণ্যদায়ী। শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে এমত ধারণা করা হয়। চৈত্রসংক্রান্তির প্রধান উত্সব হচ্ছে চড়ক। এর পাশাপাশি চলে গাজনের মেলা। গোটা চৈত্রমাস জুড়ে উপবাস করাসহ নানা ধরনের নিয়ম আচার পালন করা হয়ে থাকে। তারপর সংক্রান্তির দিন সাধু সন্ন্যাসী কিংবা সাধারণ মানুষ শূলফোঁড়া, বাণফোঁড়া ও বড়শিগাঁথা অবস্থায় চড়কগাছে (উঁচু করে পোঁতা কাঠে) ঘোরা, আগুনে হাঁটা প্রভৃতি সব ভয়ঙ্কর ও কষ্টসাধ্য দৈহিক কায়দা কসরত প্রদর্শন করে। যিনি বা যাঁরা এটা করেন, তাঁদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দর্শকরা বিমলানন্দ উপভোগ করেন। একসময় দেশব্যাপী এগুলোর ব্যাপক চল ও জনপ্রিয়তা ছিল। বর্তমানকালে এ ধরনের খেলার ব্যাপকতা, চাহিদা চর্চা, লালন পৃষ্ঠপোষকতা আগেকার মতো নেই। হ্রাস পেয়েছে অনেকটাই।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহু জায়গায় চৈত্রসংক্রান্তি পালন উপলক্ষে মেলা বসে। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে চৈত্রসংক্রান্তি আগে একই দিন পালিত হতো। বাংলাদেশে বাংলা সনের সংস্কার সাধনের ফলে তারিখে ভিন্নতা এসেছে। বাংলাদেশের হিন্দুপ্রধান অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে চৈত্রসংক্রান্তির মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কী কী থাকে ঐতিহ্যমণ্ডিত সেই মেলার আয়োজনে? থাকে  বাঁশ, বেত, প্লাস্টিক, মাটি ও ধাতুর তৈরি রকমারি তৈজস খেলনা, আসবাব, ফল-ফলারি, মুড়ি-মুড়কি, মিষ্টান্ন কেনাবেচার ব্যবস্থা। আয়োজনের জৌলুস ও বৈচিত্র্য বর্ধন করে বায়োস্কোপ, সার্কাস, পুতুলনাচ উপভোগ, ঘুড়ি ওড়ানোর মতো নির্মল আনন্দ লাভের ব্যবস্থা। ফরিদপুর, মাদারিপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের লোক-মেলা বসে। কোথাও কোথাও মেলার স্থায়িত্ব হয় ৩-৪ দিন  কিংবা আরো বেশি সময়।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী আমরা জানতে পাই, অতীতে চৈত্রসংক্রান্তির মেলা উপলক্ষে গ্রামাঞ্চলের গৃহস্থরা নাতি-নাতনিসহ মেয়ে-জামাইকে সমাদর করে বাড়ি নিয়ে আসতেন। সম্পন্ন গৃহস্থরা সকলকে নতুন জামাকাপড় দিতেন এবং উন্নতমানের খাওয়া-দাওয়ারও আয়োজন করা হতো এই উত্সব উদযাপন উপলক্ষে। মেলার কয়েকদিন এভাবে তারা সকলে মিলেমিশে আনন্দ উচ্ছ্বাস উপভোগ করতেন। এই লোকাচার আগেকার মতো বর্ণাঢ্য ও বিস্তৃত নেই আর। দারিদ্র্য ও শহুরে সভ্যতা যান্ত্রিকতার দাপট ও প্রভাবে আবহমান গ্রামবাংলার সেই আনন্দমুখর পরিবেশ আর আগের মতো নেই, অনেকটাই বদলে গেছে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ