বাংলা ফন্ট

রংপুরে এখনো কাটেনি ঈদ আনন্দ

29-06-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  রংপুরে এখনো কাটেনি ঈদ আনন্দ

রংপুর: ঈদ-উল-ফিতরের পর চারদিন পেরিয়ে গেলেও রংপুর অঞ্চলের মানুষ এখনো আনন্দে মেতে রয়েছেন। পিকনিক ও বিনোদন স্পট গুলোতে দিনভর এখনো রয়েছে বিনোদন পিপাসু মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

বিভাগীয় নগরীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত প্রয়াস সেনা বিনোদন পার্ক, ফ্যান্টাসি জোন, সিটি চিকলি পার্ক, রংপুর চিড়িয়াখানা, কালেক্টরেট সুরভী উদ্যান, টাউন হল চত্বর, তাজহাট জমিদার বাড়ি, রংপুর কারমাইকেল কলেজ প্রাঙ্গন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, জিলা স্কুল মাঠসহ প্রায় সর্বত্রই জুড়ে যেন শুধুই মানুষের ঢল।

আর বিকেল থেকে নগরীর সকল অভিজাত চাইনিজ ও থাই রেঁস্তোরা, ফুচকা কেন্দ্র, কফি হাউজগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকছেনা। তবে আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত বিনোদন স্পটগুলোসহ অন্যান্য স্থানগুলোতে উচচে পড়া ভিড় অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারণা করছেন।

একই চিত্র শহর থেকে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আধুনিক বিনোদন স্পট ভিন্নজগত, আনন্দনগর, মহিপুরঘাট, তিস্তা সড়ক সেতু পয়েন্ট, তিস্তা ব্যারেজ ক্যানালসহ প্রায় সর্বত্রই যেন একইরকম ঈদের আনন্দ উপভোগ সর্বস্তরের মানুষ। ঈদের উৎসবে যেন এখনো রঙিন হয়ে রয়েছে ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের মন।

রংপুর নগরী থেকে একটু দূরে নিসবেতগঞ্জের স্মৃতিবিজড়িত রক্ত গৌরব চত্বর ঘাঘট নদীর অংশ বিশেষসহ পাশ্ববর্তী বিস্তুত নিচু এলাকায় কোলাহলমুক্ত পরিবেশে গড়ে উঠেছে প্রয়াস সেনা বিনোদন পার্ক। এখানে সেনা সদস্যদের নিখুঁত কারিগরি পরিকল্পনায় বাঁশ ব্যবহারে সাজানো এ বিনোদন পার্কের মূল গেট পেরুলে প্রথমেই নজর কাড়বে অসংখ্য রকমারী দোকান। যেন সমুদ্র সৈকত পাড়ের আদলে দোকানের হাট। নানা রকম পণ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে এসব দোকান।

হস্তশিল্প সামগ্রী, খেলনা, খাবারের দোকান, নদীর বুকে ভাসমান বিলুপ্ত আশির দশকের বেশ কিছু নৌকা নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের। অনেকে আনন্দের মাত্রা বাড়াতে ক্যামেরার ক্লিকে স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি করছেন প্রিয় মুহূর্তগুলো।

অন্যদিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্রের কোল ঘেষেই নির্মিত রংপুর সিটি চিকলি পার্ক। সেখানে বিশাল চিকলিবিলের আশপাশ ঘিরে নানা আয়োজন দিয়ে সাজানো হয়েছে শিশু-কিশোরদের আকৃষ্ট করার মতো ।

বিলের বুকে স্পিডবোর্ড চলছে দ্রুত বেগে এ পাশ থেকে ওপাশ। হৈ হুলে¬ারে মেতে উঠছে সবাই। আর বড় বড় ঢেউ এসে ধাক্কা দিচ্ছে বিলের দু’কূলে। ছিটকে আসা জলরাশিতে মজা করছে ছোট বড় সবাই।
এখানে দিনের আলো পূর্বাকাশে হারিয়ে গেলেই সন্ধ্যার আকাশে অন্যরকম এক দৃশ্যের অবতারণা দেখা যায়। মেঘের কোলে দোল খেতে খেতে যেন নিভে যায় দিনের প্রদীপ। তখন দূর থেকে ভেসে আসে চিরচেনা ভাওয়াইয়ার সুর।

চিকলি পার্কের মতো ভিন্নজগত, রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, কালেক্টরেট সুরভী উদ্যান, ফ্যান্টাসি জোন, গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর পাড়ে মহিপুরঘাট, তিস্তা সড়ক সেতু পয়েন্ট, টাউন হল চত্বরসহ রংপুর মহানগরীর একমাত্র সিনেমা হল শাপলা টকিজেও মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আলিমুল হক ও তার স্ত্রী মোসলেমা বেগম, জানান, পরিবার ও নগর জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝে একমাত্র পুত্র হাসান (৮) ও কন্যা আলভি (৬)-কে একটু সময় করে ঘুরতে খুবই ভালো লাগছে।

প্রয়াস বিনোদন পার্কে রাফিউল, সাজু, সোলেমান, ফাতেমা, নার্গিস, তানভি বিনতে ইসলাম এবং কোহিনুরসহ বেশ কয়েকজন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া তরুণ-তরুণী জানান, নগরীর এতো কাছাকাছি সুন্দর পরিবেশে এসে মন ভরে গেছে। সুশৃঙ্খল পরিবেশে আমরা খুবই খুশি, মনে বইছে যেন অনাবিল আনন্দের এক বন্যা।

রংপুরের মেয়র আলহাজ্ব সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু জানান, প্রকৃতি ও বিনোদন প্রেমীর জন্য অত্যন্ত ভালো বিনোদনের জায়গা রংপুরের বিনোদন স্পটগুলো। আর ঈদ এলে এসব স্পট হয়ে যায় মানুষের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ। বিগত বছরগুলোকে সর্বস্তরের মানুষের অব্যাহতভাবে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটায় তারা এখন উন্নত জীবন-যাপনের পাশাপাশি সুয়োগ পেলেই বিনোদনের দিকে ঝুঁকছেন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল



সর্বশেষ সংবাদ