বাংলা ফন্ট

ভেঙে পড়েছে শ্যামনগর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা

03-12-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 ভেঙে পড়েছে শ্যামনগর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা
সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে। আইলা বিধ্বস্ত অবহেলিত এ জনপদের সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
 
শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২০০৮ সালের ১৫ মে ৩০ শয্যা থেকে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। হাসপাতালটি ৩০ শয্যা থাকাকালীন যে সুবিধা ছিল ৫০ শয্যার ক্ষেত্রেও একই সুবিধা। হাসপাতালে প্রতিনিয়ত একশ' রোগী ভর্তি থাকে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সুবিধা থাকলেও লোক বলের অভাবে সেগুলি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের ইসিজি ও এক্সরে মেশিন দু-টি দীর্ঘ দিন যাবত নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় গরীব রোগীদের বিভিন্ন ক্লিনিক সহ জেলা শহরে ছুটতে হয়। সেক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহ নানা বিড়ম্বনার শিকার হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করতে হয় অনেক রোগীকে। পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য সব ধরণের সুবিধা থাকলেও সেগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। লোকবলের অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালটি।
 
শ্যামনগর হাসপাতালে ডাক্তারদের পদের সংখ্যা ৩৩ হলেও ডাক্তার আছে মাত্র সাতজন। পুরুষ ডাক্তার ছয়জন, আর মহিলা ডাক্তার একজন। এর মধ্যে দুইজন আছেন প্রেষণে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিভাগে নির্ধারিত কোন ডাক্তার নেই। আর সেবিকা ২৫ জনের স্থলে আছে ২২ জন। তন্মধ্যে ৩ জন আছেন প্রেষণে। একজন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, আর দুইজন আছেন খুলনা সদর হাসপাতালে। ওয়ার্ড বয় ৩ জনের স্থলে আছেন দুইজন। ল্যাবরেটরি এটেনডেন্ট পদটি বরাবরই প্রেষণে আছে। অপারেশন থিয়েটার বয় প্রেষণে আছে। মালিও পদটি প্রেষণে আছে। সুইপার মাত্র ৫ জন। আয়া ২ জনের স্থলে আছে একজন। শ্যামনগর হাসপাতালে বিভিন্ন শ্রেণিতে শূন্য পদ খালি আছে ৮৬জন। উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ শতাধিক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে।
 
শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিএইচএ ডাক্তার আব্দুল গফুর বলেন, হাসপাতালটি ৩০ শয্যা থাকাকালীন যে সুবিধা ছিল ৫০ শয্যার ক্ষেত্রেও একই সুবিধা। ইসিজি ও এক্সরে মেশিন দুটি দীর্ঘ দিন যাবত নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালে প্রতিনিয়ত একশ' রোগী ভর্তি থাকে। ফলে সুচিকিৎসা থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিদিন ৫ জন ডাক্তার দ্বারা ৩ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া দূরহ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। ৮৬জন শূন্য পদে লোক নিয়োগে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সরকারিভাবে ৩০ শয্যার ন্যায় ঔষধ সরবরাহ করা হয়। অপ্রতুল ঔষধ সরবরাহ নিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীকে সু-চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
 
শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য প.প. কর্মকর্তা টিএইচএ ডা. আব্দুল গফুর জানান, লোকবলের অভাবে সঠিক সেবা দেওয়া কষ্টকর। তারপরও আমরা সীমিত ডাক্তার ও আনুষঙ্গিক জনবল নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সার্বিক বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. তওহিদুর রহমান বলেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে তবে সময় লাগবে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল



সর্বশেষ সংবাদ