বাংলা ফন্ট

যেসব অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধে

04-03-2017
ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

যেসব অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধে


নিউজ ডেস্ক: আবার ‍এসেছে মার্চ। ‍উত্তাল মার্চ। মার্চ হল স্বাধীনতার মাস। মূলত মার্চের পর থেকেই বাঙালি অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ধরা দেয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। ছাত্র, যুবক, কৃষকসহ নানা পেশার মানুষেরা সেদিন অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধে যে সব অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিলো সেই সব অস্ত্র নিয়েই ‍এবারের ‍আয়োজন।

থ্রী নট থ্রী .303 রাইফেল
ব্রিটিশ Lee enfield co ডিজাইন এবং ব্রিটেন ও কানাডায় নির্মিত, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে বহুল ব্যবহৃত রাইফেল। ম্যাগাজিন ৬ রাউন্ড।

মুক্তিযুদ্ধকালে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধাস্ত্র ‍এটি। ২৫ মার্চ কালরাতে রাজারবাগ পুলিশলাইনে আক্রমনকারি পাকি বাহিনিকে প্রথম প্রতিহত করা হয় এই থ্রী নট থ্রী রাইফেল দিয়েই। খুবই টেকশই, বিকল হয় না বললেই চলে। ১৮৯০ সালের ডিজাইনে তৈরি শত বছরের পুরনো অস্ত্রগুলো এখনো চলছে। পুলিশ-আনসাররা এখনো এগুলো ব্যবহার করে, আনসারদের হাতে এখনো দেখা যায়।

M2 স্টেনগান ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় নির্মিত, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে বহুল ব্যবহৃত কার্বাইন। ২০ রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগাজিন।
M2, স্টেনগান। গুলি 9MM, ‍এটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রিয় অস্ত্র।

পুর্বাঞ্চলে জাপানি আগ্রাসন ঠেকাতে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষদিকে ব্রিটিশ-ভারতীয় বাহি্নীর হাতে বিপুল পরিমান স্টেনগান মজুদ হয়। দেশ ভাগের পর অস্ত্রগুলো থেকে যায়।

মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসে সীমান্তরক্ষী EPR বাহিনীর সাথে। পরবর্তীতে অস্ত্র গুদাম দখল করে আরো কিছু স্টেনগান মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসে। গেরিলা যুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

স্টারলিং সাব মেশিনগান ব্রিটিশ নির্মিত, ভারতে সংযোজিত স্টারলিং সাব মেশিনগান । অনেকে এটাকে ভুল করে স্টেনগান বলে, আসলে দেখতে প্রায় একই রকম বলে এই ভুলটা করে। স্টক ভাঁজ করা যায়। শর্ট রেঞ্জে খুবই কার্যকর ছোট সাব মেশিনগান। ম্যাগাজিন ৩০ রাউন্ড।

ঢাকা ভিত্তিক গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রায় সবার হাতেই এই অস্ত্রটি দেখা গেছে।
L1A1 SLR কম্ব্যাট রাইফেল 'এসএলআর' নামে বহুল পরিচিত। ১৯৫৩ সালের বেলজিয়ান FN ডিজাইনে ব্রিটিশ নির্মিত L1A1 SLR সেলফ লোডিং কম্ব্যাট রাইফেল। সেমি-অটমেটিক। বুলেটকার্টিজ 7.62 MM, ম্যাগাজিন ২০ রাউন্ড।
কালাসনিকভ AK47

বিখ্যাত রুশ কালাসনিকভ এর ডিজাইনে চায়নাতে নকল করে তৈরি করা AK47 এস্যল্ট রাইফেল। গুলি 7.62 mm. কাজ করে অটোমেটিক, মেশিনগানের মত। বাঁকানো ম্যাগাজিনে গুলি ৩০ বা ৪০ রাউন্ড।
দখলদার পাকিস্তানি পদাতিক বাহিনীর খুবই কার্যকর ও প্রধান অটোমেটিক রাইফেল। পাকিস্তানি আর্মির কমান্ডারদের হাতে দেখা যেত।

মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসে মুলত বিদ্রোহী বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের মাধ্যমে। ২৫শে মার্চেই ব্যারাকে পাকি সৈন্যদের পরাস্ত করে অস্ত্রগুলো সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তিতে খন্ডযুদ্ধে আর কিছু চাইনিজ AK47 মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসে।

বাংলাদেশ অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বর্তমানে লাইসেন্স নিয়ে এগুলো এ দেশেই তৈরি করছে। এর 7.62 mm কার্টিজ ও তৈরি করছে। নিয়মিত ৩ বাহিনী এবং বিজিবি, RAB, পুলিশ, আর্মড পুলিশ, কোষ্টগার্ড এরা সবাই এই অস্ত্র ব্যবহার করছে।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ পরবর্তি ৫০এর দশকে সোভিয়েট ইউনিয়নে এই অস্ত্রটির প্রচলন শুরু হয়ে এর জনপ্রীয়তা অপরিবর্তিত আছে এর উচ্চমান নির্মানশৈলির কারনে।

রুশ ডিজাইনে চীনারা অস্ত্রটি হুবুহু নকল করে বিভিন্ন দেশে বিক্রয় করছে। এল এম জি Bren MK-lll Light machine gun.

চেকস্লভাকিয়ার ডিজাইনকৃত, ব্রীটেনে নির্মিত। ব্রেনগান, LMG নামে বহুল পরিচিত খুবই কার্যকর একটি দু পা ওয়ালা লাইট মেশিনগান। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে বহুল ব্যবহৃত। এর বুলেটকার্টিজ থ্রী নটথ্রী রাইফেলের অনুরুপ। ম্যাগাজিন ৩০ রাউন্ড

মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসে শিমান্তরক্ষী EPR বাহিনির সাথে। পরবর্তিতে ভারতীয় বাহিনীর কাছথেকে বেশকিছু এল এম জি ব্রেনগান সংগ্রহ করা হয়। যুদ্ধে এই অস্ত্র সকল ফ্রন্টে ব্যাপকভাবে ব্যাবহৃত হয়। স্বাধিনতা পরবর্তিতে এই অস্ত্র আর্মড পুলিশ ও বিডিআর ব্যাবহার করত। বর্তমানে ডিকমিশনড।

ডেগট্রায়ভ RPD Type 56 LMG LMG-RPD-44 রাশিয়ার Vasily Degtyaryov এর ডিজাইনকৃত, পর্বরতিতে চিনে নকল করে তৈরি করা রাউন্ড ম্যাগাজিন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন LMG পাকি নিয়মিত বাহিনীর প্রধান ‘এল এম জি’। Type 56 এবং Type 44 দুটি মডেল, কিন্তু দেখতে হুবুহু এক।

এর বেশ কয়েকটি মেশিনগান মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের মাধ্যমে। ২৫শে মার্চেই ব্যারাকে পাকি সৈন্যদের পরাস্ত করে অস্ত্রগুলো সংগ্রহ করা হয়। ড্রাম টাইপ ম্যাগাজিন, ভেতরে চেইনলোডেড ১০০ রাউন্ড গুলি আটে। দক্ষ সেনা মুক্তিযোদ্ধারাই এগুলো ব্যবহার করতো।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি এখনো এই মডেলের মেশিনগান ব্যাবহার করছে।

এইচ এম জি Browning M2
ব্রাউনিং কম্পানির ডিজাইনকৃত যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শেষদিকে ব্রীটিষ-ভারতীয় বাহিনীর বহুল ব্যবহৃত হেভি মেশিনগান। এর 30mm বুলেট ট্যাঙ্ক বডি ভেদ করতে পারে। চেইনলোডেড কার্তুজ ফিড।
মুক্তিযুদ্ধকালিন নিয়মিত সেনা মুক্তিযোদ্ধাদের এবং মিত্র ভারতীয় সাজোঁয়া বাহিনী এবং শত্রু পাকিবাহিনী সবাই কাছেই এই ভারি মেশিনগান ছিল।

কিছু HMG গানবোটেও ফিট করা হয়েছিল। এটি বিমান বিধ্বংসি অস্ত্র হিসাবেও ব্যবহৃত হত।
ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানে এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে। খুবই ধ্বংস ক্ষমতা সম্পন্ন হেভি মেশিনগান।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ