বাংলা ফন্ট

‘জাতীয় ঐক্যে’র পাঁচ দফা দাবি অসাংবিধানিক: ওবায়দুল

16-09-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ‘জাতীয় ঐক্যে’র পাঁচ দফা দাবি অসাংবিধানিক: ওবায়দুল
ঢাকা: সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং ভোটের সময় বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনসহ ‘জাতীয় ঐক্যে’র পাঁচ দফা দাবি অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রবিবার দুপুরে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) কাউন্সিল হলে সংগঠনটির ৪১তম কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। আইডিইবির সভাপতি এ কে এম হামিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের বিকল্প কি? আমাদের বিকল্প হচ্ছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। যাদের দুঃশাসনে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত অত্যাচার, নির্যাতন করেছে। সেই নির্যাতন অন্ধকারে কি কেউ ফিরে যেতে চান? আমরা মনে করি না আমাদের সবকিছু শুদ্ধ, আমাদের ভুলত্রুটিও আছে কিন্তু ভুল ত্রুটি সংশোধনের সৎসাহস শেখ হাসিনার রয়েছে।

সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার গঠন, বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্টের দাবি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই দাবিগুলো অপ্রাসঙ্গিক, অবান্তর, অপ্রয়োজনীয় ও অসাংবিধানিক। এখন সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার করারতো প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় ঠিক সেভাবেই নির্বাচন হবে আমাদের দেশে। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী, এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই।

তিনি বলেন, এক দেড়মাস বাকি আছে। এখন মামাবাড়ির আবদার করলে তো চলবে না। সংসদের শেষ অধিবেশন অক্টোবর মাসের ২০ তারিখের আগেই শেষ হয়ে যাবে। এরপর আর সংসদ বসবে না নির্বাচন পর্যন্ত। এ সংসদ সদস্যদের কোনো ক্ষমতা ও কার্যকরিতা থাকবে না। কাজেই এটা ভেঙে দেয়া, গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো রেখে এবং অকার্যকর এর মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়, আমি বুঝতে পারি না।

জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন সেনা মোতায়েন হবে না, এটা আমরা বলবো না। প্রয়োজন হলে সেনা মোতায়েন হবে। যদি সময় এবং পরিস্থিতিতে মোতায়েন করা দরকার হয়। সেই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করলে, সরকার প্রয়োজনে এবং বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে কীভাবে মোতায়েন হবে সেই সিদ্ধান্ত নিবে।

কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় এখন নাই, এখানেতো বিএনপিরও প্রতিনিধি রয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই রাষ্ট্রপতি এ নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

যুক্তফ্রন্টের পাঁচ দফা বিএনপির দাবির সঙ্গে মিলে গেছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা মিলে গেল কিনা, তা দেখা আমাদের কোনো বিষয় না। বিএনপি কার সঙ্গে যাবে, কীভাবে যাবে তা আমাদের বিষয় না। আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যুক্তফ্রন্টের নেতারা বলেছেন, বিএনপির প্রধান মিত্র জামায়াতে ইসলামী থাকলে তারা বিএনপির সঙ্গে যাবে না। এখানেতো আমাদের কোনো মন্তব্য নাই। তবে নতুন নতুন জোট হলে স্বাগত, শত ফুল ফুটুক। গণতন্ত্রতো, অসুবিধা নাই। নতুন নতুন জোট হোক নির্বাচন করুক।

বিএনপি মহাসচিবের যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাহস থাকলে জনগণের কাছে নালিশ করুন। বিদেশে গিয়ে নালিশ করে দেশকে কেন খাটো করছেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণ, বাস্তবে দেখা গেল এমন কোনো আমন্ত্রণ নাই। কি রকম তারা প্রতারণা করে, রাজনীতিতে ছদ্মবেশী প্রতারণা পার্টির নাম বিএনপি। বিএনপি এখন বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশ কান্নাকাটি পার্টি হয়ে গেছে।

বিএনপি নির্বাচনে না আসলে যুক্তফ্রন্টই বিএনপির বিকল্প কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা আমরা জানি না। তবে আমরা জানি বিএনপি না এলেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাব নাই, বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ফাঁদ তৈরির কোনো সুযোগ নাই। সবাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই এবার নির্বাচিত হবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা সমাবেশে কারোর জন্য বাধা নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, গতকাল গণভবনে আমাদের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকের এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বলেছেন সভা-সমাবেশ করার ব্যাপারে এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যাতে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে এ কথা পুলিশ কমিশনারকে জানিয়ে দিতে। আজকেই আমি পুলিশ কমিশনারকে জানিয়ে দিয়েছি।

রাস্তাঘাট বন্ধ করে সমাবেশ না করে, পল্টনে রাস্তাবন্ধ করে সমাবেশ, প্রেসক্লাবের সমানে সমাবেশ। এসবের প্রয়োজন নাই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উন্মুক্ত, যারাই অনুমতি চাইবে পুলিশ অনুমতি দিবে। এ ব্যাপারে সরকারের কোন বাধা ছিলো না, পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক সময় অনেকেই অনুমতি দেয় না। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় বলে দিয়েছেন নিবন্ধিত যেসব দল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি চাইবেন কোনো সমস্যা হবে না। সবাই অনুমতি পাবে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল

সর্বশেষ সংবাদ