বাংলা ফন্ট

শিক্ষার্থীদের ওপর এখন র‌্যাব-পুলিশের ক্র্যাক-ডাউন চলছে: রিজভী

09-08-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 শিক্ষার্থীদের ওপর এখন র‌্যাব-পুলিশের ক্র্যাক-ডাউন চলছে: রিজভী
ঢাকা: ‘দলীয় পান্ডাদের দিয়ে শিশু-কিশোরদের রক্ত নিঙড়ে নেয়ার পরেও ক্ষান্ত হয়নি সরকার। এখন চলছে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে বর্বর ক্র্যাক-ডাউন চলছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসময় রিজভীর প্রশ্ন করেন, সরকারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রায় সবাই বলেছেন কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি ন্যায় সঙ্গত। তাহলে এখন তাদের ওপর এই সহিংসতা কেন?

রিজভী বলেন, ‘দলীয় পান্ডাদের দিয়ে শিশু-কিশোরদের রক্ত নিঙড়ে নেয়ার পরেও ক্ষান্ত হয়নি সরকার। এখন চলছে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে বর্বর ক্র্যাক-ডাউন। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রাজধানীর ১৮ থানায় ৩৫টি মামলা দেয়া হয়েছে, যে মামলায় অজ্ঞাতনামা হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের জড়িত করা হবে এবং ইতিমধ্যে ৪৫ জনকে আটকের কথা পুলিশ স্বীকার করেছে এবং ২২ জন রিমান্ডে আছে। নিরপরাধ এসব শিক্ষার্থীদের আটক করার পর কোমরে দড়ি বেঁধে রিমান্ডে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন করা হচ্ছে। গতকাল সারাদেশ জুড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হানাদারি অভিযানে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই অভিযান সরাসরি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এক নির্মম আগ্রাসন।’

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী স্কুল-কলেজের পড়ূয়াদের অভিভাবকরা অজানা আতঙ্কে উৎকন্ঠিত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকারের ক্রোধের আগুনে পড়া স্কুল পড়ূয়া সন্তানদের ওপর কি বিভীষিকা নেমে আসবে তা নিয়ে শিহরিত হয়ে উঠেছে অভিভাবকরা। গতকাল বসুন্ধরাসহ ঢাকা মহানগরীতে হাজার হাজার সরকারিবাহিনীর সদস্যরা চিরুনী অভিযান চালিয়েছে। অরাজনৈতিক কিশোর-কিশোরী ছাত্র-ছাত্রীদের এই ন্যায্য আন্দোলনকে দমানোর জন্যই পুলিশ রাতভর সমগ্র বসুন্ধরা এলাকা আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছে।’

সরকার এখন প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, সামাজিক অগ্রগতি ও সভ্যতার শত্র“ বর্তমান একদলীয় আওয়ামী সরকার। এরা মানসীক বৈকল্যগ্রস্থ, ক্ষমতায় থাকার জন্য শিশু-কিশোরদের রক্ত ঝরাতেও দ্বিধা করেনি। শিশু-কিশোরদের জেগে ওঠাতে ভয় পেয়েছে সরকার। শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন প্রচলিত আন্দোলন নয়, এটি ভিন্ন ধারার প্রতিবাদের এক অনন্য স্বতন্ত্র রুপ। সরকার এখন প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মিডিয়া, উন্নয়ন সহযোগী দেশ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রলীগের এই সশস্ত্র হামলাকে সহিংস হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ছাত্রলীগ আন্তর্জাতিকভাবে টেরোরিস্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদের সাহেবরা সেই ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের বাঁচাতেই হাসপাতালে ভর্তি দেখিয়ে তামাশা করছেন। তাদের বাঁচানোর পাঁয়তারা করছেন। কিন্তু এরা রেহাই পাবে না।’

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ