বাংলা ফন্ট

১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চযোগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা

09-09-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চযোগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা

ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। শনিবার উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ট্রেন যাত্রার মধ্য দিয়ে এ প্রচারণা শুরু হয়। ট্রেন যাত্রায় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। জানা গেছে, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চযোগে নির্বাচনী সফর করবে আওয়ামী লীগ। এরপর সড়ক পথে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ যাবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এভাবে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশব্যাপী প্রচারণা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সারাদেশ সফর করার নির্দেশ দেন। বিনা নোটিসে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সংগঠনের প্রকৃত চিত্র ও জনগণের মাঝে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার নির্দেশনা দেন তিনি। তার এই নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতাদের অধিকাংশই এখন বিভিন্ন জেলা সফর করছেন। আর ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি টিম নির্বাচনী ট্রেনে উঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সকাল ৮টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন যাত্রার উদ্বোধনকালে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এই যাত্রা আমাদের নির্বাচনী যাত্রা। এই যাত্রা আমাদের অব্যাহত থাকবে। দেশব্যাপী দলকে শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতে নৌ ও সড়ক পথেও সফর করা হবে। তৃণমূলের মানুষ যাতে বিএনপি ও জামায়াতের গুজবের রাজনীতির বিষয়ে সচেতন হয় সেজন্য দলের এই সাংগঠনিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ওবায়দুল কাদের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
 
জানা গেছে, নির্বাচনী ট্রেন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে যাত্রাপথে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার অন্তর্ভুক্ত রেল স্টেশনসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্টেশনে ১১টিরও বেশি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সফরের মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলে কিছু বার্তা দিচ্ছেন। সামনের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। প্রস্তুতি সেভাবেই নিতে চায় দলটি। অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে তা নিরসন করতে হবে। দলের বৃহত্তর স্বার্থে নিজেদের মধ্যে কোনো কোন্দল রাখা যাবে না। একই সঙ্গে এই যাত্রা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করবে বলেও কেন্দ্রীয় নেতারা আশাবাদী। সভাগুলোতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট চাওয়ার নৈতিক অধিকার আওয়ামী লীগের আছে। কারণ দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলেছে আাাওয়ামী লীগ। আর বিএনপি এমন কোনো কাজ দেখাতে পারবে না যার জন্য জনগণ দলটিকে ভোট দেবে।
 
সফর উপলক্ষে ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বগি রিজার্ভ করা হয়। এ যাত্রা শেষ হয় নীলফামারী গিয়ে। নির্বাচনী ট্রেন সফরে অন্যান্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি. এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।
 
বিভিন্ন সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে দলে বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে ঘর বানানোর চেষ্টা করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টানানোর চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনে ব্যর্থ। তারা নয় বছরে নয় মিনিটও আন্দোলন করতে পারেনি। তাই তারা ২০১৪ সালের মতো আবারও সন্ত্রাস-নৈরাজ্য করে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে তত্পরতা শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের এই সন্ত্রাস প্রতিরোধ করবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আগামী ডিসেম্বরে বিজয়ের মাসে পরাজিত শক্তিকে আবারও পরাজিত করে বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ।’
 
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘরের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। তাই সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচনী ট্রেন সফর। সরকারের নয় বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনসমক্ষে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে এই সাংগঠনিক সফর। সেই সঙ্গে সারা দেশে অন্তর্কোন্দল কমিয়ে আনা হবে। ৩০ জানুয়ারি সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন জেলার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেন তিনি।
 
বৃহত্তর ঐক্যের জন্য ছাড় দিতে রাজি বিএনপি
 
দাবি না মানলে তফসিলের পর যুগপত্ আন্দোলন
 
আনোয়ার আলদীন
 
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহত্তর ঐক্য গঠনে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে বিএনপি। ক্ষমতা ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে বড় বাধা অপসারণে বিএনপি নমনীয় হলেও জোটগত নাকি যুগপত্ আন্দোলন, কে হবেন জোটপ্রধান, ক্ষমতায় গেলে সরকার প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান কে হবেন—এমন নানা প্রশ্নে এখনো পুরোপুরি একমত হতে পারেননি ঐক্যপ্রক্রিয়ার উদ্যোক্তারা। তাদের নিজেদের মধ্যে এখনো এনিয়ে জটিলতা কাটেনি।
 
এ অবস্থায় ২২ সেপ্টেম্বর মহাসমাবেশের মাধ্যমে ‘জাতীয় ঐক্যে’র নেতাদের এক মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এবং এ দাবির পক্ষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার অংশ হিসেবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই মহাসমাবেশ আহ্বান করেছেন ড. কামাল হোসেন। ইতিমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটি কয়েক দফা বৈঠকে জাতীয় ঐক্যের ১৫ দফা প্রস্তাবনা তৈরি করে ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্তদের কাছে দিয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদনের জন্য তা পাঠানো হয়েছে।
 
এই প্রক্রিয়ায় জড়িত একজন নেতা বলেন, ড. কামাল হোসেন ছাড়া কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের ‘উচ্চাভিলাসী’ মনোভাবে ঐক্যপ্রক্রিয়ার গতি মন্থর হয়ে গেছে। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কে হবেন-এ নিয়ে মতবিরোধের অবসান ঘটেনি। জাতীয় ঐক্যের প্রধান কে হবেন তা নিয়েও বিএনপি, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে।
 
ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্যতম কুশীলব নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমার প্রস্তাব বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের পর ক্ষমতায় আসতে পারলে মালয়েশিয়ার আদলে দুই বছর ক্ষমতা আমাদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। মালয়েশিয়াতে মাহাথির মোহাম্মদ যদি ১১ সদস্য নিয়ে ২ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, আমরা যদি চল্লিশ আসনে জয়লাভ করি, তাহলে দিতে সমস্যা কোথায়? বিএনপি এ প্রস্তাব যদি না মানে, না-ই মানল, তা হলে হবে না। আমরা বলছি, দেশে এখন সংঘাতময় রাজনীতি। এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার সুযোগ আমাদের মাধ্যমে হতে পারে। তাই বিএনপিকে ছাড় দিতে হবে।
 
অপরদিকে ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে দেড় যুগের মিত্র জামায়াতকে ছাড়ার কথা বলেছেন। যুক্তফ্রন্ট চাইছে তিনশ’ আসনের মধ্যে ১৫০ আসন। এসব বক্তব্যে বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়ার প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অধিকাংশ শরিক দলের নেতারা মনোক্ষুণ্ন।
 
বিএনপির উদ্দেশে জোটের শরিক বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল ( অব.) অলি আহমেদ শনিবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, জনসমর্থনহীন, জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে আগালে  কোনো কাজ হবে না। বিএনপিকে আরো কৌশলী হতে হবে। যাদের সমর্থক নাই তাদের নিয়ে ঐক্য করে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করেন।
 
এদিকে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ছাড় দিয়ে হলেও দ্রুত বৃহত্তর ঐক্য গড়তে চায় বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, বৃহত্তর যে ঐক্য সেই ঐক্য কখনই হবে না, যদি না আমরা কিছু না কিছু ত্যাগ স্বীকার করি। ওই সব ছাড় দিয়ে আমাদের আজকে একটা না একটা জায়গায় আসতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। গোটা দেশ এটাই চায়। অন্যান্য যারা আছেন তারাও বুঝেন এটা ছাড়া কোনো মুক্তি নেই। তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, অতি দ্রুত জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে। সমগ্র জাতি এই সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতিকে মুক্ত করবার জন্য, গণতন্ত্রকে মুক্ত করবার জন্য এবং বেগম জিয়াকে মুক্ত করবার জন্য আন্দোলন করবে।
 
মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে দলের নির্বাহী কমিটির সভায় বলেছিলেন যে, আমি হয়ত কারাগারে চলে যাব। কিন্তু আপনারা সমস্ত রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে নিয়ে একটা ঐক্য গড়ে তুলুন। সেই ঐক্যের মধ্যে দিয়ে এই দানবকে পরাজিত করুন। সেই লক্ষ্যে আমরা তার নির্দেশ অনুযায়ী শান্তিময় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা অন্যান্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। প্রক্রিয়া চলছে। আমরা বিশ্বাস করি এটাতে আমরা সফল হব।
 
ফখরুল বলেন, আপনাদের একটা ভুল ধারণা আছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি বুঝি চান না জাতীয় ঐক্যের নেতারা। আসলে খালদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সকলে একমত। ড. কামাল হোসেন ও বি চৌধুরী তো আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেই বলেছেন তার মুক্তি দেয়া হোক।
 
এদিকে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, ‘৯০-এ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের ধারণা থেকে তিন বা এর অধিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সবার লক্ষ্য অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে যুগপত্ আন্দোলন। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ নাগাদ অথবা অক্টোবরের শুরুতে অভিন্ন কর্মসূচিতে এ জোটগুলো আন্দোলন শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারাও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আদর্শগত অমিল এবং দাবির ভিন্নতা থাকায় জোটগুলো যদি শেষ পর্যন্ত এক মঞ্চে নাও আসে, নির্বাচন ইস্যুতে সবাই অভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে পারে। ওই নেতা দাবি করেন যে, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৮ দল, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল এবং ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ, জাসদ সমন্বয়ে পাঁচ দলীয় বাম জোটের মতো এবার যুগপত্ আন্দোলন নিয়ে তারা আগ্রহী।
 
এ প্রসঙ্গে গণফোরামের নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা একসাথে আন্দোলন করতে চাই। এক মঞ্চ হলে ভালো হয়, তা না হলে যে যার অবস্থান থেকে আমরা অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আন্দোলন করতে পারি।
 
বাম গণতান্ত্রিক মোর্চার একজন নেতা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আমরা ইতিমধ্যেই আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছি। এ ইস্যুতে আমরা যুগপত্ আন্দোলন করতে পারি। এ নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে।
 
জানা গেছে, ২২ সেপ্টেম্বর ড.কামাল হোসেন যে মহাসমাবেশ আহবান করেছেন, সেখানে অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আসম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন। কয়েকটি বাম দলের শীর্ষ নেতারাও এতে উপস্থিত থাকতে পারেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান,  অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি যদি সরকার না মানে তাহলে আমরা উপযুক্ত সময়ে রাজপথে নামব। সেটা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে হতে পারে অথবা পরে। তখন যুগপত্ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দাবি পূরণে বাধ্য করা হবে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ