বাংলা ফন্ট

সাত দফা, ১২ লক্ষ্য নিয়ে রাজপথে নামবে বিএনপি

30-09-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 সাত দফা, ১২ লক্ষ্য নিয়ে রাজপথে নামবে বিএনপি

ঢাকা: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রবিবারের জনসভা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে চায় বিএনপি। জনসভায় আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে দলের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা তুলে ধরা হবে। ঘোষণা দেওয়া হতে পারে দলের ৭ দফা দাবি ও ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে কী করা হবে তা নিয়ে ১২টি লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। গত কয়েক দিন ধরে দলের স্থায়ী কমিটি একাধিক বৈঠকে এসব চূড়ান্ত করা হয়েছে। দাবি নিয়ে পুরো অক্টোবর জুড়ে রাজপথে সরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির নেতারা।
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র নেতা ইত্তেফাককে জানান, তাদের দাবির শীর্ষে রাখা হয়েছে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়ার আলটিমেটাম। বিএনপি রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারকে আলোচনা-সংলাপের আহবান জানাবে। তাতে সাড়া না দিলে আন্দোলনে মাঠে নামবে। তাদের সাথে লিয়াজো কমিটির মাধ্যমে যুক্ত হবে সম্প্রতি গঠিত বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়া। তবে আজকের জনসভা এককভাবে করছে বিএনপি। এতে ঐক্য প্রক্রিয়া বা ২০ দলীয় জোটকে আমন্ত্রণ জানান হয়নি।
 
জানা গেছে, বিএনপির লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’ রূপকল্পের আলোকে। এতে দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য, সন্ত্রাসবাদকে মদদ না দেওয়া, ভবিষ্যতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট, জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে গত ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্য মঞ্চের সমাবেশে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ৫ দফা ও ৯ লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।
 
আজকের জনসভা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই জনসভা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ কর্মসূচি-কর্মপন্থা কী হবে তা নিয়ে নেতারা দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে চাই। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিএনপি যে সাত দফা ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেগুলো হলো-
 
১. (ক) বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সাথে (খ) সব বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। (গ) নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা। (ঘ) পুরনো মামলায় কাউকে গ্রেফতার না করা। (ঙ) কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের ন্যায্য আন্দোলন এবং সামাজিক ও গণমাধ্যমে মতপ্রকাশের অভিযোগে গ্রেফতার ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির নিশ্চয়তা আদায়।
 
২. আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে।
 
৩. রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
 
৪. আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।
 
৫. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে তাদের ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করা।
 
৬. সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ নিশ্চিত করা। নির্বাচনের একমাস আগে থেকে নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।
 
৭. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা ও পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর যুগোপযোগী সংশোধন করতে হবে।
 
এই দাবিগুলোর বিষয়ে বিএনপি ক্ষমতাসীন দলকে সংলাপে বসার আহবান জানাতে পারে।
 
এছাড়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে ১২ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : ১. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা। ২. সব প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানে জাতীয় ঐকমত্য গঠন। ৩. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলীয়করণের ধারার বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। ৪. রাষ্ট্রক্ষমতায় গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা। ৫. স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা। ৬. স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী ও কার্যকর করা। ৭. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ৮. দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে সংস্কার ও কার্যকর করা। ৯. সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা। ১০. সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং কারও সঙ্গে বৈরিতা নয় এ মূলনীতিকে অনুসরণ করে জাতীয় মর্যাদা এবং স্বার্থ সংরক্ষণ করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সৎ প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিনিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ১১. কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে মদদ না দেয়া এবং কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়া। ১২. সর্বনিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবন নিশ্চিত করে, আয়ের বৈষম্যের অবসানকল্পে অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ এবং শ্রমজীবী জনগণের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা।
 
প্রসঙ্গত যে, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ৫ দফার সাথে বিএনপির ৭ দফার প্রায় হুবহু মিল লক্ষ্য করা গেছে। কেবল খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি ঐক্য প্রক্রিয়ার ৫ দফায় নেই। যুক্তফ্রন্ট এর নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, তারা আজ ৩০ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ শহরে সমাবেশ করার জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু গতকাল রাত পর্যন্ত পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এছাড়া  ৫ সেপ্টেম্বর সিলেট ও ১৭ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর শহরে সমাবেশ করার কর্মসূচি রয়েছে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ