বাংলা ফন্ট

গোলাপ ফুল চাষে লুৎফর রহমানের সফলতা

12-07-2017
নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

  গোলাপ ফুল চাষে লুৎফর রহমানের সফলতা
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন ফুলের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যান্য চাষের তুলনায় অধিক মুনাফা পাওয়া যায় বলে চাষিরা ফুল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। কালীগঞ্জের ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে উপজেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ফুলের চাষ হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে ফুলচাষ হচ্ছে এর মধ্যে অধিকাংশ জমিতে গাদা ফুল, অল্প পরিমান জমিতে রজনীগন্ধা ও গোলাপ ফুলের চাষ হয়।

কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ফুল চাষি লুৎফর রহমান জানান, তার ২ একর জমিতে ফুলের চাষ আছে। এর মধ্যে ২ বিঘা জমিতে গোলাপ ফুলের চাষ। সাধারণত বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে গোলাপের চারা রোপন করতে হয়। গাছে ফুল আসতে প্রায় ৬ মাস সময় লাগে। ফুল আসার পর থেকে ৮ বছর যাবৎ একাধারে ফুল পাওয়া যায়। এ অঞ্চলে আমেরিকার হ্যারী জাতের গোলাপ ফুলের চাষ বেশি হয় বলে তিনি জানান।

এক বিঘা জমিতে প্রায় ৪ হাজার গোলাপের চারা লাগানো যায়। এতে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। দেড় বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করে তিনি বছরে খরচ বাদে ৮০ হাজার টাকা নিট মুনাফা পান। শীত কালে গোলাপের বেশ চাহিদা থাকায় এ সময় ভালো মুনাফা পেলেও বর্ষা মৌসুমে ফুল একেবারেই বিক্রি হয় না। এসময় অনেক ফুল নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফুল ব্যবসার উপর সরকারি কোনো নীতিমালা না থাকায় ভারত থেকে বৈধ ও অবৈধ পথে ফুল আসায় দেশীয় ফুল চাষিরা বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। ভারত থেকে ফুল আসা বন্ধ করা গেলে ফুল চাষ থেকে চাষিরা যথেষ্ট লাভবান হতে পারবেন।

তিনি জানান, সিমলা-রোকনপুর ও ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার পরিবার কোনো না কোনো ভাবে ফুল চাষের সাথে সম্পৃক্ত। মহিলারা ফুল তুলে মালা গাথে, গাঁট বাঁধে। একজন মহিলা দিনে ১৫০ টাকা থেকে ২’শ টাকা আয় করতে পারে।

লুৎফর রহমান মনে করেন, উপযুক্ত পরামর্শ ও ভারত থেকে ফুল আসা বন্ধ হলে চাষি বাঁচবে এবং এর সাথে জড়িত পরিবারগুলো বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সংসারে সচ্ছলতা ধরে রাখতে পারবে।

উপজেলার ফুলচাষিরা বর্ষা মৌসুমে ফুল সংরক্ষণের জন্য সরকারীভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও ও উপজেলা কৃষি অফিসের সহয়তায় ফুলচাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণেরও দাবি জানান।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ