বাংলা ফন্ট

তাকে নিয়ে যত কথা এই চৈত্রে‍ই

09-04-2017

তাকে নিয়ে যত কথা এই চৈত্রে‍ই


ফুলটি বসন্তের।  অশোক ফুল।  তবে চৈত্র মাসেই তার মহিমা।  কারণ চৈত্র মাসের শুক্লাষষ্ঠীতে হিন্দু মায়েরা সন্তানের কল্যাণ কামনা করে অশোক ফুল দিয়ে পূজা করেন, একে অশোকষষ্ঠী বলে। এছাড়া চৈত্রের শুক্লাঅষ্টমীতে পালিত হয় অশোকাষ্টমী।  ফলে শোক নাশ করে বলেই হয়ত ফুলটির নাম অশোক।  অশোকের অন্যান্য নাম হেমাপুষ্প, অঞ্জনপ্রিয়া, মধুপুষ্প।  রামায়ণে রাবণ সীতাকে হরণের পর অশোক কাননেই রেখেছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।
 
অশোক মাঝারি আকৃতির চিরসবুজ এ অঞ্চলের নিজস্ব বৃক্ষ।  পঁচিশ থেকে ত্রিশ মিটার উঁচু হয়।  পাতা যৌগিক।  একটি পাতায় দশটি পত্রক থাকে।  পাতার রং গাঢ় সবুজ। লম্বা, চওড়া ও বর্শা ফলকাকৃতির।  কচিপাতা নরম, ঝুলন্ত ও তামাটে।  বসন্তকাল ফুল ফোটার সময়।  আষাঢ়ের শুরু পর্যন্ত গাছে ফুল থাকে।  ফুল ছোট, মঞ্জরিতে অনেক ফুল জন্মায়।  পুংকেশর দীর্ঘ।  

অশোকগাছের ডালপালা ঘন পল্লবময়।  কাণ্ডের গা থেকেও মঞ্জরিদণ্ড হয়ে তা ফুলে রূপ নিতে পারে।  ফুল ফুটলে মিষ্টি গন্ধে চারপাশ ভরে যায়।  ফুলের রঙ কমলা থেকে লাল।  ফল শিম জাতীয়, মাংসল ও লাল।  ফলে খয়েরি রঙের বীজ থাকে। বীজ সংগ্রহ করা হয় আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে।  বীজ সংরক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে বপন করতে হয়।  বীজ বপনের ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ৭০ ভাগ অঙ্কুরোদ্গম হয়। এক বছরে গাছ তিন ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বাগানে শোভাবর্ধক হিসেবে এ গাছ বেশি লাগানো হয়।  তবে অশোকের ভেষজ গুণও রয়েছে।  শুকনো ফুল রক্ত আমাশয়ে এবং বীজ মূত্রনালির রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

সর্বশেষ সংবাদ