বাংলা ফন্ট

কেঁচো দিয়ে সার তৈরি

12-03-2017
ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

কেঁচো দিয়ে সার তৈরি


নিউজ ডেস্ক: নীলফামারীর জলঢাকায় কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদন করে বেকারত্ব ঘুঁচিয়েছেন এক যুবক। বিজ্ঞান মনোস্ক ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা কাজে লাগিয়ে বেকারত্ব দূরীকরণে নজির স্থাপন করেছেন উপজেলার পশ্চিম শিমুলবাড়ী মীরগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহর চন্দ্র রায়ের ছেলে সুনিল চন্দ্র রায় (৩৭)।

সে জানায়, এমন একটা সময় ছিল সুনিল চাকরি করতেন একটি বেসরকারি এনজিও (ব্র্যাকে)। ৭-৮ বছর কর্মস্থলে থাকার পর আচমকা তার মাথার মধ্যে বেকারত্ব দূরীকরণে কিছু একটা আবিষ্কারের চিন্তা জন্ম নেয়। সেই থেকে কর্মস্থল ত্যাগ করে নিজ বাড়ীতে চলে আসে এবং শুরু করে দেয় কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদন। গরুর গোবর, লতা-পাতা, কচুরি ফেনা, হোটেলের উচ্ছিষ্ট চা পাতি, ডিমের খোসা প্রথমে হাল্কা শুকিয়ে নিয়ে হাউজের মধ্যে কেঁচো দিয়ে তৈরি করছেন কেঁচো সার। এ সার তৈরি করতে ১০-১৫ দিন সময় লাগে। প্রথম দিকে কেঁচো পাকিস্তান ও চায়না থেকে শার্প এনজিওর কাছ থেকে কিনতে হয়েছে। পরবর্তীতে বংশ বিস্তারের মাধ্যমে এখন সর্বত্র বিক্রি করছে এই কেঁচো। কোঁচো সার বিক্রি করে প্রতিবছর তিনি ৫ লাখ টাকা আয় করেন বলে জানান।

কৃষি অফিসের কর্মকর্তা শাহ মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, কেঁচো সার পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ সার। কেননা উদ্ভিদ বেঁচে থাকার জন্য যে সব উপাদানের প্রয়োজন যেমন- সালফার, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, নাইট্রোজেন, ব্রোন, জিংক, পটাসিয়াম, ফসফেট- এ রকম ১৬টি উপাদানের মধ্যে ১৪টি উপাদান বিদ্যমান কেঁচো সারে। রাসায়নিক সারের মাধ্যমে জমির উর্বরতা দিন-দিন মৃত প্রায়। সেজন্য মাটির প্রাণ সঞ্চারের জন্য প্রাকৃতিকভাবে মাটিকে উর্বর করতে কেঁচো সারের বিকল্প নেই।

কেঁচো সার প্রয়োগ করে সুবিধা ভোগিদের মধ্যে কৃষক ফয়েস উদ্দিনের ছেলে আলম ও সিরাজুল ইসলামের ছেলে শামিম জানায়, রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে করতে আমাদের জমির উর্বরতা হারিয়ে জমিগুলো অনাবাদি হয়েছে। আমরা কেঁচো সার প্রয়োগ করে বিঘা প্রতি ১৫-২০ কেজি ব্যবহার করে ৩০-৩২ মণ ধান উৎপাদন করছি। মানুষ যে কেন রাসায়নিক সার ব্যবহার করে সেটা আমরা জানি না।

জয় ডেইরি এন্ড এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী সুনিল চন্দ্র জানান, শুধু নিজের চিন্তা নয়, মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ উৎপাদন। দেশ ও জাতির ভারসাম্য রক্ষা করবে এই কেঁচো সার। ৫-৬ বছর ধরে আমি কেঁচো সার উৎপাদনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। একটি হাউজ দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তা ২০-২৫টি হাউজে উন্নীত হয়েছে। এখন ১৫-২০জন বেকার যুবকের আমার ফার্মে কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতি মাসে ৫০-৬০ মণ সার বিক্রি করি। শুধু এলাকার সাধারণ কৃষকই নয়, এটা ঢাকার আল মুসলিম গ্রুপ, রংপুরের সিটি সিট, এনজিও শার্পের নার্সারি থেকে শুরু করে অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এ সার ক্রয় করতে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছেন আমার সঙ্গে। সরকারের সহযোগিতার হাত প্রসারিত হলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান পাবে মানুষ, অন্যদিকে মাটির উর্বরতা বাড়াতে এ সারের বিকল্প নেই।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ