বাংলা ফন্ট

ভোলায় স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধনের অপেক্ষায়

21-01-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

ভোলায় স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধনের অপেক্ষায়

ভোলা: জেলার উপজেলা সদরের বাংলাবাজার এলাকায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে স্বাধীনতা জাদুঘর। আগামী ২৫ জানুয়ারি মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ জাদুঘরটি উদ্বোধন করবেন। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ’র নামে প্রতিষ্ঠিত তোফায়েল আহমেদ ট্রাস্টি বোর্ড’র উদ্যোগে ২০১৫ সালের মার্চে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাদুঘরটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় এক একর জমির উপর নির্মিত জাদুঘরটির ডিজাইন করেছেন বিশিষ্ট স্থপতি ফেরদৌস আহমেদ। এর মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্ম স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সর্ম্পকে সঠিকভাবে জানতে পারবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, ভোলার বাংলাবাজার আমার জন্মস্থান। আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিলো এখানে স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে একটি জাদুঘর নির্মাণের। ফলে গত কয়েক বছর ধরে জাদুঘরটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। আগামী ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ জাদুঘরটি উদ্বোধন করবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো জানান, এখানে সেই ব্রিট্রিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, ৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ ছাত্র আন্দোলন, ৬৬ ছয় দফা, ৬৯ এর গনঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, ৭১ মহানমুক্তিযুদ্ধসহ সমস্ত কিছুর সম্পুর্ণ ইতিহাস এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভিডিও আকারে দর্শনার্থীরা তা উপভোগ করতে পারেবেন। রয়েছে ঐতিহাসিক বিভিন্ন দূর্লভ ছবি। মূলত একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই জাদুঘরটি স্থাপন করা হয়েছে বলে তোফায়েল আহমেদ জানান।

তোফায়েল আহমেদ ট্রাস্ট্রি বোর্ডের মহাসচিব মইনুল হোসেন বিপ্লব জানান, ৩ তলা বিশিষ্ট জাদুঘরটির প্রথম তলায় প্রদর্শনীর জন্য থাকছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারাবিহকতায় বঙ্গভঙ্গ, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, দেশ ভাগ ও ৫২ এর ভাষা আন্দোলন’র ইতিহাস। দ্বিতীয় তলাকে সাজানো হয়েছে স্বাধীনতার ইতিহাসের আলোকে। তা ভাষা আন্দোলনকে অনুসরণ করেই করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পনসহ সকল লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। এছাড়া তৃতীয় তলায় রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলন, সংগ্রাম ও অর্জনের কালের সাক্ষী, জাতির পিতার ঘনিষ্ট সহচর জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ’র সংগ্রামী অভিযাত্রার কথা।

স্বাধীনতা জাদুঘর সূত্র জানায়, এ জাদুঘরে এসে দর্শনার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ার সুযোগ পাবে। নিয়মিত মুক্তিযুদ্ধের চলচিত্র প্রদর্শন ও সেমিনারের আয়োজন করার জন্য রয়েছে অডিও ভিজ্যুয়াল সুবিধাসহ একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম। মুক্তিযুদ্ধের একটি আর্কাইভ থাকবে। যার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশের লক্ষে জনগনকে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে এ জাদুঘর। আগামী ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি জাদুঘরটি উদ্বোধনের পরেই সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে স্বাধীনতা জাদুঘর।
এদিকে বাংলাবাজারের স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধনের খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। তারা বলেছেন, এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস বিকৃতি থেকে রক্ষা পাবে। মুক্তিযুদ্ধের পরিপুর্ন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে এ জাদুঘর থেকে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ