বাংলা ফন্ট

কাঁঠালের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না ঝিনাইদহের চাষিরা

12-07-2017
নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  কাঁঠালের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না ঝিনাইদহের চাষিরা


ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ অঞ্চলের মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য উপযোগী। অনেকে আবার বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। কাঁঠাল গাছে তেমন পরিচর্যা করতে হয় না। জেলায় এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট মহেশপুরের খালিশপুরে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে একেবারে পানির দরে। বাজারে এত পরিমাণ কাঁঠাল আসার ফলে ক্রেতার অভাব দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক তাদের কাঁঠালের দাম না পাওয়ায় ছাগল-গরুকে খাওয়াচ্ছেন।

জেলার মহেশপুর উপজেলা খালিশপুর বাজারে সপ্তাহে ২ দিন কাঁঠালের হাট বসে। শুক্রবার ও সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে কাঁঠালের কেনাবেচা। এবার প্রতি হাটে এখান থেকে প্রায় ১০০ ট্রাক কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম একেবারে কম। অন্যবার যেখানে বড় সাইজের একটি কাঁঠাল ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে এবার মাত্র ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মাঝারি সাইজের কাঁঠাল ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫-২০ টাকায়।

শুক্রবার সকালে খালিশপুর কাঁঠালের হাটে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ’ স্যালোইঞ্চিন চালিত নসিমস, ভ্যানে করে কাঁঠাল আনা হয়েছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত বাজারে কোনো ক্রেতা/কাঁঠাল ব্যবসায়ীকে দেখা যায়নি।

স্থানীয় কাঁঠাল ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, জেলার সবচেয়ে বড় কাঁঠালের হাট খালিশপুর বাজার। এখানে কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, জীবননগর, চৌগাছা এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা কাঁঠাল বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। সপ্তাহে ২ দিন এখানে কেনাবেচা হয়। ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এখান থেকে কাঁঠাল কিনে নিয়ে যায়।

কাঁঠাল চাষি বজরাপুর গ্রামের জয়নাল হোসেন জানান, তার প্রায় ২৯টি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। এক একটি গাছে ৫০-৬০টি কাঁঠাল ধরেছে। তার ২৯টি কাঁঠাল গাছে প্রায় ১ হাজার ৫শ’ কাঁঠাল ধরেছে।

তিনি জানান, গত বছর বড় সাইজের কাঁঠাল বিক্রি করেছিলাম ৫০-৬০ টাকায়। আর এবার বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৩০/৩৫ টাকায়। তাও আবার ক্রেতার অভাব।

বেশ কয়েকজন কাঁঠাল ব্যবসায়ী ও কৃষক জানান, যদি এলাকায় কাঁঠাল সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা থাকত, তাহলে সারা বছর এখান থেকে কাঁঠাল সরবরাহ করা যেত।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে কাঁঠালের চাষ করছেন। এ অঞ্চলের স্থলভাগ অপেক্ষাকৃত উঁচু হওয়ায় স্থানীয় কোনো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় না। যার কারণে ঝিনাইদহ জেলার সব উপজেলায়ই প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল উৎপাদন হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে কাঁঠালের বাজারে প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল এসেছে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ