বাংলা ফন্ট

‘খালেদা জিয়ার নোটিশ আইনিভাবেই মোকাবেলা’

21-12-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ‘খালেদা জিয়ার নোটিশ আইনিভাবেই মোকাবেলা’
ঢাকা: সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো খালেদা জিয়ার উকিল নোটিশ আইনিভাবেই মোকাবেলা করা হবে, রাজনৈতিকভাবে নয়। এটি আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে বান্দরবানের পুরাতন রাজবাড়ি মাঠে ১৪০তম রাজপুণ্যাহ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
ওবায়দুল কাদের বলেন, চোরের মায়ের বড় গলা। নোটিশ প্রমাণ করতে না পারলে নোটিশ প্রত্যাহার করতে হবে। শুধু শেখ হাসিনা নন, মিথ্যাচারের জন্য খালেদা জিয়াকে গোটা জাতীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
 
মধ্যবর্তী নির্বাচন কী মামার বাড়ির আবদার? এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন মানে মধ্যবর্তী রসিকতা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় পেরিয়ে গেছে।
 
পার্বত্য শান্তি চুক্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। চুক্তির অপরিহার্য অনেক শর্তই পূরণ করা হয়েছে। বাকিগুলোও এ সরকারের মেয়াদে পূরণ করা হবে। আন্দোলন করলে চুক্তির পক্ষের মানুষজনের রক্ত ঝরবে।
 
তিনি বলেন, পাহাড়কে অশান্ত করতে দুর্বৃত্তরা পাঁয়তারা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। পাহাড়ে রক্ত ঝরেছে একসময়। পাহাড়ের কান্না কেউই শুনতে পায়নি। শুধুমাত্র শেখ হাসিনা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। শান্তি চুক্তির ফলে এখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে পাহাড়ে।
 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মো. আবদুর রাজ্জাক, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার (জিওসি) মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদারসহ সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
 
তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় পোশাক পরিধান করে রাজবাড়ী থেকে রাজকীয় বাঁশির সুরে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন বান্দরবান বোমাং সার্কেল চিফ ১৭তম রাজা প্রকৌশলী উচপ্রু চৌধুরী। এ সময় তার সৈন্য-সামন্ত, উজির-নাজির, সিপাহ শালাররা রাজা বাহাদুরকে গার্ড দিয়ে মঞ্চস্থলে নিয়ে যান।
 
বোমাং রাজা সিংহাসনে উপবিষ্ট হলে সারিবদ্ধভাবে বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলার ৯৫টি মৌজা এবং রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী দুটি উপজেলার ১৪টি মৌজাসহ মোট ১০৯টি মৌজার হেডম্যান, ৮ শতাধিকেরও বেশি কারবারি, রোয়াজারা রাজাকে কুর্ণিশ করে জুমের বাৎসরিক খাজনা ও উপঢৌকন রাজার হাতে তুলে দেন।
 
রাজপরিবার সূত্র জানায়, ১৮৭৫ সালে পঞ্চম বোমাং রাজা সাক হ্ন ঞো’র আমল থেকে বংশ পরস্পরায় ধারাবাহিকভাবে প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ উৎসব হয়ে আসছে। এবারও ৩ দিনব্যাপী রাজপুণ্যাহ মেলায় বসেছে নাগর দোলা, সার্কাস, বিচিত্রানুষ্ঠানু, পুতুল নাচ, মৃত্যুকূপসহ ব্যতিক্রমী নানা আয়োজন।
 
রাজপুণ্যাহ উৎসব পরিণত হয়েছে পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায়। শুধুমাত্র বান্দরবান, রাঙামাটি নয়, রাজপুণ্যাহ মেলা দেখতে ভিড় জমিয়েছেন দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ