বাংলা ফন্ট

‘বিএনপির দাবি হওয়া উচিৎ নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের’

30-09-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ‘বিএনপির দাবি হওয়া উচিৎ নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের’
ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। হয়তো, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফশিল ঘোষণা করা হবে। সে দিক দিয়ে হিসেব করলে সময় এক মাসের চাইতে দুই-একদিন বেশি। এ সময় বিএনপি ও তাদের সহযোগীদের নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি অযৌক্তিক। বিএনপি ও তাদের সহযোগীদের দাবি হওয়া উচিৎ নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের, নিরপেক্ষ সরকারের নয়। বিএনপি এবং এর সহযোগীদের নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি অযৌক্তিক।
 
আজ রবিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
 
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি বা এর সহযোগীরা ঐক্য প্রক্রিয়া বা ঐক্য ফ্রন্ট যে দাবিই করুক না কেন, সে অনুযায়ী সরকার গঠন সংবিধান সম্মত হবে না। তারা যে দাবি করছে সেটা করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। তফশিল ঘোষণার আর এক মাস বাকি আছে। এই সময়ে তো সংবিধান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।
 
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো কাজ থাকবে না। তারা শুধু রুটিন মাফিক কাজ করবে। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। সেখানে সরকারের কোনো হাত নেই। তখন সরকারের ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। বিএনপির দরকার হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষই আছে।
 
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ তো অশান্ত নয়। তবে বিএনপি ও তার সহযোগীরা অশান্তির উস্কানি দিচ্ছে। দেশে কী এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে এখন বিশেষ সরকারের প্রয়োজন পড়েছে?
 
অক্টোবরের মাঝামাঝি অথবা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মোট কথা অক্টোবরেই হচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকার।’
 
বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তবে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোর জন্য বিশেষ কোনও পদক্ষেপ নেবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা কি আমার বাড়ির মেজবান যে আমি তাদের দাওয়াত দিয়ে আনবো? নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা তো বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকার। সেটিকে তারা দয়ার দান ভাবছে কেন?’
 
সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাবেশ করার জন্য না কি অনুমতি দেই না। এবার তো অনুমতি দিলাম, জনসভা করুক। লাগলে মঞ্চ তৈরি করে দিবো, মাইক লাগিয়ে দিবো, যত খুশি কথা বলুক। বিএনপির শাসনামলে অনুমতি আমাদেরকেও নিতে হয়েছে। এখন তো অনুমতি দেই দিনে, আমরা অনুমতি পেতাম রাত ১১টার পর।
 
রাজনীতির মাঠ আবার উত্তপ্ত হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাঠ উত্তপ্ত হবে কেন? আমরা তো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেইনি। আমরা দিয়েছি নিরীহ কর্মসূচি। আমাদের কর্মসূচি হছে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ।
 
বিএনপি না এলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন যদি বিশ্ববাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য না হতো তাহলে এদেশে আইপিইউ (ইন্টারন্যাশনাল পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন) এবং সিপিএ’র (কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন) বর্ণাঢ্য কনফারেন্স হলো কী করে। বিশ্বের এত এত স্পিকার, এত এত ডেপুটি স্পিকার দেশে এসেছিল, তারা কি কোনও প্রশ্ন তুলেছিল যে এই দেশের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না কিংবা আমি এখানে কনফারেন্সে অংশ নেবো না। এমন কিছু কি ঘটেছিলো? এমন কিছু কি শুনেছেন? এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীর অভাব হবে না। বাসস।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ