বাংলা ফন্ট

বাস্তব ও কৃত্রিম জগত মিলিয়ে দিচ্ছেন এক শিল্পী

20-08-2018
ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 বাস্তব ও কৃত্রিম জগত মিলিয়ে দিচ্ছেন এক শিল্পী

নিউজ ডেস্ক: বাস্তব ও কৃত্রিম জগতের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটানো কি সম্ভব? জার্মানির এক শিল্পী নিজের শিল্পকর্মের মাধ্যমে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে তুলছেন৷ আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ নিসর্গ কাজে লাগিয়ে তিনি এমন জগত গড়ে তুলছেন৷

হ্রদের ধারে একটি শহর – টোমাস ভ্রেডে-র সাম্প্রতিক সৃষ্টিকর্ম৷ আসলে ক্ষুদ্র মডেলগুলি রাস্তায় খানাখন্দের পাশেই রাখা আছে! টোমাস বলেন, ‘‘আমি চিরকাল কৃত্রিম জগত সম্পর্কে আগ্রহী৷ অ্যামিউজমেন্ট পার্ক আমার অন্যতম বিষয়৷ দেখলে মনে হয় ব্লক দিয়ে নিসর্গ তৈরি করা হয়েছে, ঠিক পুতুলের বাড়ির মতো৷ বাস্তব জগতে এমন মডেল জগত তৈরি করাই ছিল পরের ধাপ৷ ‘‘অনেকটা রুক্ষ প্রকৃতির মাঝে অ্যামেরিকার ড্রাইভ-ইন সিনেমার মতো দেখতে৷ আসলে এটা কিন্তু বটরপ শহরের কাছে গর্তের মধ্যে বালু দিয়ে তৈরি ছোট্ট স্তূপ৷ স্তূপটি বেশ পুরানো৷ উপরে শ্যাওলা গজিয়ে উঠেছিল৷ বাতাস ও বৃষ্টির ছাপও স্পষ্ট৷ যথেষ্ট ক্ষয় হয়েছে৷ মিনিয়েচার রূপে খুবই সুন্দর নিসর্গ৷''

ভ্রেডে এর বিপরীত ধারা সৃষ্টি করেও আনন্দ পান৷ বাস্তব জগতের কোনো দৃশ্যকে কৃত্রিম ও সাজানো হিসেবে তুলে ধরেন তিনি৷ অ্যামিউজমেন্ট পার্কের মতো তিনি অনেক জায়গায় আবিষ্কারের আনন্দে মেতে ওঠেন৷

‘ডোমেস্টিক ল্যান্ডস্কেপস' নামের ছবির সংগ্রহে তিনি ব্যক্তিগত পরিসরের চারিপাশে বাইরের জগত তুলে ধরেছেন৷ টোমাস ভ্রেডে বলেন, ‘‘আমি স্থানীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম৷ শিরোনাম ছিল ‘শিল্পী জার্মান বসার ঘরে ফটোগ্রাফিক ওয়ালপেপার খুঁজছেন'৷ বিজ্ঞাপনপ্রতি ৪ থেকে ৫ জন সাড়া দিয়েছেন৷ নিজেদের ওয়ালপেপার সম্পর্কে কারো আগ্রহ রয়েছে, জেনে তাঁরা খুশি হয়েছিলেন৷ এই নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যেই আমি ৮০ শতাংশ ছবি তুলেছি৷ উত্তর সাগর উপকুল, ফ্রাংকফুর্টেও তুলেছি৷''

ভুপার্টাল শহরে ‘সিনারিস' নামে তাঁর এক প্রদর্শনীতে ভ্রেডে-র প্রথম দিকের কিছু সৃষ্টিকর্মও শোভা পাচ্ছে৷ যেমন একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পাখিরা জানালা দিয়ে ঢুকলে কোন চিহ্ন রেখে যায়৷ ডেনমার্কের এক দ্বীপে প্লাস্টিক আবর্জনা সম্পর্কে টোমাস ভ্রেডে বলেন, ‘‘আলুর ফলন তরান্বিত করতে, আগেই ফসল তুলতে প্রতি বছর বসন্তকালে সামসো দ্বীপ প্লাস্টিক ফয়েল দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়৷ কিন্তু সেই প্লাস্টিক আবর্জনা নিয়ে কী করা যায়, ২০ বছর ধরে তারা তা জানতো না৷ তাই তারা সেই প্লাস্টিক ফেলে দিতো৷ অনেক জায়গাও ছিল৷ দুই দশক ধরে প্লাস্টিকের বিশাল নিসর্গ সৃষ্টি হয়েছে, যা বেশ কয়েকটি ফুটবল মাঠের মতো বড়৷ সেটা ছিল ১৯৯৪ সাল৷ তারপর বালু আর মাটি দিয়ে সব ঢেকে দেওয়া হয়৷ ঘাসে হাত দিলে প্লাস্টিকের নাগাল পাওয়া যায়৷ একই সঙ্গে বিরক্তিকর ও আকর্ষণীয়৷''

টোমাস ভ্রেডে কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক জগতের মধ্যে আদানপ্রদানের ধারা সত্যি উপভোগ করেন৷

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ