বাংলা ফন্ট

'খুলনায় ভোটারদের জন্য অঘোষিত কারফিউ চলছে'

14-05-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 'খুলনায় ভোটারদের জন্য অঘোষিত কারফিউ চলছে'

ঢাকা:সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, খুলনা সিটিতে বিএনপি নেতা-কর্মী ও ভোটারদের জন্য অঘোষিত কারফিউ চলছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের চলছে ফাঁকা মাঠে উৎসব।

সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন রিজভী।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটাররা ভয়ের মধ্যে দিন কাটালেও নির্বাচন কমিশন কিছুই করছে না অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ইলেকশন কমিশনের যেন পল্লী গীতির সেই শ্লোকের মতো অবস্থা ‘বন্ধু, দেখিয়াও দেখলা না/ বন্ধু, শুনিয়াও শুনলা না’।

রিজভী বলেন, গতকাল (রবিবার) খুলনায় বিএনপির পোলিং এজেন্টদের ট্রেইনিং দেয়ার সময় ১০-১২জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে পুলিশ। শিল্প এলাকায় দা-রাম দা নিয়ে বাড়ি বাড়ি হামলা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি না করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় খুলনাকে এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত করেছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারে সেজন্যই এসব করা হচ্ছে। খুলনায় যা হচ্ছে তা হলো-একনায়কতন্ত্রী শাসনব্যবস্থার প্রত্যক্ষ প্রতিফলন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের কোন ভরসা নেই বলেই আমরা বারবার সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলেছিলাম। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে গ্রীক মূর্তির মতো নিশ্চল ও নিশ্চুপ থেকেছে-যা দুরভিসন্ধিমূলক।

এসময় তিনি খুলনার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য দেশী-বিদেশী বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও গণমাধ্যমের কর্মীদের প্রতি আহবান জানান।

রমজান শুরুর আগেই লাফিয়ে লাফিয়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখন আকাশছোঁয়া। কয়েকদিনের মধ্যেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতারা বৃদ্ধি করেছে। সরকারি দলের সিন্ডিকেটের কারণে জিনিসপত্রের দামের এই কৃত্রিম বৃদ্ধি। পিঁয়াজ, রসুন, চিনি, কাঁচা মরিচ, বেগুন, আলু, হলুদ, আদা, টমেটো, শসাসহ রমজান মাসে মানুষের অতি প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পিঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫/৫০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ৭০/৮০ টাকা কেজির নীচে বাজারে কোন কাঁচা শাকসবজি পাওয়া যাচ্ছে না। ধনে পাতায় হাত দিলে বৈদ্যুতিক শক করে। চিনির মূল্য নিয়ন্ত্রণে না নিতে পারে এখন চিনির কল বন্ধ করে দিতে চাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। জিনিসপত্রের মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রমজানকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অসৎ ব্যবসায়ীদেরই এটি কারসাজি। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা এসব ব্যাপারে নির্বাকার। কারণ মানুষের কষ্ট হলেও মুনাফা করছে ক্ষমতাসীন দলের সিন্ডিকেটের লোকেরা।

রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন সরকারের দুঃশাসনের কবলে পড়ে মানুষ এমনিতে খেয়ে না খেয়ে নিদারুণ কষ্টে জীবনযাপন করছে। সারা বছর ধরেই চালে বাজারের আগুন নিভাতেতো সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বহুগুণ। এমন পরিস্থিতিতে রমজানের আগে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি রমজানের প্রাক্কালে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে এই দাম বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ জানান এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ প্রচার সম্পাদক আাসাদুল করিম, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল




সর্বশেষ সংবাদ