বাংলা ফন্ট

'বিএনপির জাতীয় ঐক্যের ডাক মানে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ'

02-09-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 'বিএনপির জাতীয় ঐক্যের ডাক মানে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ'
ঢাকা: ‘বিএনপির জাতীয় ঐক্যের ডাক সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ, ঐক্যের নামে বিএনপি সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের ডাক দিয়েছে। এই ফাঁদে কেউ পা দেবেন না’ বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রবিবার রাজধানীর পলাশীর মোড়ে ‘শ্রীকৃষ্ণের কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’ পূর্বক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়ের সাঈদ খোকন, ঢাকা-৭ আসনের সাংসদ হাজী সেলিম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আসাদুজ্জামান মিয়া, সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেব নাথ প্রমুখ।

কাদের বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর এই দিনে আমাদের শপথ নিতে হবে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত কারার। আজকের এই উৎসব যেনো আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বজায় থাকে। এ দেশে দু’ধরনের শত্রু রয়েছে, প্রকাশ্যে ও গোপনে। ছদ্মবেশী গোপন শত্রুদের ভয় পাই। এদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।’

শেখ হাসিনার চেয়ে মাইনরিটিদের প্রিয় মানুষ আর কেউ নেই দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারই একমাত্র মাইনরিটি বান্ধব সরকার। আপনাদের একমাত্র আপনজন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে আপনাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, আপনাদের কি মনে নেই? কত হিন্দুদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এবার যদি সেই অপশক্তি ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে তারা ২০০১ সালের থেকেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনে হারার ভয়ে আপনাদের ওপর হামলা করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার চক্রান্ত করবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৯ তারিখ পার্লামেন্টের শেষ অধিবেশন। এই অধিবেশনের পর আর কেনও অধিবেশন হবে না। এ নিয়ে অহেতুক বিতর্কের কিছু নেই।’

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের মনে আছে ২০০১ ও ২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কী ভয়াবহ অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছিল। তারা যদি আবার ক্ষমতায় আসে তাহলে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তাই এই অপশক্তিকে রুখে দিতে শেখ হাসিনার সরকারকে আগামী নির্বাচনে জয়ী করতে হবে। কেননা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারই একমাত্র সংখ্যালঘু-বান্ধব সরকার।

সঠিক সময়ে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয় করছে তারাই বলছে নির্বাচন হবে না। আগামী ৯ তারিখ সংসদের শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। অধিবেশন শেষ হলে এমপিদের আর সংসদীয় ক্ষমতা থাকবে না। ফলে নির্বাচনের মাঠে কোনো ধরনের প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না; ইসির আইন অনুযায়ী চলতে হবে সবাইকে। তাই যারা সংসদ নিয়ে কথা বলছেন তাদের কথা ভিত্তিহীন।

দেশে দুই ধরনের শত্রু আছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, দেশে প্রকাশ্য ও গোপন শত্রুরা এখন তৎপর। তবে প্রকাশ্য শত্রু থেকে গোপন শত্রুরা ভয়ানক বেশি। তারা আগামী নির্বাচনে হেরে যাবার ভয়ে নির্বাচন বানচালের জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তারা চাচ্ছে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট করে দেশে অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি করতে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তিকে আমাদের রুখে দিতে হবে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ